মহাজোটে গেলে চিড় ধরবে এসপিডি′তে? | বিশ্ব | DW | 14.01.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি

মহাজোটে গেলে চিড় ধরবে এসপিডি'তে?

‘আঙ্গেলা ম্যার্কেলের রক্ষণশীলদের সঙ্গে জোট? না ধন্যবাদ!' স্যাক্সনি রাজ্যে অনুষ্ঠিত সামাজিক গণতন্ত্রী দল এসপিডি’র আঞ্চলিক সমাবেশ থেকে এভাবেই মহাজোটে যাওয়ার পরিকল্পনার কড়া প্রতিবাদ করেছেন কর্মীরা৷

মূলত তরুণদের কাছ থেকে এসেছে এই প্রতিবাদ৷ সমাবেশে ‘মহাজোট, না ধন্যবাদ!' শিরোনামে দুই পৃষ্ঠার একটি নথি তুলে ধরা হয় এসপিডির নেতৃবৃন্দের সামনে, যেখানে জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রী জিগমার গাব্রিয়েলও ছিলেন৷

নথিটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে চ্যান্সেলর ম্যার্কেলের সিডিইউ ও তার বাভেরিয়ান সহযোগী সিএসইউর সঙ্গে মিলে মহাজোট সরকার গঠনের বিরোধিতা করা হয়৷

যদিও এসপিডির ২১ জানুয়ারির জাতীয় সমাবেশেই মূল সিদ্ধান্তটি নেয়া হবে, তারপরও আঞ্চলিক এ সমাবেশ থেকেই বার্তা পেয়ে গেছেন দলটির নেতারা৷

গাব্রিয়েল চাইছিলেন, সিডিইউ-সিএসইউ'র সঙ্গে টানা আলোচনার পর প্রাথমিকভাবে ২৮ পৃষ্ঠার যে সমঝোতায় তাঁরা পৌঁছেছিলেন, তার জন্য দলের কর্মীদের সমর্থন আদায় হোক৷ সমাবেশে সবার মাঝে এই সমঝোতার ডকুমেন্টটি বিলিও করা হয়৷ কিন্তু ফেরেন একরাশ হতাশা নিয়ে৷

দলটির তরুণ নেতা অ্যান ফিবিগ বলেন, ‘‘গত সমাবেশে যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছিল, তার অনেকগুলোই একেবারে উপেক্ষা করা হয়েছে৷ এই ডকুমেন্ট সমাজে ন্যায়প্রতিষ্ঠায় কোন গুরুত্ব বহন করে না৷''

ফিবিগ একটি লাল গোল ব্যাজমতো পরেছিলেন, যেখানে লেখা ছিল, ‘#নোগ্রোকো', যার অর্থ করলে দাঁড়ায়, ‘কোনো মহাজোট নয়!'

সমাবেশে আসা অন্যরাও তাদের দলের নেতৃবৃন্দের ব্যাপক সমালোচনা করেন৷ তারা বলেন, অভিবাসন ও শরণার্থী বিষয়ে রক্ষণশীল সিএসইউ'র যে অবস্থান, তাতেই সায় দেয়া হয়েছে, যা হতাশাজনক৷

‘‘এ এক সর্বনাশা অভিবাসন রাজনীতি৷ এর মূল্য দেবেন শরণার্থীরা৷'' বলছিলেন স্যাক্সনি রাজ্যের শ্রম মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা৷

পররাষ্ট্রমন্ত্রী গাব্রিয়েল প্রায় এক ঘন্টা বক্তব্য রাখেন৷ সেখানে তিনি এসব অভিযোগের প্রতি সহমর্মিতা জানালেও মোটা দাগে সিদ্ধান্তগুলো ইতিবাচক ফল আনবে সেটিই বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন৷ আলোচনায় এসপিডি দল সিডিইউ-সিএসইউ'র কাছে হার মেনে এসেছে তা মানতে নারাজ তিনি৷

‘‘ডকুমেন্টটিতে নেয়া সিদ্ধান্তগুলো অনেক বিচক্ষণতার সঙ্গে নেয়া হয়েছে৷ এটা ঠিক যে এখানে অনেক সীমাবদ্ধতা ছিল৷ কিন্তু তার মানে এই নয় যে সব খারাপ৷'' বলছিলেন তিনি৷

গাব্রিয়েল বলেন, ‘‘আমরা যদি সবকিছুর বিরোধিতা করি, তাহলে দল হিসেবে কি আমরা আরো শক্তি অর্জন করবো?'' কোনো ধরনের সমঝোতায় না গেলে এসপিডির ভোটাররা তা ভালোভাবে নিতো না বলেই মত তাঁর৷

গাব্রিয়েল বক্তব্যে নানা যুক্তি তুলে ধরলেও তা কানে ঢোকেনি তরুণ নেতাদের কানে৷ দলটির তরুণদের সংগঠন ইউজো'র চেয়ারম্যান কেভিন ক্যুহনার্ট জানিয়েছেন, ২১ তারিখ বনে হতে যাওয়া জাতীয় কংগ্রেসের আগে তিনি পুরো জার্মানি ঘুরবেন, এবং মহাজোটের বিরোধিতা করবেন৷

শুধু কেভিন নন, সামাজিক গণতন্ত্রী দলটির বামপন্থি অংশ এই মহাজোট সরকার গঠনের বিরোধিতা করছে৷ বনের কনফারেন্সের আগের এই এক সপ্তাহ তাঁরা তাঁদের সেই বিরোধিতার পক্ষে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করবেন৷

সাবিনে কিনকার্ৎজ (জেডএ)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়