1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

আওয়ামী লীগের ‘ফেরা' নিয়ে সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজের স্ট্যাটাস

২০ মে ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ কার্যত বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরে এসেছে বলে মনে করেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম৷

https://p.dw.com/p/5E1qz
প্রতীকী ছবি
প্রথম ফেসবুক স্ট্যাটাসের শুরুতেই মাহফুজ আলম৷ লিখেছেন, ‘‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন ২৪–কে ৭১–এর বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছিল স্বাধীনতার বিরুদ্ধের শক্তি৷ লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন থেকে ডানপন্থিদের উত্থানের জন্য অন্তরীণ (অন্তর্বর্তীকালীন)  সরকারের লোকজন কাজ করা শুরু করেছে, লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে৷ যেদিন আইনের শাসনের বদলে মবের শাসনে আনন্দ পেয়েছিল গত ১৭ বছরের মজলুমগণ৷''ছবি: DW/M. Mostafigur Rahman

এক ফেসবুক পোস্টে এই অভিমত দিয়েছেন তিনি৷ পরে আরেক পোস্টে এই পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কেও নিজের মত জানিয়েছেন মাহফুজ৷

গতকাল মঙ্গলবার প্রথম পোস্টে মাহফুজ আলম লিখেছেন, ‘‘লীগ রাজনৈতিক দলের আগে একটা ধর্মতত্ত্ব, সে ধর্মতত্ত্বে ইমান আবার ফেরত এসেছে৷ কীভাবে ফিরলো, সে গল্পই বলবো আজ৷''

যেসব কারণে না ফিরেও ‘ফিরেছে’ আওয়ামী লীগ

এরপরে আওয়ামী লীগ কীভাবে ফিরেছে, তার বিরাট একটি তালিকা তুলে ধরেছেন জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা মাহফুজ আলম৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন ২৪–কে ৭১–এর বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছিল স্বাধীনতার বিরুদ্ধের শক্তি৷ লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন থেকে ডানপন্থিদের উত্থানের জন্য অন্তরীণ (অন্তর্বর্তীকালীন)  সরকারের লোকজন কাজ করা শুরু করেছে, লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে৷ যেদিন আইনের শাসনের বদলে মবের শাসনে আনন্দ পেয়েছিল গত ১৭ বছরের মজলুমগণ৷''

এ ছাড়া মাজারে হামলা, হিন্দুদের ওপর নিপীড়নের বিরুদ্ধে সরব না হওয়াও আওয়ামী লীগের ফেরার পথ সুগম করেছে বলে মনে করেন মাহফুজ আলম৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন থেকে উগ্রবাদীরা মাজারে হামলা করেছে, মসজিদ থেকে ভিন্নমতাবলম্বীদের বের করে দিয়েছে৷ লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন হিন্দুদের উপর নিপীড়ন নিয়ে মজলুমগণ চুপ ছিল৷''

এছাড়া ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তিদের মধ্যে ডানপন্থার উত্থানের আশঙ্কা এবং উগ্রবাদীদের নিরাপদ জায়গা করে দেওয়াটা আওয়ামী লীগের ‘ফেরায়' ভুমিকা রেখেছে বলে মনে করেন মাহফুজ আলম৷ তার ভাষায়, ‘‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন সেকুলার মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানুষজন এ দেশে সরকার প্রযোজিত ডানপন্থার উত্থানে ভয় পেয়েছিল৷ লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন মবস্টারদের এ দেশে হিরো বানানো হয়েছিল৷ উগ্রবাদীর সেফ স্পেইস দেয়া হইসিল৷''

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সঙ্গে মাহফুজ আলম (ফাইল ফটো)
আওয়ামী লীগের ‘ফেরায়’ অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেরও ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন ওই সরকারের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করা মাহফুজ আলম৷ছবি: CA Press Wing

এসব ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেরও ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন ওই সরকারের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করা মাহফুজ আলম৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন ব্যবস্থা বিলোপের বদলে ন্যূনতম সংস্কার ও ঐকমত্য কমিশন নাম দিয়ে জনগণকে বিচ্ছিন্ন এবং হতাশ করা হলো৷ লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন থেকে বিএনপি ও অন্তরীণ সরকারের বিরুদ্ধে গেল আর বিএনপি ও ঠেকাতে জামাতকে কোলে নিলো অন্তরীণ ৷''

মাহফুজ আলম আরো লিখেছেন, ‘‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন ছাত্ররা বিপ্লবী সংগঠনে রূপ না নিয়ে লুম্পেন চরিত্রের ক্লাব আর মবে রূপ নিয়েছিল৷ লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন মিডিয়া আর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের উপর হামলা প্রযোজিত হলো৷ লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন অন্তরীণ সরকার পলিটিক্যাল থেকে আমলাতান্ত্রিক হলো এবং আমলানির্ভর কিচেন ক্যাবিনেট থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া শুরু হলো৷ যে কিচেন ক্যাবিনেটের অধিকাংশ লোকই ছিল জামায়াত-বিএনপি বা লীগের ছুপা দালাল৷ যাদের কাছে জুলাই মানে ছিল নিজেদের পরিবার, প্রজন্ম আর প্রতিষ্ঠানের স্বার্থরক্ষা৷''

পোশাক কারখানায় আগুন, মৃত্যুর মিছিল থামবে কিভাবে?

আওয়ামী লীগের ‘ফেরায়' সহায়ক হয়েছে – এমন বিষয়ের তালিকা করতে গিয়ে মাহফুজ আলম লিখেছেন, ‘‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে গণতন্ত্রের বদলে সংঘতন্ত্র জয়ী হলো৷ লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন নতুন মিডিয়া অনুমোদনে বাধা দেওয়ার জন্য একজোট হইসিল কিচেন ক্যাবিনেট৷ লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন জুলাই ঘোষণাপত্র কিংবা সনদের প্রক্রিয়া তুলে দেয়া হইসিল আমলাতন্ত্র আর ভেস্টেড ইন্টারেস্ট গ্রুপের হাতে৷ লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন বাম-শাহবাগী পিটাইলে আনন্দ পেয়েছিল মজলুমগণ৷''

মাহফুজ আরো আলম লিখেছেন, ‘‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন এদেশে কাওয়ালি/ইনকিলাবি কালচারের মতন রিগ্রেসিভ কালচার–ব্যবস্থা দিয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদ মোকাবেলার মহারম্ভ হয়েছিল৷ লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন নির্বাচনি বাঁটোয়ারার মাধ্যমে সংস্কার ও বিচারকে কম্প্রোমাইজ করা হলো অ্যান্ড বিএনপি-জামাতের বার্গেইনিং টুল বানানো হলো৷ লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন কমিশন, ট্রাইব্যুনাল, বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদিকে একটি আদর্শের লোকদের মাধ্যমে ক্ষমতারোহণের বার্গেইনিং টুলে পরিণত করা হলো৷ লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন কালচারালি-ইন্টেলেকচুয়ালি যারা জুলাইয়ে আমাদের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল, তাদের বাদ দিয়ে জিরো কন্ট্রিবিউশন গুপ্তদের ক্ষমতায়িত করা হলো৷''

প্রথম পোস্টের শেষাংশে মাহফুজ আলম জানান, এই তালিকা আরো দীর্ঘ হবে৷

দীপু চন্দ্র দাস হত্যায় বিচার চান স্থানীয়রা

দু' ঘণ্টা পর ফেসবুকে আরেকটি পোস্ট দেন মাহফুজ৷

সেখানে ‘আমাদের এখনকার কাজ হলো' বলে আরেকটি তালিকা প্রকাশ করেন তিনি৷

সেই তালিকায় রয়েছে :

  • সকল নিপীড়নের বিরুদ্ধে, নিপীড়িতের পক্ষে থাকা৷ দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে বাংলাদেশের সকল নাগরিকের মানবাধিকারের পক্ষে থাকা৷
  • হঠকারী, উগ্রবাদী এবং অন্তর্ঘাতমূলক রাজনীতিকে পরাস্ত করা৷ সংখ্যালঘু ও মাজারপন্থিদের উপর হামলার বিচার করার দাবি অব্যাহত রাখা৷
  • জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিকে প্রধান করে তোলা এবং বিচারের ক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে থাকা৷
  • প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করতে বর্তমান সরকারকে বাধ্য করা৷ 
  •  বাংলার বহু ভাষা-সংস্কৃতিকে যাপন-উদযাপন করা এবং ‘রিগ্রেসিভ-ডিফিটিস্ট কালচারাল লড়াই'কে জায়গা না দেয়া৷  
  • কালচারালি-ইন্টেলেকচুয়ালি যারা বিভিন্ন বর্গ থেকে জুলাইয়ের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন, তাদেরকে ‘ঔন' করা৷ লীগের ফ্যাসিস্টদের লক্ষ্যবস্তু এরাই৷
  • যে যার জায়গা থেকে সক্ষম, যতবেশি সম্ভব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন গড়ে তোলা৷
  • জুলাইয়ের পক্ষের সকল শক্তির মধ্যে ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের একটা কমন স্পেইস/ল্যাঙ্গুয়েজ তৈরি করা৷ অন্তর্ঘাতের ইতিহাস মাথায় রাখা৷
  • লীগের ধর্মতত্ত্ব ও বয়ানকে নর্মালাইজ করার বিরুদ্ধে জুলাই ও গত ১৬ বছরের গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের বয়ানকে কেন্দ্রীয় করে তোলা৷
  • যারা গত দেড় বছরকে ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদের চাইতে দুঃসহ/ খারাপ  করে দেখাতে চেষ্টা করার মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট হাসিনার অপকর্ম ভুলিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে, সেসব ‘লীগের ফ্যাসিস্টদের' প্রতিহত করা৷  
  • অর্থনৈতিক সংস্কার ও পুনর্গঠনের মাধ্যমে দেশের কৃষক-শ্রমিক, নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের জীবন-জীবিকার সংকট দূরীকরণে সরকারকে বাধ্য করা৷
  • আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনমনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া৷
  • স্বাস্থ্যব্যবস্থার বিশৃঙ্খলা এবং সমন্বয়হীনতা এড়াতে দোষারোপের রাজনীতি বাদ দিয়ে সকল নাগরিকের জন্য সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা চালুর পক্ষে লড়াই অব্যাহত রাখা৷
  • জুলাইকে একটি মতাদর্শের ব্যানারে কুক্ষিগত ও বিভাজিত করার সকল প্রকল্পকে পরাস্ত করা৷

এসিবি/ জেডএইচ (প্রথম আলো)