বিজেপির নতুন মুখ নাড্ডা | বিশ্ব | DW | 20.01.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

বিজেপির নতুন মুখ নাড্ডা

এতদিন তিনি ছিলেন কার্যকরি সভাপতি, অমিত শাহ সভাপতি৷  এবার জে পি নাড্ডা অনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপির সভাপতি নির্বাচিত হলেন৷ 

গত এক বছরে পাঁচটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে হয় হার হয়েছে অথবা ক্ষমতা হাতছাড়া হয়ে গিয়েছে বিজেপির৷  সিএএ নিয়ে দেশজুড়ে ছাত্রছাত্রীদের ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে৷ দিল্লি বিধানসভায় কঠিন লড়াইও চলছে৷ এই আবহে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপির সভপতি হলেন জগত প্রকশ নাড্ডা। যিনি জে পি নাড্ডা বলেই বেশি পরিচিত৷  প্রায় ছয় বছর সভাপতি থাকার পর আপাতত বিদায় নিলেন অমিত শাহ৷ সাধারণত, বিজেপিতে 'এক ব্যক্তি এক পদ' নীতি অনুসরণ করা হয়৷  কিন্তু বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন থাকায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার পরেও অমিত শাহ সভাপতির দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন৷  নাড্ডা ছিলেন কার্যকরি সভাপতি৷ তাঁকে হাতে কলমে কাজ শেখাচ্ছিলেন অমিত শাহ৷ পূর্ব পরিকল্পনামতোই দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন অমিত শাহ৷  এ দিন শুধুমাত্র নাড্ডার মনোনয়নপত্রই জমা পড়েছে৷ ফলে কোনওরকম প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই নাড্ডা বিজেপি সভাপতি হয়েছেন৷

তবে দলের পক্ষে একটা কঠিন সময়ে নাড্ডা সভাপতি হলেন৷ সামনেই দিল্লি বিধানসভার নির্বাচন৷  প্রাক নির্বাচনী সমীক্ষা বলছে, দিল্লিতে কেজরিওয়াল এগিয়ে৷ দিল্লিতে যদি শেষ পর্যন্ত কেজরিওয়াল জিতে যান, তা হলে নাড্ডাকে হার দিয়েই শুরু করতে হবে৷  দিল্লির ভোটপর্ব শেষ হওয়ার পর এই বছর আর একটি রাজ্যেই বিধানসভা নির্বাচন হবে-- বিহার৷  নীতীশ কুমারের রাজ্যে ভোট নভেম্বরের মধ্যে করতে হবে৷ নীতীশের সঙ্গে জোট বহাল থাকলে বিহারে বিজেপি ভালো করতে পারে, কিন্তু লড়াই হবে৷ ২০২১ এ অসম, পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, পুডুচেড়িতে ভোট হওয়ার কথা৷  প্রতিটি রাজ্যেই কড়া মোকাবিলার মধ্যে পড়তে হবে বিজেপিকে৷  কেরল ও পুডুচেড়িতে বিজেপির উপস্থিতি সামান্য৷  প্রবল লড়াই হতে পারে অসম ও পশ্চিমবঙ্গে৷ ফলে নাড্ডার কাছে আগামী দিন খুব মসৃন নাও হতে পারে৷ লোকসভা নির্বাচনকে বাদ দিলে অমিত শাহের কাছেও গত একবছর নিঃসন্দেহে কঠিন ছিল৷ তৃণমূলের সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, বিজেপির রাজনৈতিক রেখচিত্র এখন নিচের দিকে৷ এই অবস্থায় নাড্ডার কাজটা কঠিন৷ গত প্রায় ন-বছর ধরে তাঁকে রাজ্যসভায় দেখেছি৷ তিনি বলা যেতে পারে দলের নরমপন্থী মুখ৷ কিন্তু পিছনের আসল চেহারা তো মোদী-শাহ৷

প্রশ্ন হল, নাড্ডা বিজেপি সভাপতিহলেও দলের রাশ কি মোদী-শাহের হাতেই থাকবে?  তাঁরা যেভাবে আগে চালাতেন, সেভাবেই কি চালাবেন, কেবল সামনে থাকবেন নরমপন্থী নাড্ডা? এমনিতে ধারেভারে অমিত শাহের ধারেকাছে নাড্ডা আসতে পারবেন না৷  তিনি হিমাচলের মতো ছোট রাজ্যের নেতা৷ সেরকম দাপুটে নেতাও নন৷  এমনিতে নাড্ডা খুবই ভদ্র ও কেন্দ্রে এবং রাজ্যে মন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও সেরকম সর্বভারতীয় ভাবমূর্তি নেই৷ অবশ্য বিজেপি সভাপতি হওয়ার সুবাদে অদূর ভবিষ্যতে তা পেয়ে যাবেন তিনি৷  কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সাধারণ সম্পাদক  সায়ন্তন বসু ডয়েচে ভেলেকে বলেছেন, ''মোদী-শাহ দলকে যে জায়গায় নিয়ে গিয়েছেন, সংগঠনকে য়ে রূপ দিয়েছেন, তাতে চাপ নিয়েই কাজ শুরু করতে হবে নাড্ডাকে। তবে আমি মনে করি, তিনি সেই পরীক্ষায় ভালোভাবেই উত্তীর্ণ হবেন৷''

সুখেন্দু শেখর বলছেন, ''নাড্ডা আসলে কাঠের পুতুল৷ তাঁকে যেভাবে চালানো হবে, তিনি সেভাবেই চলবেন৷ সে জন্যই তাঁকে গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে৷ দল আসলে চলবে মোদী-শাহের অঙ্গুলিহেলনেই৷ তাঁর দায়িত্ব হবে মোদী-শাহ ফর্মুলাকে রূপায়ণ করা৷''

বিজেপির একটা মজবুত পরিকাঠামো আছে৷ মোদী-শাহর কাজের একটা ধারা আছে৷ তাঁরা অনেক আগে থেকে পরিকল্পনা ছকে রাখেন৷ এ সবের পরেও বেশ কয়েকটি রাজ্যে সম্প্রতি বিজেপিকে হারতে হয়েছে বা জোটসঙ্গী জোগাড় করে কোনওমতে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পেরেছে তারা৷ ফলে নরমপন্থী নাড্ডার কাছে সামনের চ্যালেঞ্জ সত্যিই রীতিমতো বড়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন