সেন্ট মার্টিন নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত চালু থাকছে
২৪ এপ্রিল ২০২৬
তিনি বলেন, সরেজমিনে বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা করে দেখা গেছে ৯ মাস পর্যটন বন্ধ রাখার কারণে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের অবস্থার উন্নয়ন ঘটেছে৷
ডয়চে ভেলের প্রশ্নের জবাবে লিখিত উত্তর দিয়েছেন পরিবেশমন্ত্রী৷ তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রায় সাত বছর ধরে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শের ধারাবাহিকতায় সরকার ২০২৪ সালে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের পর্যটন নিয়ন্ত্রণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল৷ এর আওতায় প্রতিদিন অনধিক দুই হাজার পর্যটককে নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের অনুমতি দেয়া হয়৷ আর এই তিন মাসে পর্যটনের ফলে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য যে ক্ষতির সম্মুখীন হয় তা পুনরুদ্ধারের জন্য ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ৯ মাস দ্বীপে পর্যটন বন্ধ রাখা হয়৷ ‘‘এই সময়ে দ্বীপ প্রাকৃতিকভাবে তার পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার করার সুযোগ পায়,'' বলে জানান পরিবেশমন্ত্রী৷
এতে উপকার পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি৷ ‘‘সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ভ্রমণের এই ব্যবস্থা চালু হওয়ার ফলে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের অবস্থার উন্নয়ন ঘটেছে৷ এ বিষয়ে সরেজমিনে বিজ্ঞানভিত্তিক স্টাডিও হয়েছে,'' বলেন পরিবেশমন্ত্রী৷
তাই এই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন৷ মন্ত্রী বলেন, তিন মাসের অধিক সময় পর্যটন চালু থাকলে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে৷ ‘‘সুতরাং উন্মুক্ত সাগরের বুকে বাংলাদেশের একমাত্র কোরাল বা প্রবাল সংশ্লিষ্ট স্থান, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ও আমাদের গর্বের সেন্ট মার্টিন দ্বীপের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পর্যটন নিয়ন্ত্রণের এই ব্যবস্থা আমাদের চালু রাখতে হবে,'' বলে জানান পরিবেশমন্ত্রী৷
উল্লেখ্য, সেন্ট মার্টিন দ্বীপে সরকারি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছেন অনেকে৷ তারা বলছেন, দ্বীপের অধিকাংশ মানুষের আয়ের প্রধান উৎস পর্যটনশিল্প৷ কিন্তু ভ্রমণ সীমিত থাকায় স্থানীয় অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে এবং অনেক পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে৷