1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

নির্ভয়া কাণ্ডের পুনরাবৃত্তি শেষ হবে কবে?

২০১২ সালে নির্ভয়া কাণ্ডের পর দেশজুড়ে শুরু হয়েছিল সামাজিক আন্দোলন৷ ধর্ষণ বিরোধী আইন সংশোধনের জন্য বসানো হয়েছিল কমিশন৷ রিপোর্টে আইন সংশোধনের সুপারিশও করা হয়েছিল৷

এরপর যমুনা দিয়ে অনেক জল বয়ে গেছে, কিন্তু...

ধর্ষণ বা গণধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে বই কমেনি ভারতে৷ এর সাম্প্রতিকতম উদাহরণ পাওয়া গেছে শুক্রবার রাতে, উত্তর প্রদেশে৷ রাজ্যের বুলন্দশহরের ৯১ নং জাতীয় সড়কে মা এবং মেয়ে – দু'জনকেই গাড়ি থেকে নামিয়ে পাশের জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করেছে জনা পাঁচেক লোক৷ অথচ অপরাধীকে যোগ্য শাস্তির দেয়ার আগেই সংসদের ভেতরে ও বাইরে সেই ৩৫ বছরের মা এবং তাঁর ১৪ বছরে মেয়ের গণধর্ষণ কাণ্ড নিয়ে শুরু হয়ে গেছে রাজনৈতিক কাদা ছোঁড়াছুড়ি৷ হবে না? আগামী বছর যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে উত্তর প্রদেশে!

রাজ্যের শাসকদলের বিতর্কিত নেতা আজম কান এই ঘটনাকে বলেছেন রাজনৈতিক চক্রান্ত৷ অন্যদিকে বিজেপি বলছে, এই ঘটনার জন্য শাসকদল সমাজবাদী পার্টিই দায়ী৷ তাই মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবের ইস্তফা দেওয়া উচিত৷ কিন্তু প্রশ্ন হলো, এটাই কি সব সমস্যার সমাধান?

আসলে সমস্যার শুরুটাও এখান থেকেই৷ না হলে ভারতে ধর্ষণের ঘটনা এক বিস্ফোরক স্তরে এসে পৌঁছাত না৷ দু'বছরের শিশু থেকে ৭০ বছরের বৃদ্ধা – প্রতিদিন বিধ্বস্ত হতে হতো না অসংখ্য নারী, কিশোরী এমনকি দুগ্ধপোষ্য কন্যাকে৷ এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, প্রতি পাচ মিনিটে ভারতের কোথাও না কোথাও যৌন হেনস্থার ঘটনা ঘটছে৷

স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, কেন হচ্ছে? এর জন্য দায়ী কে? এরই উত্তরে বিশিষ্ট নারীবাদী বুদ্ধিজীবী শাশ্বতী ঘোষ ডয়চে ভেলেকে যা বললেন, তার প্রথম কথা, মেয়েদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের ঘটনাকে পুলিশ তেমন আমল দেয় না৷ তাঁদের মতে, ধর্ষণ মিয়ে নিশ্চয় কোনো গণ্ডগোল হয়েছে, তাই পুরুষটিকে ফাঁসাতে মেয়েটি এইসব অভিযোগ আনছে৷ এর সত্যতা যাচাই করতে নির্ভয়া কাণ্ডের পর তেহেলকা সংবাদ সংস্থা ৩০টি থানায় স্টিং অপারেশন চালিয়ে দেখেছে যে, ধর্ষণের ঘটনাকে পুলিশ প্রশাসন তেমন গুরুত্ব দেয় না৷ এর একটা অংশ আইন শৃঙ্খলা হলেও অন্য অংশটা হলো বিচার প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে তুলতে আইন প্রণেতাদের অনীহা৷

প্রশ্ন হলো, দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি কি যৌন হেনস্থার অন্যতম প্রতিষেধক হতে পারে? উত্তরে শাশ্বতী ঘোষ বললেন, ‘‘না, ধর্ষণের শাস্তি কঠোর করার আইনই একমাত্র প্রতিষেধক হতে পারে না৷ নির্ভয়া কাণ্ডে বিচারপতি বার্মা কমিশন ধর্ষণের শাস্তি কঠোর করার সুপারিশ করেছিলেন৷ তাতে কি ধর্ষণের ঘটনা কমেছে? নির্ভয়া কাণ্ডের অপরাধীদের আজও ফাঁসি হয়নি৷

একজন নাবালক বলে বলে তিন বছর পর ছাড়া পেয়ে গেছে৷ আসলে দরকার সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন৷ দরকার একটা ভ্যালু সিস্টেম বা সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার৷ দরকার যৌন হেনস্থার বিহিত করতে একটা স্ট্যান্ডার্ড প্রোসিডিওর, যেটা রুল বুক অনুযায়ী সর্বক্ষেত্রে কার্যকর হবে৷ আর যেটা দরকার সেটা হলো জাস্টিস ডেলিভারি সিস্টেমটাকে সর্বস্তরে সমানভাবে সক্রিয় রাখা৷ তাহলেই একটা সময়সীমার মধ্যে ধর্ষণ মামলার নিষ্পত্তি সম্ভব৷ অন্যরা অবশ্য ধর্ষণের শাস্তি কঠোর করার স্বপক্ষে রায় দিয়েছেন৷ যদিও দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনার অভিঘাত অনেক সময় পড়ে বিচার ব্যবস্থার ওপর৷ আইন প্রণয়ন যাঁরা করেন, তাঁরা অনেক সময় রাজনৈতিক লাভ লোকসান দেখে হাত গুটিয়ে থাকেন৷

মোদ্দা কথা হলো, সমাজ ও প্রশাসনকে আরও সচেতন ও সংবেদনশীল হতে হবে৷ ধর্ষিতার পাশে দাঁড়াতে হবে তাঁর চরিত্রের দিকে আঙুল না তুলে৷ বিচার প্রক্রিয়াকে দ্রুত শেষ করতে হবে৷ আর তার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে তত্পর হতে হবে৷ এছাড়া নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে যা কিছু করণীয়, তা করতে দায়বদ্ধ থাকতে হবে৷ এই যেমন ধর্ষিতাকে সাহায্য, পরিষেবা বং নিরাপত্তা দেবার জন্য থাকা দরকার বিশেষ সেলের ব্যবস্থা৷ বুলন্দশহরের গণধর্ষিতা মা মেয়ে এবং তাঁদের পরিবার পুলিশের হয়রানিতে ক্লান্ত হোয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, অপরাধীদের দ্রুত এবং চরম শাস্তি দেওয়া না হলে মা-মেয়ে দু'জনেই আত্মহত্যা করবে৷

বলা বাহুল্য, বিচার প্রলম্বিত হলে আইনের ফাঁক ফোঁকর দিয়ে অপরাধীরা গলে বেরিয়ে যায়৷ আর শাস্তি হলে, তা হয় লঘু৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন