সৌদি দূতাবাসে সাংবাদিক ‘হত্যার প্রমাণ’ তুরস্কের হাতে | বিশ্ব | DW | 12.10.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সাংবাদিকতা

সৌদি দূতাবাসে সাংবাদিক ‘হত্যার প্রমাণ’ তুরস্কের হাতে

সৌদি দূতাবাসের মধ্যে সাংবাদিক জামাল খাশগজিকে হত্যার প্রমাণ তুরস্ক সংগ্রহ করেছে বলে খবর দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম৷ তুরস্কে খুনি পাঠিয়ে খাশগজিকে হত্যা ও তাঁর মৃতদেহ সরিয়ে ফেলার জন্য সৌদি সরকারকে দায়ী করছে আঙ্কারা৷

default

জামাল খাশগজি

এদিকে এ ঘটনা নিয়ে বিশ্বব্যাপী সমালোচনার মধ্যে রিয়াদে অনুষ্ঠেয় একটি সম্মেলন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন ইকোনোমিস্ট-এর প্রধান সম্পাদক জ্যানি মিন্টন বেডোসসহ কয়েকজন সাংবাদিক৷ উবার, ভিয়াকমের মতো প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও একই ঘোষণা দিয়েছেন৷

বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এ মাসের শুরুর দিকে ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাশগজিকে হত্যার প্রমাণ দেয় এমন অডিও ও ভিডিও রেকর্ডিং তুরস্ক সরকারের হাতে রয়েছে৷

যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ওয়াশিংটন পোস্টের এই কলামনিস্ট বিয়ের কাগজপত্র জোগাড়ে ২ অক্টোবর সৌদি কনস্যুলেটে ঢোকার পর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ, নির্যাতন ও হত্যা করা হয় বলে এসব অডিও-ভিডিওতে ইঙ্গিত মিলছে৷

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ওই অডিও-ভিডিও শুনেছেন বা দেখেছেন কিনা, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি৷ তবে তুরস্কের কর্মকর্তারা এগুলো সম্পর্কে তাঁদের অবহিত করেছেন বলে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে৷

এদিকে বুধবার তুরস্কের সংবাদমাধ্যম পুলিশি নজরদারির সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করেছে, যাতে সৌদি ‘খুনি স্কোয়াডকে’ দেখা যাচ্ছে এবং খাশগজিকে হত্যার জন্য তাদেরই পাঠানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হচ্ছে৷ তবে এসব ভিডিওতে ঘটনার পুরো চিত্র দিচ্ছে না বা কনস্যুলেটের ভেতরের ঘটনাবলীও তাতে আসেনি৷

যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের কর্মকর্তারা রেকর্ড পর্যালোচনায় ধারণা করছেন, খাশগজিকে অপহরণের জন্য ১৫ জনের একটি দল ইস্তানবুলে পাঠানো হয়ে থাকতে পারে এবং হত্যা নয়, তাঁকে ধরে সৌদিতে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তাদের৷

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা সৌদি কর্মকর্তাদের অভ্যন্তরীণ আলাপচারিতার যতটুকু হস্তগত করতে পেরেছেন তার ভিত্তিতে এই ধারণা পেয়েছেন তাঁরা৷

রিয়াদের অস্বীকার

এক সময় সৌদি সরকারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন জামাল খাশগজি৷ পরে এই রাজতন্ত্র ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সমালোচনামুখর হন তিনি৷ খাশগজির নিখোঁজের ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করছেন সৌদি কর্মকর্তারা৷

তুরস্ক কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি সম্পর্কে একের পর এক তথ্য সংবাদমাধ্যম ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের দিয়ে গেলেও সরাসরি রিয়াদের বিপক্ষে শক্ত অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে আড়ষ্টতা রয়েছে তাদের৷

বৃহস্পতিবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়েপ এর্দোয়ানের উপদেষ্টা ইব্রাহিম কালিন বলেছেন, সৌদি কর্তৃপক্ষের অনুরোধে সাড়া দিয়ে ‘খাশগজির মামলার সব দিক খতিয়ে দেখতে' এক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ তৈরি করছে আঙ্কারা ও রিয়াদ৷

দোলাচলে ট্রাম্প

সৌদি আরবে নারী অধিকার এগিয়ে নেওয়াসহ নানামুখী সংস্কারমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশটিকে উদ্ভাবন ও পর্যটনের জন্য আকর্ষণীয় করে তোলার ঘোষণা দিয়ে ভিন্নধর্মী ভাবমূর্তি গড়ে তোলা যুবরাজ সালমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ তারই প্রভাব পড়ছে নিজের দেশের নাগরিক খাশগজি তুরস্কে গিয়ে ‘খুন’ হওয়ার জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে৷ এ বিষয়ে এখনো শক্ত অবস্থান নিতে প্রস্তুত নয় ওয়াশিংটন৷

তবে বৃহস্পতিবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, সাংবাদিকের এভাবে নিখোঁজ হওয়াটা অগ্রহণযোগ্য৷

‘‘আমরা এটা হতে দিতে পারি না৷ আমরা খুব কঠোর হচ্ছি, সেখানে আমাদের তদন্তকারীরা রয়েছে এবং আমরা তুরস্কের সঙ্গে কাজ করছি৷ সত্যি বলতে আমরা সৌদি আরবের সঙ্গেও কাজ করছি৷’’

সৌদি আরবের বিপক্ষে শক্ত অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের পিছু হটার আরেকটি কারণ মনে করা হচ্ছে সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ের পেছনে তাদের ১১০ বিলিয়ন ডলার খরচ করা৷ এই অর্থ ঢুকলে যুক্তরাষ্ট্রে অনেকের চাকরির ব্যবস্থা হবে৷ তবে তা আটকে দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের এবং সে ধরনের ইঙ্গিত মিলেছে৷

এএইচ/এসিবি (এএফপি, এপি, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন