মানুষের উপর আলোর প্রভাব | অন্বেষণ | DW | 30.11.2015
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

মানুষের উপর আলোর প্রভাব

আলো যে আমাদের জন্য কতটা জরুরি তা আমরা ভুলে যাই৷ কর্মক্ষমতা থেকে শুরু করে ঘুম, অনেক কিছুই নিয়ন্ত্রণ করে আলো৷ জার্মান বিজ্ঞানীরা ‘ডায়নামিক লাইট'-এর মাধ্যমে ঘরের মধ্যে আলোর চরিত্র বদলে দেবার চেষ্টা করছেন৷

অফিস-আদালতে আলোকসজ্জার ক্ষেত্রে অনেক ভুল করা হয়৷ তাতে শুধু বিস্তর বিদ্যুৎ খরচ হয় তাই নয়, কর্মীদের কর্মক্ষমতাও কমে যায়৷ বাল্ব ও কম্পিউটার মনিটর থেকে আলোর কারণে ক্লান্তি, মনোযোগের অভাব বা মাথাব্যথা দেখা দেয়৷

শরীরের উপর আলোর নানা প্রভাবের কারণেই এমনটা ঘটে৷ আলো গবেষক অলিভার স্টেফানি বলেন, ‘‘আমাদের উপর আলোর মোটামুটি ৩ রকমের প্রভাব রয়েছে৷ একটা অবশ্যই বায়োলজিক্যাল প্রভাব৷ অর্থাৎ আলো আমাদের বায়োলজিক্যাল ক্লক নিয়ন্ত্রণ করে৷ তাছাড়া অবশ্যই আলোর কারণে আমরা দেখতে পাই৷ সেই দৃশ্য মনের মধ্যে আবেগেরও সৃষ্টি করে৷ সেই আবেগ আমাদের ভালো থাকার জন্য জরুরি৷''

Indien Lichtfest Diwali

দীপাবলী: আলোকের ঝর্ণাধারা

সবচেয়ে উপযুক্ত হলো স্বাভাবিক দিনের আলো৷ ফ্রাউনহোফার ইনস্টিটিউটের আলো গবেষকরা তাই অফিসের মধ্যেই আকাশ নিয়ে এসেছেন৷ গোটা ঘর জুড়েই যেন আকাশ ছেয়ে রয়েছে, এমনকি মেঘের ছায়াও নকল করা হচ্ছে৷ ঠিক যেন মনে হবে, ঘরে নয় – বাইরে বসে রয়েছি৷ প্রায় ৩৫,০০০ এলইডি বাতি দিয়ে কৃত্রিম এই ‘ডায়নামিক' আকাশ তৈরি করা হয়েছে, যা ১ কোটি ৬০ লক্ষেরও বেশি রং ফুটিয়ে তুলতে পারে৷ অলিভার স্টেফানি বলেন, ‘‘মানুষ এই এই ডায়নামিক লাইট পছন্দ করছে, সেটাই বড়ো কথা৷ তাদের ভালো নাও লাগতে পারতো৷ এই আলো মানুষকে আরও সজাগ রাখে, মনকে তরতাজা করে তোলে৷ আমরা লক্ষ্য করেছি, বিশেষ করে সৃজনশীল কাজের ক্ষেত্রে মানুষ ডায়নামিক লাইট বেশি পছন্দ করেন৷''

পরীক্ষায় দেখা গেছে, সকালের দিকে এই আলোর মধ্যে নীল অংশ বেশি থাকে এবং সক্রিয় থাকতে ও মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে৷ বিকালের দিকে বেশি লাল অংশসহ আরেকটু উষ্ণ আলোই ভালো৷ এই আলো ছুটির আগাম আভাস দেয়৷

‘ইন্টেলিজেন্ট' টেবিলও একই ভাবে কাজ করে৷ এর মূল সুবিধা হল, আলোর শক্তি ও রংয়ের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব৷ পরীক্ষায় দেখা গেছে, মানুষ সকালের দিকে নীল আলো পছন্দ করে, যা সক্রিয় থাকতে সাহায্য করে৷ বিকালের দিকে লাল আলোই তাদের পছন্দ, যা মনকে শান্ত রাখে৷ গ্রীষ্মে আলোর ছটা শীতল হলেই ভালো, আর শীতে উষ্ণ৷

শুধু বাতি নয়, কম্পিউটার মনিটরের আলোও চোখের মাধ্যমে আমাদের ভালো-মন্দ বোধ ও কর্মক্ষমতাকে প্রভাবিত করে৷ সন্ধ্যায় পর্দায় নীল আলো কমাতে বিজ্ঞানীরা বিশেষ এক ধরনের মনিটর তৈরির কাজ করছেন, যাতে নীল অংশ কম৷ ফ্রাউনহোফার ইনস্টিটিউট-এর আখিম প্রস বলেন, ‘‘আমরা এই মনিটরে লাল, সবুজ ও নীলের সংমিশ্রণে সাদা রং তৈরি করছি৷ লাল ও নীল রংয়ের বিভিন্ন মাত্রা দিয়ে সেটা করা সম্ভব৷ নীলের একটি শেড বা মাত্রা মানুষকে দিনের বেলা সক্রিয় থাকতে সাহায্য করে৷ অন্য একটি শেড ততটা শক্তিশালী নয়, তার প্রভাব অনেক শান্ত৷ অর্থাৎ রাতের জন্য তা উপযুক্ত৷''

আলোর মাধ্যমে কম্পিউটার বা মনিটরের কাজ সহজ করে তোলা সম্ভব৷ যেমন এক্ষেত্রে কম্পিউটার, মনিটর, কিবোর্ড ও মাউসের মধ্যে বিভাজন ঘুচিয়ে তোলা হয়েছে৷ দুটি শক্তিশালী প্রোজেক্টর এক সাধারণ টেবিলের উপর নানা ডিজিটাল ডকুমেন্ট ফুটিয়ে তোলে৷

আলো আমাদের ঘুম ও জেগে থাকার ছন্দও নিয়ন্ত্রণ করে৷ মনমেজাজ ও শরীরের অনেক ক্রিয়ার উপরেও তার প্রভাব রয়েছে৷ তাই ঘরের মধ্যে সচেতনভাবে আলোর ব্যবহার আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে৷ অলিভার স্টেফানি বলেন, ‘‘ভবিষ্যতে আলোর বিষয়টি আরও ইন্টেলিজেন্ট হয়ে পড়বে৷ অর্থাৎ ভবিষ্যতের আলোকসজ্জা আমাদের উপর লক্ষ্য রাখবে৷ কখন ঘুম ভাঙলো, কীভাবে অফিসে গেলাম, এর মধ্যেই যথেষ্ট দিনের আলো পেয়েছি কিনা, সে সব জেনে নেবে৷ সেই অনুযায়ী তা আলোর ছটা স্থির করবে৷''

আপাতত অনুকূল আলোকসজ্জার ব্যবস্থা নিজেকেই করতে হবে৷ তবে আজও ‘সঠিক আলো' মনঃসংযোগ বাড়াতে ও ভালো থাকতে সাহায্য করতে পারে৷ স্বাস্থ্যের জন্যও তা ভালো৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন