হারিকেন ইরমার তাণ্ডব, বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা | বিশ্ব | DW | 07.09.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ

হারিকেন ইরমার তাণ্ডব, বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা

গত এক শতকের মধ্যে এমন ঘূর্ণিঝড় দেখেনি অ্যাটলান্টিক মহাসাগরীয় দেশগুলো৷ ক্যাটাগরি ৫ মাত্রার এই ঝড়ে এরই মধ্যে অন্তত ১০ জন নিহত হওয়ার খবর জানা গেছে৷ হার্ভের চেয়েও ইরমা বেশি বিধ্বংসী হবে বলে সতর্ক করছেন আবহাওয়াবিদরা৷

ক্যারিবীয় অঞ্চলের কয়েকটি ছোট দ্বীপ এরই মধ্যে পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে৷ চারটি দ্বীপ মিলিয়ে অন্তত ১০ জন মারা যাওয়ার খবর জানিয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যম৷ এর মধ্যে দুই দ্বীপের দেশ অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বারবুডা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷ এই দ্বীপগুলিতে হতাহতের সংখ্যা আর বাড়ার আশংকা করছেন উদ্ধারকর্মীরা৷

‘‘এটি পুরো একটি বিধ্বংসী ঝড় ছিল, বারমুডা পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে'', জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী গ্যাস্টন ব্রাউনে৷ ঘূর্ণিঝড় বারমুডার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়ার সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৩০০ কিলোমিটার৷

বারমুডার প্রায় ৯৫ শতাংশ ঘরবাড়ি, দালানকোঠা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷ এর মধ্যে ৩০ শতাংশ ভেঙে পড়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী৷ তবে এখন পর্যন্ত কেবল দুই বছর বয়সি এক শিশুর মৃত্যুর খবর জানাতে পেরেছেন উদ্ধারকর্মীরা৷

পার্শ্ববর্তী দ্বীপরাষ্ট্র অ্যাঙ্গুলিয়াতেও একজনের মৃত্যু ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে৷ সেইন্ট মার্টিন দ্বীপটি দুই দেশের মালিকানায় আছে, উত্তর অংশ ফ্রান্সের এবং দক্ষিণ অংশ নেদারল্যান্ডসের৷ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে ঘূর্ণিঝড় ইরমায়

বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই মুহূর্তে দ্বীপটিতে পৌঁছানোর কোনো উপায় নেই বলে জানিয়েছেন ডাচ প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুট৷

ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবহতা বোঝা যাচ্ছিল সুদূর মহাকাশ থেকেও৷ আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন থেকে অ্যাস্ট্রোনটরা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঝড়ের ছবি শেয়ার করেছেন৷

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের অনেকেই ভিডিও শেয়ার করেছেন, যেখানে ঝড়ের ভয়াবহতা ভালোই টের পাওয়া যায়৷

আরো ক্ষয়ক্ষতির আশংকা করছেন ফরাসি কর্মকর্তারা৷ বিদেশে অবস্থিত ফরাসি এলাকা দেখার দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী অ্যানিক গিরার্ডিন বলেন, ‘‘ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় আমরা অগ্রিম নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিলেও অনেকেই তা শুনে নিরাপদ আশ্রয়ে যাননি৷ এটাই আমাদের ভয়ের কারণ৷ ফলে আমরা আরো খারাপ কিছুর আশংকা করছি৷''

ভয়ে আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

শনি বা রোববারের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানবে বলে ধারণা করা হচ্ছে৷ সেসময় শক্তি হারালেও ইরমার ক্যাটাগরি চার থাকবে বলেও সতর্ক করছে দেশটির আবহাওয়া সতর্কতা সংস্থা৷

ফ্লোরিডা রাজ্যে এরই মধ্যে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে৷ নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে৷ রাজ্যের গভর্নর রিক স্কট বলছেন, ‘‘হারিকেন অ্যান্ড্রুর চেয়ে এই ঝড় বড়, দ্রুততর এবং শক্তিশালী৷''

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ফ্লোরিডা, পুয়ের্তো রিকো এবং ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন৷ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে জর্জিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা এবং সাউথ ক্যারোলাইনাতেও৷

আরো ঝড় আসছে

হার্ভে যেতে না যেতেই ইরমা৷ কিন্তু এতেই শেষ নয়৷ অ্যাটলান্টিকে আরো দু'টি বড় আকারের ঝড় জন্ম নিচ্ছে বলে দেখা গেছে স্যাটেলাইট চিত্রে৷ এর একটি কাটিয়া নাম নিয়ে মেক্সিকো উপসাগরে, অন্যটি হোসে নাম নিয়ে মধ্য অ্যাটলান্টিকে অবস্থান করছে৷

ভেরাক্রুজ রাজ্যে কাটিয়ার প্রভাবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে মেক্সিকো৷ হার্ভের আক্রমণের দাগ এখনও শুকায়নি৷ ওপর দিয়ে যাচ্ছে ইরমা৷ কিন্তু এখনই হোসে এবং কাটিয়াকে সামলানোর উপায় খুঁজতে ব্যস্ত অ্যাটলান্টিক পাড়ের দেশগুলো৷

এডিকে/ডিজি (রয়টার্স, এপি, ডিপিএ)

নির্বাচিত প্রতিবেদন