1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা

১২ মে ২০২৬

চীনে তেল সরবরাহ করায় ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র৷ ডনাল্ড ট্রাম্প ‘যুদ্ধবিরতি এখন লাইফ সাপোর্টে' বলায় নতুন করে সংঘাত শুরুর শঙ্কা বাড়ছে৷

https://p.dw.com/p/5DctZ
মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ (ফাইল ফটো)
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যে-কোনো আগ্রাসনকারীকে ‘উচিত শিক্ষা' দিতে তার দেশের সামরিক বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত৷ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক বার্তায় কালিবাফ বলেন, ‘‘যে-কোনো আগ্রাসনের সমুচিত জবাব দিতে এবং আগ্রাসনকারীদের উচিত শিক্ষা দিতে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত৷''ছবি: Iranian Parliament Speaker Office/Handout/Anadolu Agency/IMAGO

সোমবার ইরানের তিনজন ব্যক্তি এবং নয়টি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগ৷ নয়টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চারটি হংকংভিত্তিক, চারটি সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক এবং বাকি একটি ওমানভিত্তিক৷ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-র পক্ষে চীনে ইরানি তেল বিক্রি ও সরবরাহে সহায়তা করেছে৷

ডনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর বৈঠকের মাত্র কয়েক দিন আগে ইরানের প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার এ ঘোষণা এলো৷

এদিকে ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধবিরতি এখন ‘লাইফ সাপোর্টে'৷ যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাবের জবাবে তেহরানের পাঠানো সর্বশেষ বার্তাটিকে ‘পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য' আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ইরানের সাথে যুদ্ধবিরতি এখন লাইফ সাপোর্টে, অর্থাৎ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে৷ যুদ্ধবিরতির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘ওরা আমাদের যে ‘এক টুকরো আবর্জনা' পাঠিয়েছে, তা পড়ার পর আমি বলবো—যুদ্ধবিরতি এখন সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে৷ আমি তো ওটা পড়া শেষই করতে পারিনি৷'' যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, ‘‘যুদ্ধবিরতি এখন এমন এক চরম লাইফ সাপোর্টে রয়েছে, যেখানে ডাক্তার এসে বলেন, স্যার, আপনার প্রিয়জনের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা এখন মাত্র এক শতাংশের মতো৷''

এর আগে রোববার নিজেদের প্রস্তাবে লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে যুদ্ধ অবসানের আহ্বান জানায় ইরান৷ সেইসঙ্গে যুদ্ধের সব ক্ষয়-ক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতির দাবিও জোরালোভাবে তুলে ধরে তারা৷ প্রস্তাবে আরো বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নৌ-অবরোধ তুলে নিতে হবে, ভবিষ্যতে আর কোনো হামলা হবে না - এমন নিশ্চয়তা দিতে হবে, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে ইরানের তেল বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাও তুলে নিতে হবে৷

ডনাল্ড ট্রাম্প (ফাইল ফটো)
ডনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘ওরা আমাদের যে ‘এক টুকরো আবর্জনা' পাঠিয়েছে, তা পড়ার পর আমি বলবো—যুদ্ধবিরতি এখন সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে৷ আমি তো ওটা পড়া শেষই করতে পারিনি৷'' যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, ‘‘যুদ্ধবিরতি এখন এমন এক চরম লাইফ সাপোর্টে রয়েছে, যেখানে ডাক্তার এসে বলেন, স্যার, আপনার প্রিয়জনের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা এখন মাত্র এক শতাংশের মতো৷''ছবি: Jen Golbeck/SOPA Images/ZUMA/picture alliance

তেহরানের শান্তি প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করে ট্রাম্প ‘যুদ্ধবিরতি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে' বলায় ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যে-কোনো আগ্রাসনকারীকে ‘উচিত শিক্ষা' দিতে তার দেশের সামরিক বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত৷ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক বার্তায় কালিবাফ বলেন, ‘‘যে-কোনো আগ্রাসনের সমুচিত জবাব দিতে এবং আগ্রাসনকারীদের উচিত শিক্ষা দিতে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত৷''

‘‘ত্রুটিপূর্ণ কৌশল এবং ভুল সিদ্ধান্ত সব সময় নেতিবাচক পরিণতিই ডেকে আনে৷ বিশ্ববাসী ইতিমধ্যে এ সত্য অনুধাবন করতে পেরেছে-'' এমন মন্তব্য করার কয়েক ঘণ্টা পর অপর আরেক পোস্টে গালিবাফ বলেন, ইরানের ১৪ দফা শান্তি প্রস্তাব মেনে নেওয়া ছাড়া ওয়াশিংটনের সামনে আর ‘‘কোনো বিকল্প নেই''৷ ইরানের সংসদের স্পিকার মনে করেন, ‘‘তারা (যুক্তরাষ্ট্র) বিষয়টি নিয়ে গড়িমসি করতে যত বেশি সময় নেবে, তার মাশুল তত বেশি গুনতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের৷''

এসিবি/ জেডএইচ (এপি, এএফপি, রয়টার্স, ডিপিএ)