1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

শহরের মধ্যেই অভিযানের রোমাঞ্চ

‘আর্বান এক্সপ্লোরেশন'-এর অর্থ নগর অভিযান, কিন্তু অভিযাত্রীরা ক্যামেরা হাতে নব্য রোম্যান্টিক, যাঁরা খুঁজছেন অবক্ষয়ের নান্দনিক সৌন্দর্য৷ সঙ্গে থাকছে ইতিহাসকে জানা ও চেনার আনন্দ আর খানিকটা বর্তমান-বিমুখিতা৷

বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানা; ভেঙে পড়া কংক্রিটের শেল্টার; ফেলে যাওয়া গ্রাম-গঞ্জ: কিছু মানুষের কাছে ফটো তোলার আদর্শ স্থান৷ এঁরা নিজেদের বলেন ‘আর্বান এক্সপ্লোরার' বা নগর অভিযাত্রী৷

জার্মান আলোকচিত্রশিল্পী ও সাংবাদিক আর্নো স্পেশ্ট বহু বছর ধরে এই সব পরিত্যক্ত জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন৷ সঙ্গে থাকে তাঁর ক্যামেরা৷ আর্নো বলেন, ‘‘বিষাদ, বিষণ্ণতা, মরণবিলাস কিংবা সেই ধরনের টান আমার চিরকালই ছিল৷ বছর খানেক আগে আমার ছেলে যখন ইন্টারনেটে বেলিৎস-এর স্যানাটোরিয়ামের ছবিগুলো খুঁজে পায়, তখন তা দেখে আমি মুগ্ধ হই৷ হঠাৎ দেখি এমন সব জায়গা, বেশ বড় বড় জায়গা, যেগুলো ঠিক আগে যেরকম ছিল, সেভাবে ফেলে রাখা হয়েছে৷ আর সে রকম পরিত্যক্ত অবস্থায় তাদের নিজস্ব সৌন্দর্য সৃষ্টি করেছে৷''

আর্বান এক্সপ্লোরেশন

২০০৭ সাল থেকে আর্নো স্পেশ্ট প্রধানত জার্মানির পূর্বাঞ্চলে ঘুরে বেড়িয়ে ফেলে-আসা বাড়িঘর, কলকারখানা ও তাদের ইতিহাস নিয়ে চর্চা করছেন৷ অবক্ষয়ের নান্দনিক স্পর্শ তাঁকে অভিভূত করেছে৷ ইতিমধ্যে তিনি বার্লিন, লাইপসিশ ও ড্রেসডেন সম্পর্কে তিনটি ছবির বই প্রকাশ করেছেন৷ আর্নো-র বক্তব্য, ‘‘আর্বান এক্সপ্লোরেশন বা নগর অভিযান আমাদের আধুনিক জীবনযাত্রার ঠিক উলটো৷ আমাদের জীবন আজ ক্রমেই আরো বেশি পরিকল্পিত, সংগঠিত, শৈলী সম্বলিত৷

Bildergalerie Lost Places

আর্বান এক্সপ্লোরেশন একটি বিশ্বব্যাপী আন্দোলনে পরিণত হয়েছে

আমি যখন এখানে কোনো জায়গায় ঢুকি, তখন তার কিছুই আগে থেকে সাজানো থাকে না৷ এখানে যেন সব কিছু কাকতালীয়৷ গাছগুলোকে দেখলে মনে হবে, এরা কে জানে কী ভাবে গজিয়েছে, বড় হয়েছে৷ অথবা দেয়াল থেকে পলস্তারা যেভাবে নিজেই খসে খসে পড়ছে, কোথাও ফেঁপে-ফুলে উঠছে, কোথাও খসে পড়ছে৷ এ যেন এক শিল্পকলা, এক নিজস্ব নন্দনতত্ত্ব, যার পিছনে কোনো মানুষ নেই, একটা বাড়িকে বিশ-ত্রিশ বছর ফেলে রাখলে যা জন্ম নেয়৷''

বিগত কয়েক বছরে এ ধরনের অনেক ছবির বই বেরিয়েছে৷ ইন্টারনেটেও ব্যাপারটা ছড়িয়েছে: আর্বান এক্সপ্লোরেশন নিয়ে ব্লগ-এর অভাব নেই৷ ইনস্টাগ্রাম বা ফেসবুকেও ‘নগর অভিযাত্রীদের' কমিউনিটি ক্রমে বেড়েই চলেছে৷

হিড়িকটা নতুন হলেও, হুজুগটা নয়৷ পঁচিশ বছর আগে বার্লিন প্রাচীরের পতনের পর থেকেই নগর অভিযাত্রীদের জন্য ‘পুবের দুয়ার' খুলে যায়৷ সাবেক পূর্ব জার্মানিতে অবক্ষয়ের নান্দনিক সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগও ছিল অসংখ্য৷ আর্নো জানালেন, ‘‘একটি রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থা দূর হবার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের কর্মপদ্ধতি ও কর্মপ্রক্রিয়া, বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থান, শিল্পবাণিজ্যের পূর্ণাঙ্গ শাখা লোপ পায়৷ আকস্মিক উত্তরণের ফলে যেন এক শূন্যতার সৃষ্টি হয়৷''

আর্বান এক্সপ্লোরেশনের সূচনা মার্কিন মুলুকে৷ পঞ্চাশের দশকে ডেট্রয়েটের মতো শহরগুলির যে দুর্দশা হয়, তার ফলে একেকটি এলাকা অবক্ষয়ের সম্মুখীন হয় – অপরদিকে শিল্পী-লেখকরা তাঁদের সৃজনশীলতা ব্যক্ত করার একটি নতুন ক্ষেত্র খুঁজে পান৷ অন্যান্য দেশেও একই প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়৷

আশির দশকে জাপানের পূর্তশিল্পে সংকটের ফলে সে দেশে আর্বান এক্সপ্লোরেশন শুরু হয়৷ অবশ্য জাপানে এই আন্দোলনের নাম ‘হাইকিও'৷

Bildergalerie Lost Places

বিস্মৃত এমন সব স্থান, যেখানে মূক অতীত আবার মুখর হয়ে ওঠে

স্পেশাল টুর

‘নগর অভিযানে' মানুষজনের আগ্রহ এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ‘গো-টু-নো' নামধারী একটি কোম্পানি বার্লিনে স্পেশাল টুরের ব্যবস্থা করেছে৷ টুরিস্টরা গাইডের সঙ্গে গিয়ে বিভিন্ন ফাঁকা ও পোড়ো বাড়ির ছবি তুলতে পারেন৷ অর্থাৎ বিনা ঝুঁকিতে আর্বান এক্সপ্লোরেশন৷ যেমন ভ্যুন্শডর্ফের সেনা-ছাউনিটি বার্লিন থেকে গাড়িতে প্রায় দেড় ঘণ্টা দূরে৷ ঠান্ডা লড়াই-এর আমলে এখানে প্রায় ৬০ হাজার সোভিয়েত সৈন্যের বাস ছিল৷ ১৯৯৪ সালে তারা বিদায় হয়৷ তখন থেকে জায়গাটা ফাঁকা পড়ে রয়েছে৷

আর্নাস ডিমান গত পাঁচ বছর ধরে গো-টু-নো কোম্পানির টুর গাইড৷ তিনি বলেন, ‘‘আমাদের কাছে যত লোক খোঁজখবর করেন, সে তুলনায় আমরা যথেষ্ট টুরের ব্যবস্থা করতে পারি না৷ খুব বেশি মানুষকে এ ধরনের জায়গায় নিয়ে যাওয়া যায় না, তাহলে সেগুলির ক্ষতি হবে৷ কাজেই আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে জায়গাগুলোতে যাই৷ অন্যভাবে বলতে গেলে: আমরা যদি প্রতিবার পাঁচ'শ লোক সঙ্গে নিয়ে দু'টো টুর দিই, তাহলে জায়গাটার বারোটা বেজে যাবে, সেখানে আর কোনো টুর দেওয়া যাবে না৷ সেই কারণে আমরা ছোট ছোট গ্রুপ নিয়ে অনেক বেশি টুর দেওয়ার চেষ্টা করি৷''

আর্বান এক্সপ্লোরেশন একটি বিশ্বব্যাপী আন্দোলনে পরিণত হয়েছে৷ এই আন্দোলন যে আরো বেশ কিছুদিন ধরে চলবে, তাও নিশ্চিত করে বলা যায়৷ বিস্মৃত এমন সব স্থান, যেখানে মূক অতীত আবার মুখর হয়ে ওঠে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়