1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

শিশুরাই ধর্ষণের শিকার হচ্ছে বেশি

পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশে যারা ধর্ষণের শিকার হচ্ছে, তাদের অধিকাংশই মেয়ে শিশু৷ এছাড়া শিশু ধর্ষণ এবং শিশুর প্রতি সহিংসতার নেপথ্যে রয়েছে আইনি দুর্বলতা ও দীর্ঘসূত্রিতা৷ শিশুরা দুর্বল হওয়ায় সহজ শিকারে পরিণত হচ্ছে৷

Bildergalerie blinde Studenten in Bangladesch

(ফাইল ফটো)

১৬ বছর আগের কথা৷ বাংলাদেশের মানিকগঞ্জে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে নিম্ন

আদালত আসামি শুক্কুরের মৃত্যুদণ্ড দিলেও, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তার রিভিউ রায়ে সাজা কমিয়েছে৷ ধর্ষণের সময় আসামি শুক্কুরের বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর৷ তাই সোমবার তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট৷ উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ১২ই জুলাই মানিকগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল শুক্কুরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল৷

এ প্রসঙ্গে মানবাধিকার নেত্রী অ্যাডভোকেট এলিনা খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এই মামলাটিই প্রমাণ করে যে একটি ধর্ষণের মামলার চূড়ান্ত রায় পেতে ১৮ থেকে ২০ বছর লেগে যায়৷ আর এই দীর্ঘসূত্রিতা ধর্ষণের মামলায় বাদিকে হতাশ করে দেয়৷ অনেকেই মাঝপথে মামলা পরিচালনা থেকে সরে দাঁড়ান৷''

Bildergalerie blinde Studenten in Bangladesch

অধিকার-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৪ সালে ধর্ষণের শিকার হয়েছে মোট ৩০৮ জন শিশু

মানবাধিকার সংগঠন অধিকার-এর হিউম্যান রাইটস মনিটরিং রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০০৮ সালে ৪৫৪ জন ধর্ষণের শিকার হয় বাংলাদেশে৷ এদের মধ্যে ২৫২ জন শিশু৷ ২০০৯ সালে ধর্ষণের শিকার ৪৫৬ জনের মধ্যে ছিল ২৪৩ জন শিশু৷ এরপর ২০১২ সালে ধর্ষণের শিকার নারীর সংখ্যা ছিল ২৯৯ জন ও শিশু ৪৭৩ জন৷ ২০১৩ সালে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৫৭৩ জন, যার মধ্যে ছিল ৩৮৫ জন শিশু৷ আর ২০১৪ সালে ধর্ষণের শিকার হয়েছে মোট ৫৫৬ জন৷ এর মধ্যে শিশুর সংখ্যা ৩০৮৷

এই পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এলিনা খান বলেন, ‘‘শিশু ধর্ষণ এবং শিশুর প্রতি যৌন সহিংসতা ক্রমেই বাড়ছে৷ দেশে আইন থাকলেও তার প্রয়োগ নেই৷ শিশু ধর্ষণের ঘটনায় অনেক সময় তো থানায় অভিযোগই করা হয় না৷''

ধর্ষণের ঘটনায় ‘ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার' থেকে যেসব মামলায় সহযোগিতা করা হয়েছে, সেই সব মামলার হিসাব থেকে জানা যায়, ‘‘গত ১০ বছরে ঢাকায় ধর্ষণসহ নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ৩,৯৮০টি৷ মামলা হয়েছে ১,৫৫৬টি, অথচ শাস্তি হয়েছে মাত্র ৪০টি ঘটনায়৷''

বাংলাদেশে শিশু ধর্ষণের মামলায় ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বছরের পর বছর মামলা ঝুলতে থাকে৷ মানবাধিকার কর্মী এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিচালক নূর খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘মামলা ঝুলে থাকার কারণেই অভিযোগ প্রমাণ করাও কঠিন হয়ে পড়ে৷ আলামত নষ্ট হয়ে যায়৷ এছাড়া দীর্ঘদিন মামলা চালিয়ে নেয়ার আর্থিক সক্ষমতা থাকে না অনেক পরিবারের৷''

গত শনিবার ঢাকার মিরপুর এবং রায়েরবাগে একই দিনে দু'টি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়৷ চলতি বছরে এ পর্যন্ত শুধু ঢাকায় অন্তত ৩০টি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে পুলিশের সূত্র জানিয়েছে৷ তবে নূর খান বলেন, ‘‘শিশুর প্রতি যৌন সহিংসতার প্রকৃত ঘটনা আরো বেশি৷ কারণ অনেক ঘটনাই স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয়৷ আবার কেউ কেউ শিশুর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে থানায় অভিযোগ করেন না৷''

ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের আইনজীবী ফাহমিদা খাতুন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘দেখা গেছে, সাধারণভাবে ১০ বছরের নীচে শিশুরা ধর্ষণের শিকার হলে বাবা-মা টাকার বিনিময়ে মীমাংসা করে ফেলেন৷ এখানেই শেষ নয়, ১০ বছরের ওপরে মেয়েদের সঙ্গে ধর্ষকের বিয়ের ঘটনাও ঘটে অহরহ৷''

‘‘শিশুরা সবচেয়ে দুর্বল আর তারা প্রধানত তাদের পরিচিত আত্মীয়স্বজনের হাতেই যৌন সহিংসতার শিকার হয়'', জানান অ্যাডভোকেট এলিনা খান৷ তিনি বলেন, ‘‘আইনের সঠিক প্রয়োগের পাশাপাশি শিশু ধর্ষণ প্রতিরোধে দরকার ব্যাপক সচেতনতা৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়