‘ম্যার্কেল ব্যর্থ হতে বাধ্য′ | বিশ্ব | DW | 15.02.2016
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

‘ম্যার্কেল ব্যর্থ হতে বাধ্য'

২০১৬ সালের মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে দু'জনের অনুপস্থিতি লক্ষণীয়: আঙ্গেলা ম্যার্কেল ও ভ্লাদিমির পুটিন৷ ম্যার্কেল পড়েছেন রাজনৈতিক চাপে, যে ব্যাপারে পুটিন দৃশ্যত খুশি – দেখছেন ডয়চে ভেলের ক্রিস্টিয়ান ট্রিপে৷

জন ম্যাককেইন রাজনীতিতে আছেন বহুদিন৷ আরিজোনা রাজ্যের রিপাবলিকান রাজনীতিক বছরে একবার ইউরোপীয়দের তাঁর মতামত জানিয়ে থাকেন সুস্পষ্ট ভাষায় – সেই সঙ্গে থাকে নিরাপত্তা নীতি সংক্রান্ত সাবধানবাণী৷ মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে তাঁর আবির্ভাব ধীরে ধীরে আন্তঃ-অতলান্তিক কিংবদন্তিতে পরিণত হচ্ছে৷ ম্যাককেইনকে সাধারণত প্রশংসা করতে শোনা যায় না: এ বছর কিন্তু তিনি চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলকে তাঁর নেতৃত্বের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তাঁর ভাষণ শুরু করেছেন৷

ম্যার্কেলের মিত্রের সংখ্যা কমছে

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও এ খবর পৌঁছেছে যে, জার্মান চ্যান্সেলর এখন চাপের মুখে – যার ফলে তিনি তাঁর চ্যান্সেলরত্ব হারাতে পারেন; অপরদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একজন নির্ভরযোগ্য মিত্র হারাবে৷ ম্যার্কেল এ বছর মিউনিখের নিরাপত্তা সম্মেলনে দেখা দেননি বটে, কিন্তু মিউনিখে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হয়েছে, শুধু আলোচনা কেন, সম্ভবত নির্ধারিত হয়েছে৷

মিউনিখের মুক্তমঞ্চে ফরাসি প্রধানমন্ত্রী মানুয়েল ভাল্স প্রকাশ্যভাবে ঘোষণা করেছেন যে, তাঁর দেশ জার্মানির উদ্বাস্তু নীতি প্রত্যাখ্যান করে৷ ফ্রান্স আর অতিরিক্ত উদ্বাস্তু নিতে রাজি নয় এবং ম্যার্কেল যে একটি বিশেষ ফর্মুলা অনুযায়ী অপরাপর ইইউ দেশকে উদ্বাস্তু নিতে দায়বদ্ধ করাতে চান, প্যারিস তার বিরোধী৷ কাজেই উদ্বাস্তু প্রসঙ্গে ম্যার্কেলের পাশে যে একজন শক্তিশালী মিত্র থাকবে, সে আশায় জল ঢালা হয়ে গিয়েছে৷ ইউরোপীয় ইউনিয়নের আসন্ন শীর্ষবৈঠকে ম্যার্কেলের পরাজয় অবধারিত৷

01.2016 DW Quadriga Moderator Christian Trippe (Teaser)

ক্রিস্টিয়ান এফ ট্রিপে

উদ্বাস্তু সংকট ইতিমধ্যেই ম্যার্কেলের রাজনৈতিক ইন্ধন এমনভাবে শুষে নিয়েছে যে, তিনি বহুক্ষেত্রে তাঁর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন – সকলে হয়ত যা খেয়াল করেননি৷ দু'বছর আগে রাশিয়া যখন ক্রাইমিয়া দখল করে ও পূর্ব ইউক্রেনের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অস্ত্র ও যোদ্ধা দিয়ে সাহায্য করতে শুরু করে, তখন জার্মানি সংকট সমাধানে কূটনৈতিক নেতৃত্ব দিয়েছিল৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজে আগ না বাড়িয়ে জার্মানদের পথ নির্দেশ করার সুযোগ দিয়েছিল৷

বিগত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র নীতি বদলে ইউক্রেন সংকটে ক্রমেই আরো বেশি সংশ্লিষ্ট হয়ে পড়ছে – নীরব কূটনীতির মাধ্যমে মিন্সক চুক্তিকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে, সেই উদ্দেশ্যে রুশিদের সঙ্গে গোপন আলাপ-আলোচনা চালাচ্ছে৷ তাঁর প্রেসিডেন্সি সমাপ্ত হওয়ার আগে ওবামা যদি আরো একটি কূটনৈতিক সাফল্য দেখাতে পারেন, তো ক্ষতি কি? কিন্তু আর একটি কারণ হলো: বিগত কয়েক মাসে জার্মান-ইউক্রেনীয় কূটনীতি তার গতিবেগ হারিয়েছে৷

ম্যার্কেল দুর্বল হলে মস্কোর আপত্তি নেই

একটি যোগসূত্র স্পষ্ট: জার্মানিতে যত বেশি উদ্বাস্তু আসবে, ম্যার্কেলের চ্যান্সেলরশিপ অন্যান্য বিষয়ে ততই আরো কম শক্তি ব্যয় করতে পারবে৷ এমনকি একটি বৃহৎ ষড়যন্ত্র নিয়েও গবেষণা চলেছে: পুটিন যে সিরিয়ায় আসাদ বিরোধীদের উপর বিমান হানা চালাচ্ছেন, তার ফলে আরো বেশি মানুষ জার্মানিতে পালাচ্ছেন, ফলে ম্যার্কেল আরো দুর্বল হয়ে পড়ছেন এবং হয়ত পদত্যাগ করতে বাধ্য হবেন৷

যা প্রমাণ করবে যে, পুটিন সুদক্ষ পুতুলনাচিয়ের মতো উদ্বাস্তুর স্রোত এদিক সেদিক বইয়ে দিয়ে স্বয়ং চ্যান্সেলরদের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারেন৷ অপরদিকে আরেক দৃষ্টিকোণ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্বয়ং ইউরোপীয় ধারণা তথা আঙ্গেলা ম্যার্কেলের চ্যান্সেলরশিপের ক্ষতিসাধন করছে৷

সেই ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের ঢেউ অনুভব করা গেছে মিউনিখের বলরুমে৷ জার্মানির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ম্যার্কেলের উদ্বাস্তু নীতির সবচেয়ে বড় সমালোচক হলেন বাভারিয়ার মুখ্যমন্ত্রী হর্স্ট সেহোফার৷ তিনি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ম্যার্কেলের বিশ্বাসভঙ্গ করে মস্কোয় গিয়ে পুটিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন৷ সেনেটর জন ম্যাককেইনের কাছে তা এতটাই অপ্রীতিকর যে, তিনি শনিবার মিউনিখে সেহোফারের আমন্ত্রিত নৈশভোজ বর্জন করেছেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন