সারা বিশ্বে চরমপন্থার চাষাবাদে ভূমিকা রাখছে সোশাল মিডিয়া: ফারুকী | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 14.05.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

সারা বিশ্বে চরমপন্থার চাষাবাদে ভূমিকা রাখছে সোশাল মিডিয়া: ফারুকী

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী মনে করেন, শুধু বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক হচ্ছে না, সারা বিশ্বেই এ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে আর এতে বড় ভূমিকা রাখছে সোশাল মিডিয়া৷

‘খালেদ মুহিউদ্দীন জানতে চায়’ ইউটিউব টকশো-তে এবারের আলোচনায় ঢাকা থেকে অতিথি হিসেবে যোগ দেন তারকা দম্পতি নুসরাত ইমরোজ তিশা ও মোস্তফা সরয়ার ফারুকী৷ শুরুতেই ‘টেলিভিশন’ নির্মাতার কাছে প্রশ্ন ছিল বাংলাদেশ কি সাম্প্রদায়িক হয়ে উঠছে? ফারুকী তার জবাব দেন এভাবে, ‘‘সারা বিশ্বেই চরমপন্থার জয়জয়কার৷ চরমপন্থার প্রচুর চাষাবাদ হচ্ছে৷ এর পেছনে ঘি ঢালছে সোশাল মিডিয়া৷ হেট্রেড (ঘৃণা) আগেও ছিল সমাজে৷ কিন্তু ঘৃণা এবং ভালোবাসা এটা এমন এক জিনিস যা প্রকাশে বাড়ে, অপ্রকাশে স্তিমিত হয়ে আসে৷ সোশ্যাল মিডিয়া এটা আমাদের যত্রতত্র যখন তখন প্রকাশের সুযোগ করে দিয়েছে৷ ফলে আমরা ঘৃণার প্রসার এবং প্রচার অনেক বেশি দেখতে পাচ্ছি৷....এই যে চরমপন্থা, চরম ঘৃণা এটা শুধু বাংলাদেশেরই একার সম্পত্তি নয়, এটা বিশ্ব মানবসভ্যতার ঐতিহ্য৷  ফলে সবাই একই দোষে দুষ্ট৷’’

তার সঙ্গে একমত অভিনেত্রী তিশাও৷ ফেসবুকে তার নিজের পেইজের ফলোয়ার সংখ্যা ৪৩ লাখ৷ তবে তার অনুসারীরা প্রশংসার পাশাপাশি কাজের ভুল ধরিয়ে দেন বলে জানান তিশা, যা তিনি দেখেন ইতিবাচক হিসেবে৷ এক্ষেত্রে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করলেও অন্য অনেকের সঙ্গে আচরণ তাকে পীড়া দেয়৷ ‘‘অনেক পেইজে আমি দেখেছি, যাদের অনেক সমালোচনা হয়, খারাপ খারাপ কমেন্ট আসে, যেটা খারাপ, যেটা এক ধরনের চাপ৷ ছোট অনুভূতি হয় , মাঝে মাঝে খুবই খারাপ লাগে৷ ...যেটাতে অনেক সময় আপসেট হয়ে যায় মানুষ৷ ...আগেও যখন আমরা কাজ করতাম. মানুষ অ্যাপ্রেশিয়েট করতো, খারাপ লাগলে বলতো৷ কিন্তু সেটা এত ওপেন ছিল না৷ এখন মনে হচ্ছে সবার হাতেই কলম৷ সবার হাতেই টাইপ রাইটার৷ খারাপ লাগলো সাথে সাথেই বলে দিলো,’’ বলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী এই শিল্পী৷

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এগুতে পারছে না বলে মনে করেন ফারুকী৷ এর দায় চলচ্চিত্রকার বা দর্শকদের নয়, পুরোটাই দিচ্ছেন নীতিনির্ধারকদের৷ তার মতে, বাংলাদেশে দারুণ সব পরিচালক আছেন, বিপুল দর্শকও আছেন৷ কিন্তু সে অনুযায়ী ছবি হচ্ছে না৷ এর কারণ নীতিমালা নাই৷ বাংলাদেশে সেন্সর নীতিও চলচ্চিত্রের জন্য ইতিবাচক নয় বলে মনে করেন ফারুকী৷ তার নিজের একটি চলচ্চিত্রও সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পায়নি৷ হতাশা প্রকাশ করে ফারুকী বলেন, ‘‘ধরা যাক আমার ‘শনিবার বিকেল’ ছবিটা আটকে দেয়া হয়েছে৷ এখনও আটকে আছে৷ ‘শনিবার বিকেল’ আটকানোর মাধ্যমে আপনি শুধু একজন ফারুকীকে আটকাননি, ফারুকীর মতো আর যারা আছে সিনেমা বানাবে, যারা স্ক্রিপ্ট রাইটিং টেবিলে আছে, তারা টেবিলে বসে আতঙ্কে আছে, তারা একটি দৃশ্য লেখার আগে ভাবে আমি কি এটা বলতে পারবো, নাকি পারবো না৷ এই সেন্সরশিপ যখন থাকে, তখন নেটফ্লিক, অ্যামাজন শুনতে অনেক ভালো লাগে, কিন্তু ওদের সাথে কমপিট করার জন্য ওদের ওখানে যে পলিটিক্যাল ফ্রিডমটা তারা পায় বানাতে, সেটা কি আমাদের আছে? সেটা যদি না থাকে তাহলে সম্ভাবনা আশা করাটা ঠিক না৷’’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী নিয়ে বাংলাদশ-ভারত যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছেন ভারতের পরিচালক শ্যাম বেনেগল৷ এ নিয়ে প্রশ্ন ছিল মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর কাছে৷ তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর চলচ্চিত্র পৃথিবীর যেকেউ বানাতে পারেন, যদি যথাযথ গবেষণা করে বানানো হয়৷ কিন্তু ভারতের কাউকে দিয়ে বানানোর ক্ষেত্রে তার আপত্তি আছে৷ এ আপত্তির বিষয়টি তথ্য মন্ত্রণালয়ের এক আয়োজনে বলেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি৷ এ বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ফারুকী বলেন, ‘‘যেহেতু বঙ্গবন্ধু বিরোধীদের অভিযোগ প্রোপাগান্ডা যা-ই বলেন, সেটা হলো বঙ্গবন্ধু ভারতের দ্বারা তৈরি করা একজন নেতা, ভারত পাকিস্তানকে ভাঙার জন্য বঙ্গবন্ধুকে তৈরি করেছে৷ এটা হচ্ছে প্রো-পাকিস্তান প্রোপাগান্ডার একটা অংশ৷ যখন এরকম একটা প্রোপাগান্ডা সমাজে চালু আছে, যেই প্রোপাগান্ডার ভিতরে আমি আমার স্কুলজীবন পার করেছি, পরে যৌবনে যখন সেটা ভেঙে আমরা বেরিয়ে আসলাম, এখন এসে যখন দেখি বঙ্গবন্ধুর জীবনী বা ইমেজ বানানোর দায়িত্বটা ভারতের একজন ফিল্মমেকারকে দেয়া হয়, আমি তখন ঐ মিটিংয়ে বলেছিলাম, তখনকি আমরা অজান্তেই ঐ প্রোপাগান্ডাটার হাতে যুক্তি তুলে দেই কী-না৷ এটা আমি তাদেরকে বিবেচনা করতে বলেছিলাম৷’’

তবে এই চলচ্চিত্রে বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিশা৷ তিনি জানান, শ্যাম বেনেগলের সাথে কাজের অভিজ্ঞতা ছিল অসাধারণ৷ এত বড় মাপের চলচ্চিত্রকারের সঙ্গে এবং এমন চরিত্রে কাজ করতে পেরে খুব আনন্দিত বলেও জানান তিশা৷

এফএস/এসিবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন