মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ সবাই গুরুত্ব দিয়ে শুনবে? | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 23.03.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সংবাদভাষ্য

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ সবাই গুরুত্ব দিয়ে শুনবে?

মানুষ এই মুহূর্তে যা যা দেখতে চায়, শুনতে চায় সেসব নিয়ে বললে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণ অবশ্যই বাড়তি গুরুত্ব পাবে৷ অবশ্য সেসবের জন্য ২৫ শে মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে কেন সেটা খুব বড় প্রশ্ন৷

বিশ্বের অন্য সব দেশের মানুষের মতো বাংলাদেশের জনগণও এখন নভেল করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে৷ প্রতিটি দিবস, প্রতিটি রজনীই এখন দুশ্চিন্তার৷ এই পরিস্থিতিতেই মহান স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্যই দিয়েছেন সড়ক, পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের৷

বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছে মহান স্বাধীনতা দিবসের গুরুত্ব অপরিসীম৷ তবে এখন সময়টা খুব খারাপ৷ বিশ্বের প্রতিটি দেশের সরকারের সামনেই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মানুষকে করোনার হাত থেকে বাঁচানো৷ এ বড় কঠিন চ্যালেঞ্জ৷ অনেকেই বলছেন, অন্যরকম এক 'বিশ্বযুদ্ধ' পরিস্থিতি চলছে বিশ্বজুড়ে৷

এই যুদ্ধে সব দেশ, সব মানুষই প্রায় সমান অসহায়৷ কারণ, কেউ জানে না কিভাবে ধ্বংস করা যাবে করোনা ভাইরাস৷ ভ্যাকসিনই এখনো আবিষ্কৃত হয়নি, ধ্বংস করবে কী করে!

তাই বাঁচার উপায় মাত্র দুটো৷ সংক্রমণ এড়ানোর সব ব্যবস্থা করা এবং কেউ সংক্রমিত হয়েছে বা হতে পারে মনে হলে, তাকে আলাদা করে নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং চিকিৎসা করা৷

এসব কাজে বাংলাদেশ যে অনেকাংশে ব্যর্থ তা অস্বীকার করলে সত্যের অপলাপ হবে৷

সংক্রমণ অনেক দেশে অনেক বেশি হয়েছে, মৃতের সংখ্যাও বাংলাদেশি খুব বেশি নয়- এসব বলে লাভ নেই৷ বলার আগে তাকাতে হবে ইটালি, স্পেন, ইরান, জার্মানিসহ করোনার আক্রমণে কাবু এবং প্রায়-কাবু দেশগুলোর দিকে৷

করোনা প্রথম আঘাত হেনেছিল চীনে৷ সংক্রমিতের সংখ্যা, মৃতের সংখ্যা প্রতিদিন হু হু করে বাড়ছিল সেখানে৷ কোয়ারান্টাইন, হোম কোয়ারান্টাইন, আইসোলেশন, লকডাউন ধাপে ধাপে মানুষকে সবগুলো পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যেতে বাধ্য করেছে তারা৷ সব সীমাবদ্ধতা মাথায় রেখেই নিশ্চিত করেছে চিকিৎসা৷ ফলে চীন এখন প্রায় নিশ্চিন্ত৷

ইটালি শুরুতে একেবারেই চীনকে অনুসরণ করেনি৷ একমাস আগে করোনায় সে দেশে প্রথম ব্যক্তির মৃত্যুর পর স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী কনটে বলেছিলেন, ‘‘"পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে৷’’

আসল কাজগুলো ঠিকভাবে না করে শুধু মুখের কথায় করোনাকে কিন্তু বাগে আনা যায়নি৷ মাত্র এক মাসের ব্যবধানে মৃতের সংখ্যায় চীনকে ছাড়িয়ে অনেক দূর এগিয়ে গিয়ে ইটালি এখন ধুঁকছে৷

Ashish Chakraborty

আশীষ চক্রবর্ত্তী, ডয়চে ভেলে

বৃহত্তর স্বার্থে অনেক সময় ‘‘আগে তিতা, পরে মিঠা’’ নীতি উত্তম। তার চেয়েও উত্তম ‘‘কথা কম, কাজ বেশি’’ নীতি৷ তাতে শৃঙ্খলা থাকে, কার্যসিদ্ধিও হয়৷

কিন্তু বাংলাদেশে প্রায় সব সংকটেই আমরা উল্টো চিত্র দেখি৷ দায়িত্বশীলদের কাছ থেকে শুরুতে খুব বেশি 'দায়িত্বহীন' কথা শুনতে হয়৷ তাতে অবস্থার আরো অবনতি হয়৷ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার উপক্রম হলে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সক্রিয় হতে হয় প্রধানমন্ত্রীকে৷ একেবারে কাম্য না হলেও বহুবার এমনই হয়েছে৷

করোনা-সংকটেও আমরা একই পরিস্থিতির মুখোমুখি৷ সংক্রমিত এবং মৃতের সংখ্যা বাড়ছে৷ দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসছে শঙ্কিত হবার মতো খবর৷

গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, এখন বাস্তবতা মেনে বিজ্ঞানসম্মত সিদ্ধান্ত না নিলে থার্ড স্টেজ, অর্থাৎ সবচেয়ে ভয়ঙ্কর পর্যায়ে চলে যেতে পারে বাংলাদেশ৷ এত ঘনবসতিপূর্ণ দেশে সেই পরিস্থিতি হলে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে৷

আশা করি, ২৫ শে মার্চের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের আলোকে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেবেন৷ সেখানে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় দেশের আরো কোনো কোনো অঞ্চল লকডাউন করা হবে, নাকি সারাদেশেই চলাচলে কিছুদিনের জন্য বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে -  এ এ বিষয়েও সরকারের সিদ্ধান্ত জানার আগ্রহ থাকবে সবার৷ এমন সিদ্ধান্তে কালক্ষেপনেরই চরম মাশুল দিচ্ছে ইতালি৷ দক্ষতা, সমন্বয়হীনতা এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থতার মাশুল আর যেন দিতে না হয় বাংলাদেশকে৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়