রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লার পরিবারের ১১ জন ক্যানাডার পথে | বিশ্ব | DW | 01.04.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লার পরিবারের ১১ জন ক্যানাডার পথে

বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহর পরিবারের ১১ জন ক্যানাডার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন৷

রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ

রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ

ডয়চে ভেলের কনটেন্ট পার্টনার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের খবর অনুযায়ী,  বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টায় টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তারা রওনা হন৷ মুহিবুল্লাহর পারিবারিক বন্ধু মানবাধিকারকর্মী নূর খান এ খবর জানান৷

নূর খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডট কমকে বলেন, "মহিবুল্লাহর স্ত্রী নাসিমা খাতুন, নয় ছেলেমেয়ে এবং এক মেয়ের জামাই রয়েছেন ওই ১১ জনের মধ্যে৷ তাদের রিফিউজি মর্যাদা দিয়ে ক্যানাডার গভার্নমেন্ট অ্যাসিসটেন্স প্রোগ্রামের আওতায় নেওয়া হচ্ছে৷”

গতবছরের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে কুতুপালং-১ (ইস্ট) লম্বাশিয়া ক্যাম্পের ডি-৮ ব্লকে বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস এন্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মুহিবুল্লাহ৷ তিনি মিয়ানমারের মংডুতে স্কুলে শিক্ষাকতা করতেন বলে রোহিঙ্গাদের কাছে ‘মুহিবুল্লাহ মাস্টার' হিসেবে পরিচিত ছিলেন৷ 

হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই মুহিবুল্লাহর স্বজন ও অনুসারীরা হন্যে হয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ছাড়ার চেষ্টা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেন৷ 

গত বছরের অক্টোবরে মুহিবুল্লাহর ভাগ্নে ও আরএসপিএইচআর এর ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রশিদুল্লাহ বলেছিলেন, "মুহিবুল্লাহর স্ত্রী, সন্তান, মা, ভাইসহ স্বজনদের ১৮টি পরিবারের সদস্যরা কুতুপালং ক্যাম্পে নিরাপদ মনে করছেন না৷ এসব পরিবারের ৯৪ জন সদস্যকে বর্তমানে ক্যাম্পের বাইরে অজ্ঞাত নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে তবে তারা সেখানে থাকতেও রাজি নয়৷

বাংলাদেশের বাইরে কোনো দেশে যাওয়ার কথা বলেছিলেন রশিদুল্লাহ৷ তাদের এই ইচ্ছার কথা জাতিসংঘের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারসহ জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থায় তারা জানিয়েছিলেন৷

মুহিবুল্লাহ বন্ধু নূর খান বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি বিমানবন্দরে পরিবারটিকে বিদায় জানাতে যান৷ পরিবারের সদস্যরা এদেশের মানুষ ও সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন৷ একই সঙ্গে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মুহিবুল্লাহর প্রতিষ্ঠিত স্কুলটির কার্যক্রম যাতে চলমান থাকে, সেজন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন৷

মুহিবুল্লাহ জীবন বাঁচাতে বেশ কয়েকবছর আগে সপরিবারে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা হন এবং সেখানেই গড়ে তোলেন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (এআরএসপিএইচ)৷ 

মুহিবুল্লাহ ছিলেন রোহিঙ্গাদের কাছে বাড়ি ফেরার স্বপ্নে বিভোর এক মানুষ ৷ গত কয়েক বছর ধরে নির্যাতনের মুখে মিয়ানমারে সবকিছু ফেলে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা লাখো মানুষদের সেই স্বপ্ন তিনি দেখিয়েছেন৷   

মুহিবুল্লাহর স্বজন ও অনুসারীদের মতে, দেশে ফেরার এই স্বপ্নই তার কাল হয়েছে৷ রোহিঙ্গাদের একটা অংশ দেশে ফিরতে চায় না ৷ সশস্ত্র দলটির সঙ্গে ‘মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীর যোগাযোগ' রয়েছে বলেও ক্যাম্পের অনেকের বিশ্বাস৷ 

মুহিবুল্লাহ থাকতেন উখিয়ার ১-ইস্ট লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-৭ ব্লকে ৷ তিনি ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করে আলোচনায় আসেন৷   এছাড়াও তিনি জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থায় রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধিত্ব করেন৷

পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যমে ‘রোহিঙ্গাদের কণ্ঠস্বর' হিসেবেও পরিচিত ছিলেন স্কুলশিক্ষক মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহ৷

এনএস/এসিবি (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম) 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়