যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছেন নারীরা | বিশ্ব | DW | 10.12.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছেন নারীরা

বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার ঘোষণার ৭০তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল৷ তাতে বলা হয়, যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছেন সারা বিশ্বের নারীরা৷

 তবে বিশ্বের ক্ষমতাধর নেতারা পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছেন৷ ২০১৮ সালে বিশ্বব্যাপী নারীরা তাঁদের বিরুদ্ধে হওয়া যৌন ও শারীরিক নির্যাতনের প্রতিবাদেসোচ্চার হয়েছেন, অনেক দেশের নারীই এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন৷ বিশেষ করে ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, আর্জেন্টিনা, আয়ারল্যান্ড এবং পোল্যান্ডের নারীরা বেশ কয়েকটি ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন৷

বৈশ্বিক মানবাধিকারের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকায় যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, আর্জেন্টিনা, আয়ারল্যান্ড ও পোল্যান্ডে গর্ভপাত আইন নিয়ে প্রতিবাদে নারীদের অংশগ্রহণ অনেক বেড়েছে৷

মি-টু আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং জাপানে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছেন নারীরা৷

অ্যামনেস্টির মহাসচিক কুমি নাইড়ু লিখেছেন, ‘‘ভারতের নারী অধিকার কর্মী হাসনা মেহেতা আর্টিকেল ওয়ান-এর ‘ইউনিভার্সাল ডিক্লেয়ারেশন' পরিবর্তন করেছেন৷ আগে যা ছিল, ‘সব পুরুষ জন্মগতভাবে সমান এবং স্বাধীন৷' তিনি এটি পরিবর্তন করে ‘সব মানুষ স্বাধীন ও সমান অধিকার নিয়ে জন্ম নেয়' করেছেন৷'' তবে নাইড়ু এ-ও বলেছেন, মানবাধিকার ঘোষণার ৭০ বছর পেরিয়ে গেলেও বর্তমানে নারীদের মানবাধিকার আদায়ে লড়াই করতে হচ্ছে, যা দুঃখজনক৷

তাই বিশ্বের ক্ষমতাধর নেতাদের উদ্দেশে আবেদন জানিয়েছেন, যাতে তাঁরাও নারী অধিকার নিশ্চিত করতে সোচ্চার হন৷ নারীরা যাতে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারে এবং কোনোধরনের বৈষম্য বা সহিংসতার শিকার না হয়৷

অ্যামনেস্টি তাদের রিপোর্টে বলছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন বৈষম্যমূলক আইনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সোচ্চার হয়েছেন নারীরা৷ যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি পরিবার পরিকল্পনা ক্লিনিকগুলোতে ব্যয় কমানো হয়েছে, যার ফলে কয়েক লাখ নারীর স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে রয়েছে৷ যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতির নিন্দা জানিয়েছে অ্যামনেস্টি৷

ইউরোপীয় ইউনিয়নেরও সমালোচনা করেছে অ্যামনেস্টি৷ রিপোর্টে বলা হয়েছে. ইইউ-এর এক তৃতীয়াংশ দেশে এখনো ধর্ষণকে অনুমতি ছাড়া যৌন সম্পর্ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়৷ পাশাপাশি ফেসবুক, টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর উদ্দেশে অ্যামনেস্টি বলেছে, নারীর প্রতি কোনো ধরনের সহিংসতা বা অবমাননামূলক পোস্ট দেখলে বা নারী অধিকারের লঙ্ঘন হয় এমন কোনো পোস্ট করলে সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যাতে ব্যবস্থা নেয়া হয়৷

রিপোর্টে ইয়েমেনে হামলা চালানোর জন্য সৌদি আরবের কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে৷ লাখ লাখ মানুষ সেখানে অনাহারে মারা যাচ্ছে উল্লেখ করে অবিলম্বে হামলা বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে রিপোর্টে৷

ইউরোপ জুড়ে শরণার্থী ইস্যুতে যে অসহিষ্ণুতা, ঘৃণা ও বৈষম্য বেড়ে চলেছে তার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অ্যামনেস্টি৷ অভিবাসী ও শরণার্থীদের প্রতি যাতে সবার দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক হয়, সেজন্য ইইউ নেতাদের আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি৷

টিমোথি ইয়োনেস/এপিবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন