‘মুক্তি আপা’ নামে প্রখ্যাত সেই খালেদা খানম | মুক্তিযুদ্ধ | DW | 09.05.2012
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

মুক্তিযুদ্ধ

‘মুক্তি আপা’ নামে প্রখ্যাত সেই খালেদা খানম

শরীয়তপুরের সাহসী নারী খালেদা খানম৷ দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য তিনি এতোটাই সক্রিয়ভাবে গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঘুরে কাজ করতেন যে, শরীয়তপুর অঞ্চলে তাঁকে সবাই ‘মুক্তি আপা’ নামেই চিনতো৷

১৯৪৯ সালে শরীয়তপুরে জন্ম খালেদা খানমের৷ পিতা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ এবং মা রাজিয়া বেগম৷ শরীয়তপুরে জন্ম হলেও পিতার চাকুরির সুবাদে ছোট্ট থেকেই তিনি চট্টগ্রামে৷ নন্দন কানন স্কুল, চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ এবং পরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কেটেছে তাঁর শিক্ষা জীবন৷ ১৯৬৬ সাল থেকেই ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত৷ এরপর চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে পড়ার সময় তিনি আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে সামনের সারিতে চলে আসেন৷

এছাড়া ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানেও সক্রিয় ছিলেন খালেদা৷ আর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর প্রথম ছাত্র সংসদ নির্বাচনে তিনি মহিলা সম্পাদিকা হিসেবে নির্বাচিত হন৷ সেসময় চট্টগ্রামে মহিলা রাজনীতিকের সংখ্যা খুব কম ছিল বলে একইসাথে মহিলা আওয়ামী লীগের সাথেও কাজ করতেন খালেদা খানম৷ শুধু তাই নয়, তাঁরা পাঁচ বোনই রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন৷ ফলে তাঁদের বাড়ি ছাত্র লীগের ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছিল৷ এমনকি আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রায়ই তাঁদের বাসায় আসতেন, বৈঠক করতেন বলে ডয়চে ভেলের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে জানান খালেদা খানম৷

মুক্তিযুদ্ধের শুরুর দিকের ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘‘মুক্তিযুদ্ধ শুরুর দু'দিন আগে ২৪শে মার্চ আমরা মিছিল-মিটিং করছি৷ নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা জহুর আহমেদ চৌধুরী৷ তাঁর কাছ থেকে আমরা খবর পাই যে, চট্টগ্রামে জাহাজ থেকে অস্ত্র নামানো হচ্ছে৷ আমরা তখন সিদ্ধান্ত নিলাম জাহাজ থেকে অস্ত্র নামানো ঠেকাবো৷ তাই আমরা মিছিল করে বন্দরের দিকে রওয়ানা দিলাম৷ আমরা মহিলারা সামনে ছিলাম৷ এরপরেই ছাত্র লীগ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ছিলেন৷ কিন্তু আগ্রাবাদে গিয়ে আমরা কাঁদানে গ্যাস ও গুলির মুখে পড়ি৷ ফলে সেখান থেকে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় এবং অস্ত্র নামানো আমরা ঠেকাতে পারিনি৷''

Khaleda Khanam

খালেদা খানম

২৬শে মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর খালেদা খানম এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা শরীয়তপুরে গ্রামের বাড়িতে চলে যান৷ কিন্তু দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য যিনি সেই কলেজ জীবন থেকেই আন্দোলন করছেন তিনি তো আর বাড়িতে গিয়ে চুপ করে বসে থাকতে পারেন না৷ সেখানে গিয়ে ভাবতে থাকেন কীভাবে স্বাধীনতা যুদ্ধের সাথে কাজ শুরু করা যায়৷ অবশেষে কীভাবে একদিন সেই সুযোগ তৈরি হলো তা জানালেন খালেদা খানম৷

তাঁর ভাষায়, ‘‘একদিন দেখলাম একটা ছেলে আসল চাদর গায়ে দিয়ে৷ প্রথমে আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না যে, সে কে এবং কেন আসল৷ তারপর সে আমাকে দেখে বলল, আমি মুক্তিযোদ্ধা৷ মুক্তিযোদ্ধাদের একটা দল আসছে ভারত থেকে৷ তখন আমি তাকে আমাদের বাড়িতে রাখলাম এবং সব খোঁজ খবর নিলাম৷ এরপর স্টুয়ার্ড মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ভারত থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল আসল৷ আমাদের বাড়িটা ছিল অনেক বড়৷ বাড়িতে অনেকগুলো ঘরও ছিল৷ ফলে আমরা আমাদের বাড়িটাকে মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাঁটি বানিয়ে ফেললাম৷ কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের খবর গ্রামের কেউ যেন পাক সেনা কিংবা তাদের দোসর রাজাকারদের না দেয়, সেজন্য আমি এবং আমার বোন রাশিদা আমিন গ্রামের মহিলাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বোঝাতে শুরু করলাম৷ গ্রামের মানুষ তো এটাকে গণ্ডগোল বলতো৷ কিছুই বুঝতো না৷ তাদেরকে বোঝালাম স্বাধীনতা কী, যুদ্ধ কী? কে কার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে এবং কেনইবা যুদ্ধ করছে? আমি ব্যক্তিগতভাবে একটা নৌকা নিয়ে গ্রামে গ্রামে গিয়ে মানুষদের মুক্তিযুদ্ধের বিষয়টি বোঝাতাম৷ বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে উঠান বৈঠক করতাম৷ এমনকি আমার এসব কর্মকাণ্ডের কারণে শরীয়তপুরের মানুষ আমাকে ‘মুক্তি আপা' বলে ডাকা শুরু করেছিল৷ এভাবে আমরা গ্রামের নারী-পুরুষদের বুঝিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠন করে ফেলি৷ কারণ তা না হলে গ্রামের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন অভিযান খুব ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়তো৷ এরপর আমরা আগ্রহী নারীদের নিয়ে আমাদের বাড়িতেই মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে অস্ত্র চালনা এবং প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ নেওয়া শুরু করি৷ আমাদেরকে স্টেনগান, রিভলবার, গ্রেনেড ছোঁড়ার প্রশিক্ষণ দিল৷ আমাদের বাড়িটা এতোই বড় ছিল যে, এসব প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাড়ির ভেতরেই অনায়াসে করা যেতো৷''

প্রতিবেদন: হোসাইন আব্দুল হাই

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও