ভারত নয়, ডিএসই’তে আসছে চীন | বিশ্ব | DW | 24.02.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

ভারত নয়, ডিএসই’তে আসছে চীন

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) শেয়ার কেনার জন্য আবেদন করেছে চীন এবং ভারতের দু'টি কনসোর্টিয়াম৷ এর মধ্যে চীনের প্রস্তাবই আকর্ষণীয় বিবেচনায় পছন্দের শীর্ষে রেখেছে ডিএসই৷ বাকিটা এখন নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের অপেক্ষায়৷

ডিএসই'র মালিকানার অংশীদার হতে সক্রিয় বিদেশি দু'টি জোটের একটি জোট বা কনসোর্টিয়াম হলো চীনের শেনজেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ মিলে৷ অন্যটি ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ (এনএসই), যুক্তরাষ্ট্রের নাসদাক ও বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান ফ্রন্টিয়ার বাংলাদেশ মিলে গঠিত হয়েছে৷

জানা গেছে, ডিমিউচুয়ালাইজেশনের অংশ হিসেবে গত সেপ্টেম্বরে ডিএসই'র ডাকা শেয়ার বিক্রির দরপত্রে অংশ নিয়ে চীনের জোটটি প্রতিটি শেয়ারের জন্য সর্বোচ্চ দর প্রস্তাব করে৷ তারা প্রতিটি শেয়ারের দাম প্রস্তাব করে ২২ টাকা৷

ভারতের জোট চীনের থেকে দর প্রস্তাবে পিছিয়ে আছে৷ তারা প্রতিটি শেয়ারের দাম প্রস্তাব করে ১৫ টাকা৷ ভারত এর সঙ্গে ডিএসসি'র দু'টি পরিচালকের পদও চায়৷ আর তারা পাঁচ বছর পর আবার এই শেয়ার বিক্রি করে দেয়ার কথা বলেছে তাদের প্রস্তাবে৷

অন্যদিকে চীন দীর্ঘদিন ডিএসইতে থাকতে চায়৷ আর তারা পরিচালকের পদ চায় একটি৷ তারা একইসঙ্গে ৩ কোটি ৭১ লাখ মার্কিন ডলারের কারিগরি সহায়তা দেয়ার কথাও বলেছে প্রস্তাবে৷ কিন্তু ভারতের প্রস্তাবে উন্নয়নের কথা থাকলেও কত অর্থ ব্যয় করবে তা সুনির্দিষ্ট করে বলা নাই৷

সব মিলিয়ে চীনের প্রস্তাব আকর্ষণীয় হওয়ায় গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ডিএসই'র পর্ষদ সভায় চীনা দুই স্টক এক্সচেঞ্জের কনসোর্টিয়ামকে অংশীদার করতেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়৷ এর

অডিও শুনুন 05:19
এখন লাইভ
05:19 মিনিট

‘ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনায় উন্নতি হবে৷ দক্ষতা বাড়বে৷ আধুনিকায়ন হবে’

আগের সভাতেই তারা এই সিদ্ধান্ত নেয়৷ তবে ভারতের পক্ষে নানামুখী চাপের কারণে দ্বিতীয়বারের মত পর্ষদ সভা করা হয় বলে জানা গেছে৷ তবে সেখানেও আগের সিদ্ধান্তই বহাল রাখা হয়৷

ডিএসই'র চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবুল হাশেম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাজেদুর রহমান ওই দিন সাংবাদিকদের জানান, ‘‘দেশের প্রধান স্টক এক্সচেঞ্জ এবং জাতীয় স্বার্থ- উভয় দিক বিবেচনা করেই পর্ষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ আইন অনুযায়ী পর্ষদের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির অনুমোদন লাগবে৷''

ডিএসই গত বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে তাদের প্রস্তাব জমা দিয়েছে৷ চীনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিলেও বিবেচনার জন্য ডিএসই চীন ও ভারতের দু'টি প্রস্তাবই পাঠিয়েছে বিএসইসি'র কাছে৷

তাদের প্রস্তাব যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বৃহস্পতিবারই জরুরি সভা করে বিএসইসি চার নির্বাহী পরিচালকের সমন্বয়ে একটি কমিটি করেছে ৷ এই কমিটিকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কমিশনের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে৷ বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে জানয়েছেন,‘‘কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিএসইসি এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে৷''

দৈনিক সমকালের বিজনেস এডিটর জাকির হোসেন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘২০১০ সালে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বড় ধ্বসের পর স্টক এক্সচেঞ্জের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা আলাদা করার আইন হয়৷ ব্যবস্থাপনা পৃথক করা সংক্রান্ত ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন অনুযায়ী, ডিএসই'র মোট শেয়ার ২৫০ সদস্যের মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করা হয়৷ এসব শেয়ারের মধ্যে ৪০ শতাংশ সদস্যদের নিজেদের জন্য আলাদা করা হয়৷ বাকি ৬০ শতাংশ শেয়ার সদস্যদের বাইরে বিক্রির জন্য আলাদা করে ব্লক হিসেবে রাখা হয়৷ এই ৬০ শতাংশ শেয়ারের মধ্যে ২৫ শতাংশ বা ৪৫ কোটি ৯ লাখ ৪৪ হাজার ১২৫টি শেয়ার কৌশলগত বা স্ট্র্যাটেজিক বিনিয়োগকারীর কাছে বিক্রি করতে হবে৷''

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রির ফল কী হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘ঢাকা স্টকএক্সচেঞ্জ পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠান না৷ তারা সাধারণ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রিও করেনা৷ তারা পরিচালনার সঙ্গে জড়িত৷ তাই এর শেয়ার কিনে যে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এখনই লাভবান হবেন তা নয়৷ তবে স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনায় উন্নতি হবে৷ দক্ষতা বাড়বে৷ আধুনিকায়ন হবে৷ এটা হলে শেয়ার বাজারে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে৷ আর মনে রখতে হবে সাংহাই স্টক একচেঞ্জ বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম এবং শেনজেন অষ্টম বৃহত্তম স্টক এক্সচেঞ্জ৷ তারা এখানেও বিনিয়োগ করে নিশ্চয়ই লাভ করতে চাইবে৷ তাই বাংলাদেশের শেয়ার বাজারের উন্নয়ন তাদের ব্যবসার জন্যই তারা করবে৷ তারা নিজেরাও শেয়ার বাজারে বিদেশি বিনিয়োগ আনার চেষ্টা করবে৷''

অডিও শুনুন 03:11
এখন লাইভ
03:11 মিনিট

‘দক্ষতা বাড়লে পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরে আসবে’

ডিএসই'র মোট শেয়ার ১শ' ৮০ কোটি৷ আর প্রতিটি শেয়ারের ফেস ভ্যালু ১০ টাকা৷ সেই হিসেবে সব শেয়ারের মোট দাম ১ হাজার ৮শ' কোটি টাকা৷ ২৫ শতাংশ শেয়ারের দাম প্রতিটি ২২ টাকা দরে চীন প্রস্তাব করেছে ৯৯৩ কোটি টাকা৷ আর ভারত ১৫ টাকা দরে যে প্রস্তাব করেছে তাতে দাঁড়ায় ৬৬৭ কোটি টাকা৷

জাকির হোসেন আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘২৫ ভাগের বেশি শেয়ার স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারদের কাছে বিক্রি করতে পারবে না ডিএসই৷ তাই এবার চীন ২৫ ভাগ কিনে ফেললে ডিএসই'র শেযার আর দেশের বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির সুযোগ থাকবেনা৷''

এ নিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলতে রাজি হননি৷ তবে একজন পরিচালক জানান, সব দিক বিচেনায় তাঁদের কাছে চীনের কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাবই সেরা মনে হয়েছে৷ আরেকটি দেশের পক্ষে অনেক চাপ ছিল৷ তবে তাঁরা দেশের কল্যাণেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন৷ তিনি আরো বলেন যে, আইন অনুযায়ী, আগামী ৮ মার্চের মধ্যে কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রির প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে এবং তা করা হবে৷ আর আইনে ডিএসইর পর্ষদে কৌশলগত বিনিয়োগকারীর জন্য একটি পরিচালক পদ সংরক্ষিত রাখা হয়েছে৷ বিএসইসি'র অনুমোদন একটি আইনি প্রক্রিয়া৷

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ‘‘বিদেশি বিনিয়োগকারী নেয়া আইনি বাধ্যবাধকতারই অংশ৷ এখন স্টক এক্সচেঞ্জ তাদের স্বার্থে যাদের ভাল মনে করে তাদেরই নেবে৷''

ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন অন্বেষণ-এর প্রধান ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর মনে করেন, দর, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও পরিচালকের সংখ্যা এই তিন বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএসইসি৷

‘‘এই তিন বিবেচনায় তাদের কাছে চীনই ভালো মনে হয়েছে৷ আমি ব্যক্তিগতভাবে এই বিদেশি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করি৷ এতে ডিএসই'র মান এবং গ্রহণযোগ্যতার সাথে আন্তর্জাতিক পরিচিতি বাড়বে৷ এর প্রভাব পুঁজি বাজারেও পড়বে৷''

তবে তিনি মনে করেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সক্ষমতা বাড়াতে হবে৷ ‘‘তাদের পুঁজিবাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে কাজ করতে হবে৷ স্টক এক্সচেঞ্জে বিদেশি বিনিয়োগ আসলে পুঁজি বাজারেও আসবে৷ আর সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও এতে উৎসাহিত হবেন৷ তাই নিয়ন্ত্রক সংস্থা সক্ষম এবং দক্ষ না হলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অতীতের মত যদি বিপদ হয় তাহলে তাদের রক্ষা করার কেউ থাকবে না৷'' ডয়চে ভেলেকে বলছিলেন তিনি৷ 

 

ডিএসই’র সিদ্ধান্তকে কীভাবে দেখছেন? মন্তব্য করুন নীচের ঘরে৷ 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়