ব্যায়াম হিসেবে পথের জঞ্জাল কুড়ানোর উদ্যোগ | অন্বেষণ | DW | 17.06.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

ব্যায়াম হিসেবে পথের জঞ্জাল কুড়ানোর উদ্যোগ

ভারতের রাজপথ থেকে জঞ্জাল দূর করতে সরকার-প্রশাসনের উপর নির্ভর না করে একদল মানুষ অভিনব এক উদ্যোগ চালাচ্ছেন৷ জগিংয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাস্তা পরিষ্কারের এই প্রয়াসে অনেক মানুষ অংশ নিচ্ছেন৷

রিপু দমন বেওলি এক মিশনে বেরিয়েছেন৷ তিনি ভারতের শহরগুলির পথঘাট জঞ্জালমুক্ত করতে চান৷ সে দেশে দিনে প্রায় ২৫ হাজার টন জঞ্জাল ফেলা হয় বলে এই সংকল্প বড় এক চ্যালেঞ্জ৷ তবে বেশ কিছু সময় ধরে রিপু দমন সাহায্য সংগ্রহ করছেন৷ গোটা দেশে তিনি হাজার হাজার সহযোগী খুঁজে পেয়েছেন৷ পাঁচ বছর ধরে ওয়ার্ক-আউট বা ব্যায়াম হিসেবে তাঁরা জঞ্জাল সংগ্রহ করছেন৷

এমন উদ্যোগকে ‘প্লগিং' বলা হয়৷ সুইডিশ ভাষায় ‘প্লকা' অর্থাৎ তুলে নেওয়া এবং ইংরাজি ভাষায় জগিং শব্দদুটির সমন্বয়ে নতুন এই সংজ্ঞা তৈরি হয়েছে৷ গোটা বিশ্বে এই প্রবণতা ছড়িয়ে পড়ছে৷ ভারতে অবশ্য এই উদ্যোগ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে৷ রিপু বলেন, ‘‘কুড়ানিওয়ালা, পৌরকর্মী, নিকাশি ব্যবস্থার কর্মীদের মতো মানুষ আপনার এলাকায় এসে পথঘাট, পার্ক সাফাই করেন৷ হিন্দীতে আমরা তাদের ‘কাচরাওয়ালা' বলি৷ কারণ আমরাই চারিদিকে নোংরা ফেলি, ছড়াই৷ কিন্তু কীভাবে সেই বার্তা পৌঁছানো সম্ভব? অন্য লোকের ছড়ানো জঞ্জাল পরিষ্কার করাকে বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় শখ করে তোলাই আমাদের লক্ষ্য৷''

ভিডিও দেখুন 04:09

পথের জঞ্জাল কুড়ানো যখন ব্যায়াম

তিনি সম্ভবত সঠিক পথেই চলেছেন৷ সফল ইকো-ফিটনেস ব্যক্তিত্ব হিসেবে রিপু বেশ পরিচিতি পাচ্ছেন৷ ২০১৯ সাল থেকে তিনি ৭৫টি শহরে ৪০০ প্লগিং দৌড় আয়োজন করেছেন৷ প্রত্যেক দৌড়ের শেষে শহরের কোনো কালেকশন পয়েন্টে জঞ্জাল নিয়ে যাওয়া হয়৷ অংশগ্রহণকারী প্লগার হিসেবে পার্থ বক্সি মনে করেন, ‘‘এটা শুধু এক দিনের অভিযান নয়৷ এই উদ্যোগ টেকসই করে তুলতে হবে৷ কোনো ভালো কাজ করলেই আমাদের শরীর থেকে এন্ডোমরফিন বেরিয়ে আসে৷ আমার মতে, এখন আমার শরীরে এন্ডোমরফিন ভরপুর৷ তাই এখন খুব উৎসাহ-উদ্দীপনা টের পাচ্ছি৷ আমি অবশ্যই নিজের সমাজে সেটা ছড়িয়ে দেবো৷''

পূণে ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের সবচেয়ে নোংরা শহরগুলির অন্যতম৷ আবার ভারতের প্লগিং আন্দোলনের জন্মও সেখানেই হয়েছে৷ বিবেক গুরভ সেই আন্দোলন শুরু করেন৷ শুরু থেকেই তিনি এই গোষ্ঠীর সঙ্গে রয়েছেন৷ দেখতে দেখতে সদস্যসংখ্যা প্রায় ২,৪০০ ছাড়িয়ে গেছে৷ বিবেক বলেন, ‘‘অনেকে বলেছেন যে তারা সরকারকে কর বাবদ অনেক টাকা দেন৷ ফলে জঞ্জাল দূর করার দায়িত্ব আমাদের নয়, সরকারের কাঁধে থাকা উচিত৷ বিষয়টিকে ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করে মানুষকে বোঝাতে হয়েছে, যে আমরাই এই কাজ করতে পারবো, রূপায়ন করতে পারবো৷ একাই ৩০ দিনের জন্য প্লগিংয়ের চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলাম৷''

পরিবেশগত অ্যাক্টিভিজম বা আন্দোলনের সঙ্গে ফিটনেসের সংযোগ ঘটিয়ে রিপু ও বিবেক নিজেদের অনুগামীদের উদ্বুদ্ধ করতে পেরেছিলেন৷ তবে পুণে প্লগারদের উচ্চাকাঙ্ক্ষার শেষ নেই৷ তারা শুধু জঞ্জাল সংগ্রহ করা নয়, সেই জঞ্জাল কাজে লাগিয়ে নতুন কিছু একটা করতে চান৷ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা বিবেক গুরভ বলেন, ‘‘আমরা যে জঞ্জাল সংগ্রহ করি, তার একটা বড় অংশ পুনর্ব্যবহার করা যায়৷ পুণে প্লগার্সের সঙ্গে যুক্ত বেসরকারি কোম্পানিগুলির কাছে সেগুলি পাঠিয়ে দেই৷ তাছাড়া নানা আকারের কাচের বোতলও আমরা পাই৷ সেগুলিকে হস্তশিল্প বা সাজানোর সামগ্রিতে রূপান্তরিত করার চেষ্টা করি৷ পুণেতে গ্রামীণ নারীদের সেই লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে৷''

ভারতের মানুষের মধ্যে পরিবেশবাদ সম্পর্কে উৎসাহ বাড়ছে৷ বেশিরভাগ মানুষ শহরে থাকেন এবং বহুকাল ধরেই কিছু একটা করার তাগিদ অনুভব করছেন৷ পথেঘাটে প্লাস্টিক জঞ্জাল জীবনের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ সেই জঞ্জাল নষ্ট হতে কমপক্ষে ৪৫০ বছর সময় লাগবে৷ প্লগাররা মোটেই অতদিন অপেক্ষা করতে প্রস্তুত নন৷

স্ক্রল/টাবেয়া/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন