1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ইসলামবিরোধী ‘পেগিডা’ আন্দোলন চমকে দিয়েছে জার্মানিকে

আন্দোলনের সূচনা পূর্বের স্যাক্সনি রাজ্যের রাজধানী ড্রেসডেন শহরে৷ সোমবার সেখানে ১৭ হাজারের বেশি মানুষ প্রখ্যাত সেম্পার অপেরা ভবনের সামনে বড়দিনের গান গেয়ে প্রতিবাদ জানান৷ তবে ইস্যুটা এখন সারা জার্মানির৷

জার্মান আদ্যক্ষরগুলি মিলে ‘পেগিডা', যার অর্থ দাঁড়ায়: প্রতীচ্যের ইসলামিকরণের বিরুদ্ধে দেশপ্রেমী ইউরোপীয়বর্গ৷ ইংরেজিতে ‘পেট্রিয়টিক ইউরোপিয়ানস এগেনস্ট দ্য ইসলামাইজেশন অফ অক্সিডেন্ট'৷ সোমবারই তাদের বিক্ষোভে সর্বাধিক মানুষ যোগদান করেন৷ এই পেগিডা আন্দোলনে সামিল কারা, তা ঠিক করে বলা সহজ নয়৷ বিশ্বব্যাপী ইসলামি জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের পরে জার্মানির একাধিক শহরে সালাফি মতাদর্শীদের কার্যকলাপ থেকে শুরু করে জার্মানিতে ক্রমবর্ধমান শরণার্থীদের সংখ্যা; সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে সাধারণ নাগরিকদের সরকার ও প্রশাসন সংক্রান্ত নানা অভিযোগ-অনুযোগ৷ এই সব অস্পষ্ট, আকারবিহীন ভীতি-আশঙ্কা-আকাঙ্খা ও হতাশা মিলে যে আন্দোলন দানা বেঁধেছে, তা একদিকে খ্রিষ্টান ইউরোপ এবং অন্যদিকে বহিরাগত ইসলামকে খাড়া করে এক মানসিক দ্বন্দ্বযুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাইছে৷

কিন্তু দ্বন্দ্ব যদি কোথাও প্রকট হয়ে থাকে, তবে তা দৃশ্যত জার্মান জনমানসেই: সোমবার ড্রেসডেন শহরেও চার হাজার মানুষ পাল্টা প্রতিবাদে অংশগ্রহণ করেছেন৷ বন, কাসেল কিংবা ভুরৎসবুর্গ-এর মতো শহরে পেগিডার পক্ষে দু'শো মানুষ পথে নামলে, তার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ পেগিডার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন: গোটা জার্মানিতে মোট ২০ হাজার, তাদের মধ্যে ১২ হাজার শুধুমাত্র মিউনিখে৷ মিউনিখ শহরে পেগিডা-বিরোধীদের শালুতে লেখা ছিল: ‘‘জায়গা দাও – উদ্বাস্তুরা স্বাগত''৷

Anti-Pegida-Kundgebung in Dresden

পেগিডা-বিরোধীদের একটি ‘প্যাকাড’

বাভারিয়া যেমন একদিকে জার্মানির সর্বাপেক্ষা রক্ষণশীল প্রদেশগুলির মধ্যে গণ্য, অপরদিকে তা জার্মানির সমৃদ্ধতম রাজ্যগুলির মধ্যে পড়ে৷ মিউনিখ সম্ভবত জার্মানির সবচেয়ে সমৃদ্ধশালী শহর৷ কাজেই এখানকার মানুষ দৃশ্যত ক'জন শরণার্থী এসে তাদের সমৃদ্ধিতে ভাগ বসাল, তা নিয়ে চিন্তিত হবার কারণ দেখেন না৷ কাজেই মিউনিখের মেয়র ডিটার রাইটার জনতাকে বলেছেন: ‘‘আমাদের এখানে সব বর্ণ, জাতি এবং ভাষার মানুষের স্থান আছে; সব ধর্ম ও ধর্মবিশ্বাসীদের জন্য স্থান আছে: যাঁরা শুক্রবার মসজিদে যান, যাঁরা শনিবার সিনাগগে যান এবং যাঁরা রবিবার গির্জায় যান – অথবা যাঁরা বাড়িতে থাকতেই ভালোবাসেন৷''

নেতাদের মাথাব্যথা

জার্মানির রাজনৈতিক তথা ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ পেগিডা পথ আন্দোলনের তাৎপর্য তথা সম্ভাবনা সম্পর্কে উদ্বিগ্ন না হলেও, কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত বৈকি৷ জার্মানির প্রটেস্টান্ট গির্জার প্রধান হাইনরিশ বেডফোর্ড-স্ট্রোম স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, ‘‘উদ্বাস্তুদের প্রতি যাতে ভালো আচরণ করা হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য খ্রিষ্টানদের সব কিছু করা উচিত৷'' স্যাক্সনি রাজ্যের প্রটেস্টান্ট বিশপ ইয়োখেন বোল বলেছেন, পেগিডা সমর্থকরা ক্রিসমাস ক্যারল গেয়ে ‘‘একটি খ্রিষ্টীয় প্রতীক ও একটি খ্রিষ্টীয় প্রথার'' অপব্যবহার করেছেন৷

ফেডারাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টোমাস দেমেজিয়ের পেগিডা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের অশুভ হিসেবে গণ্য করার বিপক্ষে৷ অপরদিকে সাবেক চ্যান্সেলর গেয়ারহার্ড শ্র্যোডার, যিনি এককালে স্যাক্সনির মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তিনি চান যে, সব সাধারণ, ভদ্র-সভ্য নাগরিক পেগিডা ব়্যালিগুলির বিরুদ্ধে উঠে দাঁড়ান৷ পূর্ব জার্মানির টুরিঙ্গিয়া রাজ্যের সদ্যনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী, বামদলের বোডো রামেলো কিন্তু বলেছেন, ‘‘দামি জামা-কাপড় পরা নাৎসিদের প্রতি আমাদের কিছু বলার নেই''৷

অপ্রিয় জনপ্রিয়তা?

ইউগভ সংস্থার সর্বাধুনিক জরিপ অনুযায়ী জার্মানির এক-তৃতীয়াংশ মানুষ পেগিডার প্রতি সহানুভূতিশীল৷ ওদিকে আগামী বছর জার্মানিতে আশ্রয়প্রার্থী শরণার্থীদের সংখ্যা বেড়ে দু'লক্ষে দাঁড়াবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে – যদিও এর সঙ্গে ‘‘ইসলামিকরণের'' কোনো সম্পর্ক নেই, কেননা বর্তমানে জার্মানিতে যে সব উদ্বাস্তুরা আসছেন, তাঁদের অধিকাংশই সিরিয়া থেকে আসা খ্রিষ্টান৷

বলতে কি, পেগিডার প্রতিবাদ সাধারণভাবে উদ্বাস্তুদের আগমন নিয়েই: ‘‘জার্মানি অভিবাসনের দেশ নয়,'' এই সোমবারেও এ কথা বলেছেন পেগিডা নেতা লুট্স বাখমান৷ হয়ত আসল সত্য হলো এই যে, জার্মানি যে আজ রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের কাছে ইউরোপের সেরা দেশ, এবং অভিবাসীদের কাছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরেই সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্য – সেই অযাচিত সম্মানে সাধারণ জার্মানরা হয়ত কিছুটা সচকিত এবং বিড়ম্বিত৷

এসি/ডিজি (ডিপিএ, রয়টার্স, এএফপি, এপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন