রিয়া-পরিযায়ী শ্রমিক অস্ত্রে অধীরের ভোট অঙ্ক | বিশ্ব | DW | 18.09.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

রিয়া-পরিযায়ী শ্রমিক অস্ত্রে অধীরের ভোট অঙ্ক

পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের দায়িত্ব পেয়েই সময় নষ্ট না করে আন্দোলনের পথে নেমে পড়লেন অধীর চৌধুরী। প্রথম আন্দোলন পরিযায়ী শ্রমিকদের স্বার্থে।

আপাতত দুইটি পদ সামলাচ্ছেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী। লোকসভায় কংগ্রেসের নেতা হিসাবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস সভাপতির কাজও দেখতে হচ্ছে তাঁকে। সোমেন মিত্র মারা যাওয়ার পর অধীরের হাতে এই দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন সোনিয়া ও রাহুল গান্ধী। বহরমপুরের এই লড়াকু নেতার ওপর তাঁদের অগাধ আস্থা।

দায়িত্ব পেয়েই অধীর আর দেরি করেননি। সোজা নেমে পড়েছেন আন্দোলনে। রাজ্যের নির্জীব কংগ্রেস কর্মীদের চাঙ্গা করতে প্রথমেই দুইটি বিষয় ধরেছেন অধীর। পরিযায়ী শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষা ও বাঙালি মেয়ে রিয়া চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে 'অন্যায়ে'র প্রতিবাদ। এই দুই বিষয় নিয়ে রাজ্যের প্রায় সব জেলায় পথে নেমেছেন কংগ্রেস কর্মীরা।

ডয়চে ভেলেকে অধীর জানিয়েছেন, ''দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করে দিয়েছি। বাংলার প্রতিটি জেলায় পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে আন্দোলন হয়েছে। আমরা প্রশ্ন করেছি, বাংলায় পরিযায়ী শ্রমিকরা কেন তাঁদের পাওনা টাকা পেল না?''

অধীরের দাবি, কংগ্রেসের চাপের ফলে প্রধানমন্ত্রী জুন থেকে গরিব কল্যাণ রোজগার অভিযান চালু করেন। ১২৫ দিনের কর্মসূচিতে ৫০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে কেন্দ্র। কোনো জেলায় ২৫ হাজার পরিযায়ী শ্রমিক থাকলে তাঁরা এই সুবিধা পাবেন। ভারতের ১১৬টি জেলা এই প্রকল্পের আওতায় চলে এসেছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের একটা জেলাও তালিকায় নেই। কারণ, এখানকার জেলাগুলি নিয়ে কোনো তথ্য রাজ্য সরকার কেন্দ্রকে দেয়নি। তাই রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকরা বঞ্চিত হয়েছেন বলে অধীরের অভিযোগ। অথচ, মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, বাংলায় ১১ লাখ পরিযায়ী শ্রমিক এসেছেন। লকডাউনের সময় অধীর প্রচুর পরিযায়ী শ্রমিককে বাংলায় ফেরার সুযোগ করে দিয়েছেন অথবা ভিন রাজ্যে সাহায্য করেছেন।  ফলে জমি তৈরি আছে। পরিযায়ীদের পাশে পেতে তাই প্রথমেই ঝাঁপিয়েছেন অধীর। তাঁদের তিনি কেন্দ্রীয় সাহায্য পাইয়ে দিতে চান। সে জন্যই তাঁর দাবি, অবিলম্বে শ্রমিকদের তালিকা তৈরি করে কেন্দ্রের কাছে পাঠাতে হবে। যাতে তাঁরা সাহায্য পান।

এ ছাড়া রিয়া চক্রবর্তীর জন্যও রাস্তায় নেমেছেন কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা। অধীরের যুক্তি, ''বাংলার মেয়েকে যেভাবে অত্যাচার করা হচ্ছে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি। আমাদের মনে হয়েছে, তিনি অবিচারের শিকার। তাই তাঁকে নিয়ে প্রতিবাদ করাটাও আমাদের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।'' প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির সাফ কথা, ''এখন সংগঠন তৈরি করছি, দায়িত্ব ভাগ করছি। নেতা ও কর্মীদের নিয়ে তারপর নেমে পড়ব ময়দানে। আমাদের আন্দোলন হবে সাধারণ মানুষের স্বার্থে, সাধারণ মানুষের জন্য ও সাধারণ মানুষকে নিয়ে।''

খুব স্বাভাবিকভাবে অধীর পাখির চোখ করেছেন আগামী বছর এপ্রিলে বিধানসভা ভোটকে। সময় বেশি নেই। মাস ছয়-সাত। ভোট প্রস্তুতির জন্য খুব বেশি সময় নয়। বিশেষ করে সামনে যেখানে তৃণমূল ও বিজেপির মতো পরাক্রমশালী প্রতিপক্ষ। অধীরের স্বীকারোক্তি, ''সময় খুব কম। তাছাড়া করোনা আছে। তার মধ্যে যতটা সময় পাই ততটা ব্যবহার করব।''

কোন কোন বিষয় নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে কংগ্রেস? অধীরের জবাব, ''গ্রামের মানুষের বিষয়, বাংলার ভাঙনের সমস্যা, আমপানে পশ্চিমবঙ্গের ভরাডুবি, রাজ্যে দুর্নীতি, স্বজনপোষণ, গ্রাম পঞ্চায়েতে লুঠতরাজ সব থাকবে। লড়াই হবে তৃণমূল ও বিজেপি দুই দলের বিরুদ্ধেই।''

কিন্তু যে প্রশ্নটা নিয়ে রাজ্যের রাজনীতিতে জল্পনা প্রবল, তা হলো, কংগ্রেস কি একা যাবে না কি বামেদের সঙ্গে জোট করে যাবে? অধীর জানিয়েছেন, ''বামেদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করার জন্য আব্দুল মান্নান, মনোজ চক্রবর্তী ও নেপাল মাহাতোকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তাঁরা কী করছেন সেটা দেখি। তারপর সিদ্ধান্ত হবে।''

আব্দুল মান্নান বরাবরই বামেদের সঙ্গে জোটের পক্ষে। তিনি ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, জোটের সুফল আমরা অতীতে পেয়েছি। এ বার দেখা যাক কী হয়।

তাঁর বিরোধীরাও স্বীকার করেন, অধীরের সব চেয়ে বড় গুণ হলো লড়াইয়ের ময়দানে শেষ সময় পর্যন্ত থেকে সামনে থেকে দলের নেতৃত্ব দেওয়া। পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের ভোট শোচনীয়ভাবে কমেছে। তিনটি জেলা ও অন্যত্র কিছু পকেটে কংগ্রেসের প্রভাব আছে। কংগ্রেস থেকে নেতা-কর্মী-ভোট তৃণমূল ও বিজেপি-তে চলে গেছে অনেকটাই। এই অবস্থায় অধীরের লড়াইটা কঠিন, খুবই কঠিন। কিন্তু সেই কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে লড়াইয়ের ময়দানে নেমে পড়েছেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী। যিনি এতদিন নিজের জেলায় দলকে বারবার সাফল্যের মুখ দেখিয়েছেন। এ বার পশ্চিমবঙ্গে দেখানোর দায়িত্ব পড়েছে তাঁর উপরে।    

 

বিজ্ঞাপন