1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

মিউনিখ থেকে মিউনিখ – পরাশক্তির খেলা

সপ্তাহান্তের মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন এবারও স্মরণীয় হয়ে থাকবে পরাশক্তিদের ক্ষমতার লড়াইয়ের পটভূমি হিসেবে৷ রাশিয়া ও পশ্চিমা বিশ্বের বর্তমান সংঘাত নিয়ে মন্তব্য করেছেন ক্রিস্টিয়ান ট্রিপে৷

রাশিয়ার কি দীর্ঘমেয়াদি কোনো কৌশল আছে? নাকি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পরাশক্তি হিসেবে পুরানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা করে চলেছেন? বছরখানেক আগে ভ্লাদিমির পুটিন-এর ক্রাইমিয়া দখল ও ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে হাইব্রিড যুদ্ধের সময় থেকেই পররাষ্ট্র নীতি বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকরা এ নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করে চলেছেন৷

এতকাল মিউনিখের নিরাপত্তা সম্মেলনে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ-এর বেশ কদর ছিলো৷ রাশিয়ার ক্ষমতাকেন্দ্রে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি পশ্চিমা জগতের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেন৷ এভাবে তিনি গত কয়েক বছরে অনেক রাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা হলেও প্রশমিত করতে পেরেছেন৷ এবারে কিন্তু তাঁর কথা শুনে বিরক্তি, ক্ষোভ ও শ্লেষভরা হাসি দেখা গেছে৷ অনেকটা আবৃত্তিকারের মতো তিনি রুশ প্রচারণাযন্ত্রের তালে তাল মিলিয়ে গোটা সংকটের ভুল ও বিপজ্জনক ব্যাখ্যা করে গেছেন, যার মূলমন্ত্র হলো – সব দোষ আসলে পশ্চিমা বিশ্বর৷ সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে পড়ার পর থেকে তারা সুপরিকল্পিতভাবে রাশিয়ার অপমান করে চলেছে৷

Deutschland Münchner Sicherheitskonferenz 2015 MSC Sergei Lawrow

মিউনিখে লাভরভের মুখেও শ্লেষভরা হাসি

জ্বালাময়ী বক্তৃতার মঞ্চ

এমন মনোভাবের যৌক্তিক পরিণতিও স্পষ্ট৷ গত দুই দশকের অপমানের বদলা নিতেই রাশিয়া ঘুরে দাঁড়িয়েছে৷ অর্থাৎ নৈতিকতার বিচারেও রাশিয়ার আচরণ বৈধ৷ ক্ষোভে ফেটে পড়ে লাভরভ বলেন, বার্লিন প্রাচীর পতনের পর পশ্চিমা বিশ্ব এমন আচরণ করে চলেছে, যেন তারাই শীতল যুদ্ধে জয়লাভ করেছে৷ কিন্তু সেটাই কি ঘটে নি? রাজনীতিতে নিজেকে ভুল বোঝানোর প্রবণতা অনেক সময় নিজের ক্ষমতা সম্পর্কে ভুল ধারণার জন্ম দেয়৷ তখন অ্যাডভেঞ্চারের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়৷

সেই ২০০৭ সালেই লাভরভ-এর ‘বস' ভ্লাদিমির পুটিন মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনকে এক জ্বালাময়ী ভাষণের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন৷ সে বছর বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো তিনি আচমকা অ্যামেরিকা ও ন্যাটো-র বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন৷ এখন ফিরে তাকালে মনে হতে পারে, পুটিন-এর সেই আস্ফালন মোটেই ফাঁপা ছিল না৷ তার ঠিক পরের বছরগুলিতে রাশিয়ার পররাষ্ট্র নীতির মধ্যেই তার চিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল৷ জর্জিয়া, মলডোভিয়া, ক্রাইমিয়া, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের ঘটনা কারো অজানা নয়৷ এ বছর লাভরভ-এর ভাষণ যেন পুটিন-এর সেই ভাষণেরই উপসংহার ছিলো৷

পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে নতুন সংঘাত

ভবিষ্যতের ঐতিহাসিকদের মনে যদি প্রশ্ন জাগে, কবে ও কী ভাবে নতুন শীতল যুদ্ধ শুরু হয়েছিলো, তখন তাঁরা মিউনিখের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারবেন৷ তখন মিউনিখ-কেই পূর্ব ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে সংঘাতের পটভূমি হিসেবে গণ্য করা হতে পারে৷ তবে এবারে সেই শীতল যুদ্ধ যেন কিছুটা পঙ্গু হয়ে ফিরে এসেছে৷ পশ্চিমা বিশ্বে কেউ এই সংঘাত চাইছে না, কারণ এবার কোনো আদর্শ বা প্রতিযোগিতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না৷ রাশিয়াও কোনো বিকল্প আদর্শগত মডেল খাড়া করতে পারছে না৷

Russland Kreml Moskau

ক্রেমলিনের নীতি স্বদেশের স্বার্থের বিরোধী

রাশিয়ার রাজনৈতিক নেতৃত্ব তাদের নিজেদের দেশের বিরুদ্ধে কাজ করছে৷ কোনো যুক্তি বা প্রস্তাব নিয়ে তাঁরা মাথা ঘামাতে প্রস্তুত নন৷ ক্ষমতা ও হিংসার নীতি নিয়েই তাঁরা ব্যস্ত৷ ১৯৩৮ সালেও এই মিউনিখ শহরেই একই রকম একটা ঘটনা ঘটেছিলো৷ সে সময়ে পশ্চিমা বিশ্বের ধারণা হয়েছিলো, চেকোস্লোভাকিয়া-র অভিমত না নিয়ে সুডেটেনলান্ড জার্মানির হাতে তুলে দিলেই হিটলার-কে শেষ পর্যন্ত সামলানো যাবে৷ ফলে ‘মিউনিখ' নামটা শুনলেই ইউক্রেনে আজ ত্রাসের সৃষ্টি হচ্ছে৷ সেখানে বড় পরাশক্তিগুলির খেলার বল হতে চায় না৷

বুধবার মিনস্ক শহরে শান্তি আলোচনায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পেট্রো পোরোশেঙ্কো-ও অংশ নেবেন৷ সেখানে উপস্থিত চার শীর্ষ নেতা ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে অস্ত্র বিরতি নিয়ে আলোচনা করবেন৷ তবে তার ফলাফল যাই হোক না কেন, পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে ব্যবধান কাটার কোনো সম্ভাবনা নেই৷ রাশিয়া মিউনিখ সম্মেলনে যে অবস্থান নিয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে এমনটা বলা যেতে পারে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন