1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ধর্ষণ বন্ধে দরকার আইন ও সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন

ভারতে ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানির ঘটনা বেড়েই চলেছে৷ মেয়েদের নিরাপত্তাহীনতা ‘নগ্ন' করে তুলছে দেশের ভাবমূর্তিকে৷ একদিকে ‘দুর্বল' আইন অন্যদিকে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ধর্ষিতা নারীর মানসিক অবস্থাকে আরও ভেঙ্গে দিচ্ছে৷

সম্প্রতি ভারতে ২১ বছর বয়সি এক কলেজ ছাত্রীকে দ্বিতীয়বারের মতো ধর্ষণ করেছে পুরোনো অপরাধীরা৷ তিন বছর আগে তাদের দ্বারাই গণ ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন এক দলিত নারী৷ অথচ এই তিন বছরে ঐ পাঁচ অপরাধীর কেউ নিজেদের শোধরানোর চেষ্টা করেনি, একটু অনুশোচনাও হয়নি তাদের৷ বরং জামিন পাওয়ার পর থেকে সুযোগের অপেক্ষায় ছিল তারা৷

আর তিন বছর পর সেই পাঁচ জনই আবার ‘বদলা' নিয়েছে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে৷ মেয়েটির ‘অপরাধ' সে আদালতে সেই উচ্চবর্ণের পুরুষদের বিচার দাবি করেছিল৷ প্রথমে তারা মেয়েটিকে কলেজের সামনে থেকে গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে মামলা তুলে নেয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে৷ রাজি না হওয়ায় আবারও গণধর্ষণ৷

এ কেবল একটি ঘটনা মাত্র৷ ভারতে প্রতি ২২ মিনিটে ঘটছে ধর্ষণ বা যৌন হয়রানির ঘটনা৷ রাজধানী দিল্লিসহ অন্যান্য শহরেও এমন ঘটনা ঘটেই চলেছে৷

ভারতের ধর্ষণবিরোধী আইনে স্পষ্ট নির্দেশনা নেই, তাই বিচারকদের নিজস্ব বিচারবোধের ওপর নির্ভর করতে হয়৷ তাই অনেক ক্ষেত্রে মেয়েদের ‘ন্যায়বিচার' থেকে বঞ্চিতও হতে হয়৷ অর্থাৎ বিচারক যদি মনে করেন ধর্ষকের অপরাধ ততটা গুরুতর নয়, যতটা ধর্ষিতা বলছে, সেক্ষেত্রে অপরাধীর লঘু শাস্তি হয়৷ কিংবা ধর্ষিতা কুমারী না বিবাহিতা, মহিলার চরিত্র ত্রুটিমুক্ত কিনা এসবও বিচার্য হয়৷ তাই অপরাধী অনেক সময় বেকসুর খালাসও পেয়ে যায়৷

দ্বিতীয়ত, ভারতের আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘ ও জটিল৷ বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত না হলে সাক্ষ্য-প্রমাণ দুর্বল হয়ে পড়ে৷ দিল্লিতে নির্ভয়া গণধর্ষণকাণ্ডের পর এই সংক্রান্ত আইন কঠোর করতে ভার্মা কমিশনের সুপারিশ মেনে তা সংশোধন করা হয়৷ এখন দোষী সাব্যস্ত হলে আসামির হয় যাবজ্জীবন জেল বা বিরল ঘটনার ক্ষেত্রে ফাঁসিও হতে পারে৷

এছাড়া পুরুষতান্ত্রিক সমাজের বিকৃত মানসিকতার পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনের উদাসীনতা আর দেশের বিচার ব্যবস্থার ত্রুটি তো রয়েছেই৷ ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের ঘটনার অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ প্রথমে চেষ্টা করে, অভিযোগ না নিয়ে লোকলজ্জার ভয় দেখিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে টাকা-পয়সা দিয়ে ব্যাপারটা মিটিয়ে ফেলতে৷ অথবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে দিয়েও ‘ফয়সালা' করা হয়৷

অন্যদিকে, ভারতীয় সমাজব্যবস্থার প্রেক্ষিতে বৈবাহিক ধর্ষণকে ‘অপরাধ' বলা যায় না, কারণ, তাহলে বিবাহ নামক সম্পর্কটাই নাকি নষ্ট হয়ে যাবে৷ চলতি বছরেই ভারতের কেন্দ্রীয় মহিলা ও শিশু কল্যাণমন্ত্রী মানেকা গান্ধী সংসদে এ কথা বলেছিলেন৷ বৈবাহিক ধর্ষণকে দণ্ডনীয় অপরাধ বলে আদালতে প্রমাণ করাও সহজ নয়৷ এ সম্পর্কে ভারতীয় বিচারব্যবস্থায় সুনির্দিষ্ট আইনি সংস্থানও নেই৷ দৈহিক নির্যাতনের ক্ষতচিহ্ন দেখিয়ে তা প্রমাণ করা গেলেও, স্ত্রীর সম্মতি ছিল কিনা সেটা আদালতে প্রমাণ করা বেশ কঠিন৷

আর কোনো মেয়ে আদালতে বিচারের জন্য গেলে মেয়েটিকে নানাভাবে প্রমাণ করতে হয় সে কীভাবে ধর্ষণের স্বীকার হয়েছে৷ এভাবে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে প্রতিবার ধর্ষণের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায় মেয়েটি৷ অন্যদিকে, সমাজ মেয়েটিকেই দোষী বলে মনে করে৷ বাবা- মা কে শুনতে হয় মেয়েটির পোশাক, আচার-আচরণ বা কোন একটি কারণে সে ধর্ষণের শিকার হয়েছে৷ উদাহরণ দেয়া হয় অন্য মেয়েদের, বলা হয় ‘তারাতো ধর্ষণের শিকার হয়নি'৷

পুরুষতান্ত্রিক এ সমাজে মেয়েদের খুন করা হলেও তার চরিত্র নিয়ে টানা-হ্যাঁচড়া চলে৷ আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, বাংলাদেশের সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির কথা৷ নিশ্চয়ই মনে আছে পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতু হত্যার কথা৷ অথবা কলেজ ছাত্রী তনু হত্যার কথা৷

রুনি, মিতু বা তনুকে কে হত্যা করেছে সেটা তদন্তের চেয়ে মূখ্য হয়ে উঠেছিল কাদের সাথে তাদের সম্পর্ক ছিল, তাদের চরিত্রের ময়নাতদন্ত করে ছেড়েছে গণমাধ্যম৷ অর্থাৎ গণমাধ্যমও যে এই সমাজের ছায়া তা বলতেই হয়৷ তাই শক্তিশালী আইনের যেমন কোনো বিকল্প নেই, তেমনি বিকল্প নেই এই সমাজ পরিবর্তনেরও৷

আর এমনটা না হলে ভারত-বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার নারীরা যৌন নিগ্রহের শিকার হতেই থাকবে৷ অপরাধীরা বিনা বিচারে মুক্ত বিহঙ্গের মতো ঘুরে বেড়াবে৷ অন্যদিকে প্রতিটি নারীর উচিত নিজেকে ছোটবেলা থেকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলা৷ কোনো পুরুষের বাজে স্পর্শে সংকুচিত না হয়ে প্রতিবাদ করা৷ সেইসাথে সামাজিক গণমাধ্যমে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি প্রতিরোধও গড়তে শেখা৷ সমাজে পরিবর্তন তখনই আসবে, যখন পরিবারের ছেলেটি বা পুরুষটি নারীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে৷ তাই ছোট থেকেই সন্তানকে সেইভাবে গড়ে তোলা উচিত, যাতে একজন নারীকে অসম্মান করার আগেই তার বিবেক জেগে ওঠে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়