সিরিয়ায় কতটা যুদ্ধ চলছে তা যাচাই করছে এএফডি | বিশ্ব | DW | 07.03.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সিরিয়া

সিরিয়ায় কতটা যুদ্ধ চলছে তা যাচাই করছে এএফডি

‘জার্মানির জন্য বিকল্প' (এএফডি) দলের বিধায়করা স্বদেশের মিডিয়াকে বিশ্বাস করেন না, তাই তারা সিরিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি সচক্ষে দেখতে গেছেন৷ দলটি চায় সিরিয়াকে ‘নিরাপদ দেশ' ঘোষণা করা হোক ও সিরীয় উদ্বাস্তুদের ফেরত পাঠানো হোক৷

জার্মানিতে বর্তমানে প্রায় পাঁচ লাখ সিরীয় উদ্বাস্তু অবস্থান করছেন৷ এএফডি দল তাদের সিরিয়ায় ফেরত পাঠাতে চায়৷ এ কারণেই এএফডি বিধায়কদের এই বিতর্কিত সিরিয়া সফর৷ সফররত সদস্যরা মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের চলতি সফরের নানান ছবি পোস্ট করেন, যেমন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সঙ্গে এএফডি বিধায়কদের ছবি বা দামেস্কের রাস্তায় জিনস পরিহিতা মহিলাদের ছবি৷

এএফডির সাত জনের প্রতিনিধি দলে চারজন সাংসদ ও জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলের জনবহুল নর্থ রাইন ওয়েস্টফেলিয়া রাজ্যের একাধিক বিধায়ক আছেন৷ দলটির দামেস্ক ছাড়াও হোমস ও আলেপ্পো সফরেরও পরিকল্পনা রয়েছে৷ উদ্দেশ্য: ‘‘সর্বত্র যুদ্ধ চলছে, নাকি কিছু কিছু নিরাপদ এলাকাও আছে,'' তা যাচাই করে দেখা৷ নর্থ রাইন ওয়েস্টফেলিয়া রাজ্যের বিধানসভায় এএফডি গোষ্ঠীর সহ-সভাপতি হেলমুট জাইফেন ডয়চে ভেলেকে এ কথা বলেছেন৷ তাঁর মতে, এটি একটি ‘বেসরকারি' সফর এবং উদ্বাস্তুদের স্বদেশে প্রত্যাবর্তন সম্পর্কে এএফডি যে প্রস্তাব দিয়েছে, তার সঙ্গে এই সফরের কোনো সম্পর্ক নেই৷ তবুও, সদস্যরা আগামী শুক্রবার সিরিয়া সফর শেষ করে জার্মানিতে ফেরার পর তাদের কাছ থেকে রিপোর্ট প্রত্যাশা করা হবে বলে জাইফেন জানিয়েছেন৷ তবে এএফডি বিধায়করা প্রধানত ‘নিরাপদ' এলাকাতেই সফর করবেন বলে জাইফেন ধরে নিচ্ছেন৷

ভিডিও দেখুন 02:14
এখন লাইভ
02:14 মিনিট

Supporting besieged relatives in Syria

জার্মান ‘ডেয়ার স্পিগেল' পত্রিকার বিবরণ অনুযায়ী, এএফডি একট বিবৃতিতে বলেছে, ‘‘যেসব এলাকা সন্ত্রাসীদের হাত থেকে মুক্ত হয়েছে, সেখানকার মানবিক ও পুনর্নির্মাণ পরিস্থিতি পূর্ণাঙ্গভাবে যাচাই করাই এই সফরের লক্ষ্য৷'' জার্মান মিডিয়ার সিরিয়া সংকট বিষয়ক খবরাখবর বিশ্বাসযোগ্য নয় বলেও ঐ বিবৃতিতে দৃশ্যত মন্তব্য করা হয়৷

‘‘আমরা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সফর করব ও বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথাবার্তা বলব,'' বলে নর্থ রাইন ওয়েস্টফেলিয়া রাজ্যের বিধায়ক ক্রিস্টিয়ান ব্লেক্স সিরিয়া যাত্রার আগে ‘কমপ্যাক্ট অনলাইন' নামের একটি দক্ষিণপন্থি সাইটের সাক্ষাৎকারে ঘোষণা করেন৷ ‘‘আমরা সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলব,'' বলেন ব্লেক্স৷

গতমাসে একাধিক এএফডি রাজনীতিক রুশ অধিকৃত ক্রাইমিয়ায় যাত্রা করে পশ্চিমি শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখেন – ব্লেক্স সে দলেও ছিলেন৷ দলটি মস্কো হয়ে ক্রাইমিয়া যায় বলে ইউক্রেন সরকারের দৃষ্টিতে এই সফর বেআইনি৷ কিয়েভ এবং বার্লিন, উভয় সরকারই এএফডি রাজনীতিকদের ক্রাইমিয়া সফরের সমালোচনা করেছেন৷

আসাদের মিত্রদের সঙ্গে বৈঠক

সোমবার এএফডি বিধায়করা সিরিয়ার গ্র্যান্ড মুফতি আহমদ হাসুন-এর সঙ্গে একটি দু'ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে মিলিত হন৷ হাসুন দৃশ্যত সিরীয় উদ্বাস্তুদের স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের আহ্বান জানান৷ ব্লেক্সের সংশ্লিষ্ট টুইটটিতে ভুল করে বলা হয়, ‘‘ধর্ম ও গির্জার মধ্যে পৃথকীকরণ যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ,'' হাসুন তা ‘‘বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন৷'' পরে জানানো হয় যে, হাসুন ‘‘ধর্ম ও রাষ্ট্রের মধ্যে পৃথকীকরণের'' কথা বলেছিলেন৷

 ব্লেক্স জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের প্রতি গ্র্যান্ড মুফতিকে জার্মানি সফরের আমন্ত্রণ জানানোর আহ্বান জানান৷ ২০১১ সালে হাসুন হুমকি দিয়েছিলেন যে, সিরিয়া সংঘাতে পশ্চিমি হস্তক্ষেপ ঘটলে ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আত্মঘাতী বোমারু পাঠানো হবে৷ তিনি আসাদ সরকারের ঘনিষ্ঠ মিত্র বলে পরিচিত৷

ম্যুন্স্টার শহরের এএফডি গোষ্ঠীর মুখপাত্র টোমাস রোয়কেমানের পোস্ট করা একটি ভিডিও পোস্টে বলা হয়েছে যে, হাসুন ডিটিব সংগঠনের সমালোচনা করেছেন – তুর্কি সরকারের সমর্থনপুষ্ট সংগঠনটি জার্মানিতে বিভিন্ন মসজিদকে অর্থসাহায্য করে থাকে৷ তুরস্ক যে সম্প্রতি উত্তর সিরিয়ার আফরিনে অভিযান শুরু করেছে, সম্ভবত তারই পরিপ্রেক্ষিতে হাসুনের এই সমালোচনা৷ অপরদিকে এএফডি দলের ইসলামবিরোধী মনোভাবের সঙ্গে তা মিলে যায়৷

আঁটসাঁট জিনস আর ‘ব্যস্ত যানচলাচল'

এএফডি সদস্যরা দৃশ্যত সিরিয়ার সরকার নিয়ন্ত্রিত রাজধানীতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার দৃশ্য দেখে বিস্মিত৷ ‘‘আমরা জার্মানিতে যুদ্ধের কঠিনতার অভিজ্ঞতা করেছি ও তার দুঃখ-দুর্দশা সম্পর্কে অবহিত,'' ব্লেক্স রিপোর্টারদের বলেন বলে সিরিয়ার সরকারি মালিকানার ও সরকারপন্থি ‘টিশরিন' সংবাদ ওয়েবসাইটটি জানিয়েছে৷ ‘‘দামেস্কে মানুষজন কিভাবে তাদের স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন তা দেখে আমরা বিস্মিত হয়েছি৷''

দামেস্কে পৌঁছানোর আগেই রোয়কেমান লেবাননের রাজধানী বৈরুতের রাস্তাঘাট ও বিমানবন্দর যে কতটা ‘‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন,'' সে বিষয়ে বারংবার মন্তব্য করেছিলেন৷ দৃশ্যত এএফডি বিধায়করা বৈরুত থেকেই সিরিয়া যাত্রা করেন৷

সিরিয়ার রাজধানীতে পৌঁছে ব্লেক্স আরো মুগ্ধ৷ ‘‘কালো হিজাবের পরিবর্তে ব্লু জিনস! মহিলারা বারে বসে – মক্কায় যা অকল্পনীয় কিন্তু দুঃখজনকভাবে বার্লিনের নয়ক্যোলন অঞ্চলে নয়,'' বলে ব্লেক্স টুইটারে মন্তব্য করেন ও যোগ করেন যে, জার্মান সরকার সেইসব ‘‘‘বিদ্রোহীদের' সাহায্য করছেন, যারা মহিলাদের বোরকা পরতে বাধ্য করতে চায়৷''

জার্মানিতে নিন্দা ও সমালোচনা

জার্মান সবুজ দলের একাধিক সাংসদ এএফডি বিধায়কদের সিরিয়া সফরে উষ্মা প্রকাশ করেছেন৷ এএফডি বিধায়করা ‘আসাদ ফ্যান ক্লাব'-এর সদস্যদের মতো ব্যবহার করেছেন বলে সবুজ সাংসদ কনস্টান্টিন ফন নটৎস টুইটারে মন্তব্য করেন৷ সবুজ সাংসদ ওমিদ নুরিপুর পূর্ব গুটায় সিরিয়া সরকারের সাম্প্রতিক অভিযানের কথা উল্লেখ করে টুইট করেন ও বলেন, ‘‘এএফডি রাজনীতিকরা যে দামেস্কের প্রাসাদে আপ্যায়িত হচ্ছেন, যখন তাদের ‘আমন্ত্রণকর্তারা' ১৫ কিলোমিটারের কম দূরত্বে শিশুদের উপর বোমা ফেলছে,'' এটা ন্যক্কারজনক৷

জাইফেনের বিবৃতি অনুযায়ী, এএফডি বিধায়কদল জার্মান পররাষ্ট্র দপ্তরকে তাদের  সিরিয়া সফরের পরিকল্পনা সম্পর্কে পূর্বেই অবহিত করেছিলেন, যদিও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন যে, তাদের কিছু জানানো হয়নি৷ সিরিয়া যাত্রা সম্পর্কে মন্ত্রণালয়ের একটি সতর্কতা নির্দেশও পূর্বাপর বহাল আছে৷

রেবেকা স্টাউডেনমায়ার/এসি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন