সহযোগিতা করছেন না অভিষেক, অভিযোগ ইডির | বিশ্ব | DW | 10.09.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

সহযোগিতা করছেন না অভিষেক, অভিযোগ ইডির

কয়লা কেলেঙ্কারি নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ইডি। শুক্রবারও তাকে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু তিনি আসেননি। সহায়তা করছেন না তিনি, দাবি ইডি সূত্রের।

সোমবার তাকে দিল্লিতে টানা নয় ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। শুক্রবার ফের তাকে জেরা করতে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু সেই ডাক এড়িয়ে গেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিবারসূত্রে যিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো।

অভিষেক ইডি-কে জানিয়েছেন, বিশেষ কাজে তিনি শুক্রবার আসতে পারবেন না দিল্লি। ইডি জানিয়েছে, অন্যদিন তাকে ফের ডাকা হবে। কারণ, সোমবার জিজ্ঞাসাবাদে অভিষেক যা বলেছেন, তাতে ইডি সন্তুষ্ট নয়। ইডি-র সূত্র নাম প্রকাশ করা যাবে না এই শর্তে ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, অভিষেক সোমবার ইডি-র সঙ্গে সহযোগিতা করেননি। তার কাছে যা জানতে চাওয়া হয়েছিল, অভিষেক তার যথাযথ উত্তর দেননি বলেই ইডি মনে করছে। যদিও অভিষেক দাবি করেছেন, ইডি-কে সবরকম সাহায্য করেছেন তিনি।

ইডি-র সূত্র ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, তিনজন ব্যক্তি এবং দুইটি সংস্থার নাম অভিষেকের সামনে ফেলা হয়। ওই দুই সংস্থার মাধ্যমে কয়লা কেলেঙ্কারির টাকা তার পরিবারের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে বলে ইডি-র অভিযোগ। ডয়চে ভেলে ওই দুই সংস্থা এবং তিন ব্যক্তির পরিচয় জানতে পেরেছে।

লিপস অ্যান্ড বাউন্ড প্রাইভেট লিমিটেড এবং লিপস অ্যান্ড বাউন্ড ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেস এই দুইটি সংস্থার অ্যাকাউন্ট ডিটেল সামনে রেখে সোমবার অভিষেককে প্রশ্ন করা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। অভিযোগ, একটি কনস্ট্রাকশন সংস্থার কাছ থেকে ওই দুই সংস্থার অ্যাকাউন্টে সাড়ে চার কোটি টাকা জমা পড়ে। কেন, কীসের জন্য ওই টাকা জমা পড়েছে, তা জানতে চাওয়া হয় অভিষেকের কাছে। অভিষেকের জবাবে ইডি সন্তুষ্ট হয়নি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ওই দুই সংস্থার একটির ডিরেক্টর অভিষেকের বাবা এবং মুখ্যমন্ত্রীর ভাই অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যটির ডিরেক্টর তার স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এখানেই শেষ নয়। বিনয় মিশ্রকে নিয়ে প্রশ্ন করা হয় অভিষেককে। কয়লা কেলেঙ্কারির অন্যতম অভিযুক্ত বিনয়। এখন সে ভারত থেকে পালিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের একটি দ্বীপরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব নিয়েছে। তাকে পাওয়ার জন্য ইডি ইন্টারপোলের সঙ্গে যোগাযোগ করছে বলে জানা গেছে। বিনয় এক সময় তৃণমূলের যুব দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। আর যুব দলের প্রধান ছিলেন অভিষেক। অভিষেক-বিনয়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলেই ইডি-র ধারণা। ইডি সূত্র জানিয়েছে, বিনয় নিয়েও অভিষেক যা বলেছেন, তাতে তারা সন্তুষ্ট নন। তাদের হাতে আরো তথ্যপ্রমাণ আছে। যা সামনে রেখে ফের অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় তারা।

এছাড়াও কয়লা মামলায় আরো দুই অভিযুক্ত পুলিশ অফিসার অশোক মিশ্র এবং অনুপ মাঝির কথা অভিষেকের কাছে জানতে চাওয়া হয়। অভিষেক বলেছেন, ওই দুই ব্যক্তির সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না। কিন্তু ইডি-র বক্তব্য, তাদের কাছে যোগাযোগের তথ্য প্রমাণ আছে। অশোক বাঁকুড়া থানার আইসি ছিলেন। তার কাছে নিয়মিত কাঠের বাক্সে টাকা এসে পৌঁছাতো বলে ইডি-র দাবি। টাকা পাঠানোর কাজটি করতেন অনুপ। এক ব্যক্তির হাত দিয়ে সেই টাকা পাঠানো হতো বলে দাবি। সেই ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে পেয়েছে ইডি।

ইডি-র বক্তব্য, একাধিক তথ্যপ্রমাণ সামনে ফেলে সোমবার অভিষেককে প্রশ্ন করা হয়। অভিষেক যা বলেছেন, তার মধ্যে পরস্পরবিরোধিতা আছে। সে কারণেই তাকে শুক্রবার আবার ডেকে পাঠানো হয়েছিল।

এর আগে অভিষেককে তিনবার ইডি ডেকেছিল বলে জানা গেছে। তিনবারই অভিষেক আসতে রাজি হননি। সোমবারই প্রথম আসেন। ওই দিন জিজ্ঞাসাবাদের পরে ইডি অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে অভিষেক বলেছিলেন, তার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আছে, তা প্রকাশ করা হোক। সকলের সামনে পেশ করা হোক। অভিষেকের দাবি, তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র চলছে। সে কারণেই তাকে বার বার ডেকে পাঠানো হচ্ছে।

বস্তুত, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ভবানীপুরের নির্বাচনী জনসভা থেকে বলেছেন, অভিষেককে উপলক্ষ করে আসলে তাকেই আঘাত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

কয়লা কেলেঙ্কারি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ চলছে। লোকসভা এবং বিধানসভা নির্বাচনের সময় লাগাতার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অভিষেকের বিরুদ্ধে কয়লা কেলেঙ্কারির অভিযোগ করেছেন। ইডি-র দাবি, এতদিন ধরে তারা একটি একটি করে তথ্যপ্রমাণ সাজিয়েছে। তারপরেই অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে।