‘বেশি করে মাছ খান, স্ট্রোকের ঝুঁকি কমান′ | বিজ্ঞান পরিবেশ | DW | 03.10.2011
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞান পরিবেশ

‘বেশি করে মাছ খান, স্ট্রোকের ঝুঁকি কমান'

‘মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে...' কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই আকুলতা যেন প্রতিটি মানুষের চোখে-মুখে ফুটে ওঠে৷ অথচ একটু বয়স হলেই দেখা যায় স্ট্রোকের প্রবণতা৷ কারো ক্ষেত্রে সামান্য হলেও, অনেকেরই মৃত্যু ডেকে আনে স্ট্রোক৷

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

আন্তর্জাতিক গবেষণা থেকে জানা গেছে, অধিক পরিমাণে মাছ খাওয়ার মাধ্যমে স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাসের কথা৷ তবে তাই বলে প্রত্যেক বেলার খাবারে মাছ থাকতেই হবে - তা নয়৷ বরং বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রত্যেক সপ্তাহে অন্তত কয়েক বেলা খাবার টেবিলে মাছ রাখলেই এই লাভের আশা করা যায়৷ সুইডেনের ক্যারোলিন্সকা ইন্সটিটিউটের গবেষক সুজানা লারসন এবং নিকোলা অরসিনি ‘স্ট্রোক' নামের বৈজ্ঞানিক সাময়িকীতে লিখেছেন মাছ খাওয়ার সাথে স্ট্রোকের সম্পর্কের কথা৷

বিজ্ঞানীরা বলছেন, মাছের দেহে থাকা ওমেগা-৩ নামের ফ্যাটি অ্যাসিড মানুষের দেহের রক্ত চাপ এবং কোলেস্টেরলের উপর ইতিবাচক ক্রিয়া করে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান এবং ইউরোপের ১৫টি বৈজ্ঞানিক গবেষণা বিশ্লেষণ করে এমন ফল পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা৷ এসব গবেষণায় ৩০ থেকে ১০৩ বছর বয়সি প্রায় চার লাখ মানুষ অংশ নেন৷ এই গবেষণাগুলোতে অংশগ্রহণকারীদের জিজ্ঞেস করা হয়েছিল তারা কী হারে মাছ খেয়ে থাকেন৷ এরপর চার থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত তাদের পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে যে তাদের মধ্যে কারা স্ট্রোকের শিকার হচ্ছেন৷

এই গবেষণাগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘হার্ভার্ড স্কুল পাবলিক হেলথ'-এর বিজ্ঞানী ডারিউশ মোজাফফারিয়ানের পরীক্ষা-নিরীক্ষা৷ তিনি তাঁর পরীক্ষার ফলাফলে বলেন, ‘‘আমি মনে করি, মাছ থেকে সার্বিকভাবে ভালো পুষ্টি পাওয়া যায়৷ আর বিশেষ করে ওমেগা-৩ স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখে৷'' তিনি জানান, ‘‘অনেকগুলো পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে, সপ্তাহে দুই থেকে তিন বেলা মাছ খেলেই এই উপকার পাওয়া সম্ভব৷''

Lachs Fillets NO FLASH

‘স্যামন' এবং ‘হেরিং' জাতীয় সামুদ্রিক মাছসহ চর্বিযুক্ত মাছগুলো থেকে এই উপকার বেশি মাত্রায় পাওয়া সম্ভব বলে বিজ্ঞানীরা একমত

মাছের দেহে থাকা ভিটামিন ডি, সেলেনিয়াম এবং বেশ কিছু আমিষও এক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে উল্লেখ করেন মোজাফফারিয়ান৷ বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রত্যেক সপ্তাহে তিন বেলা মাছ খেলে স্ট্রোকের ঝুঁকি ছয় শতাংশ কমে যায়৷ তাঁদের মতে, সারাজীবন বেশ ভালো পরিমাণে মাছ খায় এমন একশ' জন মানুষের মধ্যে হয়তো কোনো একজনের হালকা স্ট্রোক ঘটতে পারে৷ তবে বিজ্ঞানী মোজাফফারিয়ান বিষয়টিকে আরো খানিকটা সুস্পষ্ট করে বলছেন, যারা শুধুমাত্র ভাজা মাছ কিংবা মাছের তৈরি স্যান্ডউইচ খান তারা স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাসে মাছের যে উপকার তা খুব একটা পান না৷ অবশ্য তিনি স্ট্রোক থেকে বাঁচার জন্য বেশি করে মাছ খাওয়ার পাশাপাশি সুষম খাদ্য, নিয়মিত শরীর চর্চা, স্বাস্থ্য বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ব্যাপারেও সুপারিশ করেন৷

যাহোক, সাধরণত ‘স্যামন' এবং ‘হেরিং' জাতীয় সামুদ্রিক মাছসহ চর্বিযুক্ত মাছগুলো থেকে এই উপকার বেশি মাত্রায় পাওয়া সম্ভব বলে বিজ্ঞানীরা একমত৷ স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাসে মাছের ভূমিকা সম্পর্কে বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ মামুন কবির ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘মাছের দেহে থাকা কয়েক ধরণের ফ্যাটি অ্যাসিড মানুষের দেহে বিদ্যমান ক্ষতিকর অ্যাসিডগুলোকে কমিয়ে দেয়৷ এছাড়া একটি ভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, মাছের ফ্যাটি অ্যাসিড মানুষের দেহের প্লাটিলেট অ্যাগ্রেগেশন হ্রাস করে৷ ফলে রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া সহজতর হয়, যা স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস করে৷'' খাবার তালিকায় মাছের অনুপস্থিতির ফলে মানুষের দেহে কী ধরণের প্রভাব পড়তে পারে - এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘মাছ খাওয়ার পরিমাণ কম হলে আমিষের ঘাটতি হতে পারে৷ ফলে আমিষের ঘাটতি জনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে৷''

সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে, আর দেরি নয়৷ স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে মাছ খাওয়া বাড়াতে হবে এখন থেকেই৷

প্রতিবেদন: হোসাইন আব্দুল হাই

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন