সাহায্যকর্মীরা কেন আফগান জঙ্গিদের টার্গেট? | বিশ্ব | DW | 23.09.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

আফগানিস্তান

সাহায্যকর্মীরা কেন আফগান জঙ্গিদের টার্গেট?

সাহায্যকর্মীদের জন্য আফগানিস্তান দিন দিন আরো বিপজ্জনক হয়ে উঠছে৷ বিশেষত গত সপ্তাহে মাইন নিষ্ক্রিয়কারী এবং রেড ক্রসের কর্মী হত্যার ঘটনায় বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে৷ 

মানুষকে আবারও হাঁটতে শিখতে সাহায্য করতেন স্প্যানিশ ফিজিওথেরাপিস্ট লরেনা এনারব্রাল পেরেস৷ আফগানিস্তানে রেডক্রস ইন্টারন্যাশনাল কমিটি (আইসিআরসি)-এর হয়ে কাজ করতেন তিনি৷ গেল প্রায় এক দশক ধরেই মানবসেবার অভিজ্ঞতা তাঁর৷ আর আফগানিস্তান ছিল তাঁর প্রথম মিশন৷ 

‘‘তোমার আগে আসা একজন বাইরে আগে থেকেই অপেক্ষা করছে'' কেবল এই কথা বলায় ১১ সেপ্টেম্বর সকালে পোলিও আক্রান্ত এক যুবক তাঁর হুইলচেয়ারে লুকিয়ে রাখা পিস্তল বের করে পেরেসকে গুলি করে হত্যা করে৷ মাজার-ই-শরিফের আইসিআরসির অর্থপেডিক পুনর্বাসন কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে৷ 

মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, ২১ বছর বয়সী ওই ঘাতক ঘটনাস্হলেই গ্রেফতার হয়৷ তবে ঠিক কী উদ্দেশ্য সে এই কাজ করেছিল তা জানা যায়নি৷

গত কয়েকদিনে আফগানিস্তানে সাহায্যকর্মী হত্যার দ্বিতীয় ঘটনা এটি৷ 

এর আগে, ৯ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় নঙ্গারহারের এক এনজিও কর্মীকে একদল সশস্ত্র আফগান হত্যা করে৷

জাতিসংঘের মাইন অ্যাকশন সার্ভিস ইউএনএমএএস-এর বিবৃতি অনুযায়ী, আক্রমণকারীরা তথাকথিত ‘ইসলামিক স্টেট' (আইএস)-এর সাথে জড়িত৷ হত্যার আগে তারা ঐ কর্মীর কাছে তাঁর পরিচয় জানতে চেয়েছিল৷

হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য অস্পষ্ট, তবে এটা ঠিক যে যারা নিঃস্বার্থ কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত, তারাই এ ধরনের আক্রমণের লক্ষ্য হচ্ছেন৷ আফগানিস্তানে জাতিসংঘের সহায়তা মিশন ইউএনএএমএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে মাইনসুইপারদের ওপর  ২০টি হামলার ঘটনা ঘটে৷ তাদের মধ্যে ৯ জন নিহত ও বাকিরা আহত হন৷

দক্ষিণ কান্দাহারের সাবেক এক আইসিআরসি কর্মচারী ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘ আমার এক প্রতিবেশী এরকম জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে কাজ করত৷ তালেবানরা তাঁকে হুমকি দিয়েছিল৷ বলেছিল, কাজ না ছাড়লে কঠিন মূল্য দিতে হবে৷''

সাহায্য সংস্থা ছেড়ে যেতে বাধ্য করা

সাম্প্রতিক দুটি হত্যাকাণ্ড বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনার নয়৷ সাহায্য সংস্হা ও তাদের কর্মীদের ওপর তালেবান, আইএস ও অন্যান্য জঙ্গিগোষ্ঠীর সন্ত্রাসী হামলা ক্রমাগত বাড়ছে৷ কিছু জেলায় তালেবানরা যখন নিজেদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফেলেছে, তখনই ২০১৫ সালের প্রথম দিকে আইএস'ও আফগানিস্তানের মাটিতে তাদের পুনরায় জানান দিতে শুরু করে৷

পেরেস নিহত হওয়ার পর আইসিআরসি মাজার-ই-শরিফে তাদের চিকিত্সা কেন্দ্র বন্ধ করে দেয়৷ একইভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (ডাব্লিউএইচও) নিরাপত্তা সমস্যার কারণে তাদের স্বাস্থ্য কেন্দ্র বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়৷ 

বিশ্ব স্বাস্হ্য সংস্হার রিপোর্ট বলছে, চলতি বছর আফগানিস্তানে ১৬৪টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বন্ধ করে দেয়া হয়েছে কেবল নিরাপত্তাজনিক কারণে৷ অথচ সেসব কেন্দ্র থেকে প্রায় ত্রিশ লক্ষ আফগান স্বাস্থ্যসেবা পেতেন৷

আক্রান্তদের যাবার কোনো জায়গা নেই

আইসিআরসি আফগানিস্তানে দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করে আসা এক সাহায্য সংস্থা৷ যুদ্ধাহত, পোলিও আক্রান্ত এমনকি অন্যান্য নানা রোগে আক্রান্তদের সহায়তা করত তারা৷ পেরেসের মৃত্যুর পর এই আক্রান্ত মানুষগুলো আর কোথাও যেতে পারছে না একটু সাহায্যের জন্য৷ আফগান যুদ্ধবন্দীদের তাঁদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দিতেও সহায়তা করত তাঁরা৷

‘‘আইসিআরসি আফগান যুদ্ধে দু' পক্ষের বন্দিদেরই সহায়তা করত৷ তাদের ওপর আক্রমণ আসা অন্যান্য সহায়ক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও বিপদের ইঙ্গিত,'' ডয়চে ভেলেকে জানান কান্দাহারের আইসিআরসির সাবেক এক কর্মচারী৷

আফগান সংঘাতের ফলে প্রতিবছর ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যের জন্য এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা এবং কার্যক্রম সীমিত করতে হচ্ছে৷ ফলে শিগগিরিই এমন সময় হয়ত এসে যাবে, যখন তাদের সাহায্যের খুব প্রয়োজন হবে কিন্তু সাহায্য করার মতো কেউ থাকবে না৷ 

মাসুদ সাইফুল্লাহ /এএম

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন