1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

পাঁচ বাংলাদেশিকে ঘরে ফেরালেন অধীর

গৌতম হোড় নতুন দিল্লি
১৯ মে ২০২০

লকডাউন, তাই ভেলোরে আটকে ছিলেন দুই মাস। তারপরেও বাংলাদেশের বাড়িতে ফেরা হতো না, যদি না সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন অধীর চৌধুরী।

https://p.dw.com/p/3cRvR
ছবি: DW/S. Kumar

অসুস্থ বন্ধুর চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ থেকে ভেলোর এসেছিলেন মহম্মদ আইনাল শেখ। সেই সঙ্গে নিজেরও চেক আপ করিয়ে নেওয়া। যেহেতু বন্ধুকে রক্ত দেওয়ার দরকার ছিলো, তাই তিনজন সঙ্গে আসেন। ডাক্তার দেখিয়ে ফিরে যাওয়ার সময় যখন হলো, তখন ভারতজুড়ে লকডাউন। ফলে ভেলোরেই আটকে পড়েছিলেন তিনি ও তাঁর সঙ্গীরা। দুই মাস ধরে হোটেলে। পয়সা ফুরিয়ে এসেছে। শুধু ট্রেনের টিকিটের টাকা রেখে দিয়েছিলেন। দিনের পর দিন সরকার বা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার দেওয়া খাবার খেয়েছেন। বাংলাদেশে ফেরার জন্য ব্যাকুল। কিন্তু ফেরার উপায় নেই। বিশেষ ট্রেন এলেও জায়গা নেই। চিন্তায় চিন্তায় অসুস্থ হয়ে পড়ছিলেন।

এরকম আশাহীন অবস্থায় ত্রাতা হয়ে দেখা দিলেন লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা ও বহরমপুরের সাংসদ অধীর চৌধুরী। আইনাল শুনেছিলেন অধীর অনেককে সাহায্য করেন। ইন্টারনেটে অধীরের কাছে বার্তা পৌঁছনোর জন্য একটা হেল্পলাইন নম্বর পেয়েছিলেন। সেখানেই ফোন করেন। অধীরের কাছে বার্তা পৌঁছলো। ফেরার ব্যবস্থা হয়ে গেলো। ট্রেনের টিকিট জোগাড় করে দিয়েছেন অধীরই। কলকাতা পৌঁছে গিয়েছেন আইনাল শেখ সহ পাঁচজন। তারপর মহম্মদ আইনাল শেখের গলায় শুধু কৃতজ্ঞতা। ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ''অধীর ভগবানের মতো কাজ করেছেন। আমাদের এতটা সাহায্য করেছেন যে কী বলব।'' আর অধীরের কাছে বার্তা পাঠিয়ে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, ''আপনাকে কোটি কোটি শুভেচ্ছা ও প্রণাম। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত এই সাহায্যের কথা ভুলব না। সকলকে সালাম।'

বিয়ের পোশাকেই গরিবের পাশে নবদম্পতি

আইনাল শেখের বাড়ি বনগাঁ থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে। ফলে কলকাতা এসে গেলে বাড়ি ফিরতে খুব অসুবিধা হবে না। তবে আরও একবার অন্তত তিনি আসতে চান। বহরমপুর গিয়ে অধীর চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করার জন্য। অধীর যখন রেল প্রতিমন্ত্রী, তখন একবার বাংলাদেশ গিয়েছিলেন, কোনও প্রতিনিধদলের সঙ্গে। একবার দূর থেকে তখন তাঁকে দেখেছিলেন। এ বার তাঁর ত্রাতাকে সাক্ষাতে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাতে চান আইনাল। 

অধীর অবশ্য এই কাজটা লকডাউনের প্রথম দিন থেকে করছেন। তিনিই সম্ভবত সেই রাজনীতিক, যিনি সব চেয়ে বেশি দুর্গত লোককে সাহায্য করেছেন। কাউকে বাড়ি পৌঁছবার ব্যবস্থা করেছেন। কারও কাছে খাবার পৌঁছে দিয়েছেন। ট্রেনের টিকিটের ব্যবস্থা করেছেন, বাসের ব্যবস্থা করেছেন। কোটা থেকে মুর্শিদাবাদের ছাত্রদের বাড়ি পৌঁছনোর ব্যবস্থা করেছেন। প্রায় প্রতিদিন তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে বার্তা পাঠান উপকৃত পাওয়া মানুষেরা। একসময় তাঁকে বলা হতো বহরমপুরের রবিনহুড। বহুদিন পর সেই পুরনো ফর্মে ব্যাট করছেন অধীর। এই ঘোর দুর্দিনে মানুষের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছেন। মহম্মদ আইনাল শেখের মতো অনেক মানুষের সালাম, কৃতজ্ঞতা, আশীর্বাদ ঝড়ে পড়ছে তাঁর ওপর।