1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

লকডাউন আরও ১৪ দিন, ঈদ বাড়িতেই

১৮ মে ২০২০

ভারতে লকডাউন বাড়ানো হলো ৩১ মে পর্যন্ত। তবে কড়াকড়ি আরও কিছুটা কমলো। রাজ্যগুলিকে কিছুটা স্বাধীনতা দেওয়া হলো।

https://p.dw.com/p/3cNGw
ছবি: picture-alliance/AP Photo/M. Kumar

দেশজুড়ে লকডাউনের মেয়াদ বাড়লো এবং ৩১ মে পর্যন্ত রাজনৈতিক, ধর্মীয়, সামাজিক সহ সব ধরনের সভা, সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলো। ফলে ঈদের দিনেও বাইরে নামাজ পড়া যাবে না বা সমাবেশও করা যাবে না। তবে ঈদের বাজার সম্ভবত করা সম্ভব হবে। কারণ, দোকানপাট কতটা খুলবে তা রাজ্য সরকারের ওপর ছেড়ে দিয়েছে মোদী সরকার। শুধু বলা হয়েছে, যেখানে করোনার প্রকোপ বেশি অর্থাৎ লাল এলাকাগুলিতে দোকানপাট খোলা যাবে না। দিল্লি সরকারও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে দোকান খোলার পক্ষে। তাছা়ড়া বিমান চলবে না। মেট্রো চলাচল বন্ধ থাকবে। শ্রমিক স্পেশাল ও বিশেষ ট্রেন ছাড়া অন্য কোনও যাত্রীবাহী ট্রেনও চলবে না। সন্ধ্যা সাতটা থেকে সকাল সাতটা পর্যন্ত দেশের সর্বত্র কার্ফু থাকবে। পুলিশকে বলা হয়েছে, তারা যেন এই কার্ফু কড়া ভাবে পালন করে।

ইতিমধ্যে দিল্লির জামে মসজিদের শাহী ইমাম ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, তিনি সকলের কাছে আবেদন জানাচ্ছেন, তাঁরা যেন ঈদ বাড়িতেই পালন করেন। বাইরে যাওয়ার বা মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ার দরকার নেই। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সিদ্ধান্তের পর সেটা সম্ভবও নয়। ধর্মীয় স্থান ও সমাবেশ আগের মতোই বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি করে বলা হয়েছে, সব ধরনের ধর্মীয় জমায়েতের ওপর কঠোর ভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে। করোনা-পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ঈদ বাড়িতে পরিবারের সঙ্গেই মানাতে হবে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তাদের বিবৃতিতে বলেছে, স্কুল, কলেজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কোচিং সংস্থা বন্ধ থাকবে। তাছাড়াও বন্ধ থাকবে হোটেল, রেস্তোরাঁ, সিনেমা হল, শপিং মল, জিম, সুইমিং পুল, থিয়েটার, বার, অডিটোরিয়াম, প্রেক্ষাগৃহের মতো বড় জায়গা। তবে হোটেলগুলি হোম ডেলিভারি করতে পারবে। স্পোর্টস কমপ্লেক্স ও স্টেডিয়াম খোলা যেতে পারে। তবে কোনও দর্শক থাকবে না। ফলে দর্শকশূন্য মাঠে আইপিএল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলো।

তবে আন্তঃ রাজ্য বাস চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। গাড়িও চলতে পারে। তবে বাসে কতজন যাত্রী থাকবে এবং অন্য কী নিয়ম তাদের মানতে হবে, তা রাজ্য সরকার ঠিক করবে। রাজ্যের ভিতরে লাল, কমলা ও সবুজ এলাকা কোনগুলি হবে, সেটাও রাজ্য সরকার ঠিক করতে পারবে। আগে এটা কেন্দ্র ঠিক করতো। যা নিয়ে প্রচুর অভিযোগ ছিলো। তবে বলা হয়েছে, লাল এলাকায় লোক ঢুকতে বা বেরতে পারবেন না। সরকার সেখানে লোকেদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস সরবরাহ করবে। ৬৫ বছরের বেশি লোকেদের বাড়িতে থাকতে বলা হয়েছে। গর্ভবতী ও ১০ বছরের কম বয়সী বাচ্চাদেরও বেরতে নিষেধ করা হয়েছে।

সেই সঙ্গে যাঁরা বাইরে বেরবেন, তাঁদের আরোগ্য সেতু অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে। এই অ্যাপ গোপনীয়তার অধিকার ভঙ্গ করছে বলে অভিযোগ উঠলেও সরকার মনে করছে, করোনা নিয়ন্ত্রণে এই অ্যাপ খুবই কার্যকর। তাই জেলা প্রশাসনকেও বলা হয়েছে, তারাও যেন লোকেদের অ্যাপ ডাউনলোড করতে বলে। আর রাজ্য সরকারগুলিকে বলা হয়েছে, তারা যেন খালি ট্রাক, ম্যাটাডোরের মতো মালবাহী যানকে যাতায়াত করতে দেয়। এভাবেই ৩১ মে পর্যন্ত ভারতে লকডাউন বহাল থাকবে।

জিএইচ/এসজি(স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি)