বিভূতিভূষণের বাড়ি ঘিরে পুরসভার উদাসীনতা | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 17.01.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

বিভূতিভূষণের বাড়ি ঘিরে পুরসভার উদাসীনতা

কে বেশি বাঙালি, তা নিয়ে প্রতিযোগিতায় নেমেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক দলগুলি৷ অথচ কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণের বাড়ি যখন ভেঙে পড়েছে, তখন যেন দায় নেই কারও! হইচই হওয়ায় অবশেষে উদ্যোগ নিয়েছে পুরসভা৷

বিধানসভা ভোটের আগে বাঙালিয়ানা, বাংলার সংস্কৃতি বা মনীষীদের উপর ভর করে লাভ পেতে চাইছে সব দলই৷ কিন্তু কার্যক্ষেত্রে এর উলটোটাই দেখা যাচ্ছে৷ ফেসবুকে কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুত্রবধূ মিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘‘বহু জায়গায় দরবার করে দেখেছি আমাদের মতো ক্ষুদ্র ক্ষমতার লোকেরা এদের কোটি কোটি টাকার খেলায় কিছুই করতে অপারগ৷ ওদের কাছে বিভূতিভূষণ কে?’’ তারপরেই ব্যারাকপুরে ‘আরণ্যক' স্রষ্টার বাড়ির সমস্যা নিয়ে শোরগোল শুরু হয়৷

অডিও শুনুন 03:42

যে সমস্ত অমূল্য জিনিস নষ্ট হয়েছে, তার কি ক্ষতিপূরণ হয়: মিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায়

সমস্যা কী?

ব্যারাকপুর স্টেশন রোড সংলগ্ন সুকান্ত সদন এলাকায় বাড়িটির নাম ‘আরণ্যক'৷ ৭০ বছর আগে বিভূতিভূষণের স্ত্রী রমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তৈরি এই বাড়িটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি বলেই আশেপাশে পরিচিত৷ এই বাড়িতে এখনও সাহিত্যিকের পরিবার থাকেন৷ তাঁর নানা সৃষ্টির সম্ভার ও ব্যবহৃত নানা জিনিসপত্র এবং পাণ্ডুলিপি নিয়ে গড়ে উঠেছে ‘স্মারক ভবন'৷ কিন্তু এই বাড়ির গা ঘেঁষে দু-বছর ধরে পুরসভার যে বাণিজ্যিক বহুতল ভবন উঠছে, তাতে বাড়ির যেমন ক্ষতি হয়েছে, তেমনই নাজেহাল বাড়ির বাসিন্দারাও৷ বাড়ির সদস্যদের অভিযোগ, বাড়ির একাংশে ফাটল ধরেছে, দু-দিকের পাঁচিল ভেঙে পড়েছে, চিড় ধরেছে বাড়ির দেয়ালে৷ বাড়িতে শান্তি যেমন নেই, তেমনি নিরাপত্তাও নেই৷ লকডাউনে কাজ বন্ধ ছিল৷ আবার কাজ শুরু হতেই কম্পন ও শব্দের প্রাবল্যে জিনিসপত্র ভেঙে যাচ্ছে, বাসিন্দারা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন৷

সাহিত্যিকের পুত্রবধূ মিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায় ডয়চে ভেলেকে বলেন, '‘‘যে সমস্ত অমূল্য জিনিস নষ্ট হয়েছে, তার কি ক্ষতিপূরণ হয়? আর কোথায় পাব সে সব? সবসময় কাপ-ডিশ ভেঙে পড়ে যাচ্ছে৷ ভয়ংকর অবস্থা৷ আমি শ্যুগার, প্রেশারে ভুগি৷ আজ বাড়ি ভেঙে পড়ার দুশ্চিন্তায় রাতে ঘুমোতে পারছি না৷”

প্রথিতযশা শিল্পী মিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে গান শিখতে বহু ছাত্রী আসেন৷ তিনি বলেন, "বাড়িতে এখন গান শেখানোর পরিবেশ যেমন নেই, তেমনই নেই নিরাপত্তা৷ বাড়ি বেআব্রু হয়ে গিয়েছে৷ যখন তখন চুরি-ডাকাতিও হয়ে যেতে পারে৷” প্রশাসনের সব মহলের দ্বারস্থ হয়েও তেমন কোনো লাভ হয়নি৷ ক্ষতিপূরণের আশ্বাসটুকুই সার৷ পুরসভা তখনকার মতো দু-তিনটে খুঁটি লাগিয়ে হাল ছেড়ে দেয়৷ এদিকে শেষ হতে বসেছে সাহিত্যিকের অমূল্য সব সাহিত্যকর্ম! নিকাশি নালা বন্ধ হওয়ার দরুণ বর্ষার জল সংগ্রহশালায় ঢুকে পড়ে৷ মার্বেল দিয়ে উঁচু করেও লাভ হয়নি৷ ইতিমধ্যে ‘পথের পাঁচালী'র পাণ্ডুলিপি ও তার প্রথম সংস্করণ, বহু বিদেশি অনুবাদের কাজ ধ্বংস হয়েছে৷ নষ্ট হয়েছে সযত্নে রক্ষিত বিভূতিভূষণের স্মৃতি, তাঁর ব্যবহৃত পোশাক৷

অডিও শুনুন 01:58

শুধু মুখেই বলা হচ্ছে যে, বাংলার মনীষীদের সম্মান দিচ্ছি: শীলভদ্র দত্ত

চাপানউতোর

প্রথম দিকে কেউই কোনো গুরুত্ব দিচ্ছিলেন না৷ ফেসবুকে মিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলমে পুরসভার উদাসীনতা উঠে আসার পরই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এই সমস্যার খবর প্রকাশিত হয়৷ পরপর জনপ্রতিনিধিরা পরিদর্শনে আসা শুরু করেন৷ চলতে থাকে দোষারোপও৷ কিন্তু মনীষীর পরিবারের অভিযোগকে এমন অবহেলা করা হলো কেন? ব্যারাকপুরের বিধায়ক শীলভদ্র দত্ত ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সংস্কৃতির কথা বলে মন জয় করার জন্য বাংলার শাসক দল মানুষের সামনে একটা ছবি তুলে ধরতে চাইছে৷ শুধু মুখেই বলা হচ্ছে যে, বাংলার মনীষীদের সম্মান দিচ্ছি, কিন্তু কাজটা হচ্ছে না৷ বিভূতিভূষণের বাড়ির উপর যে আক্রমণ তাই প্রমাণ করে৷’’

অবশেষে

বিষয়টি নিয়ে হইচই হওয়ার পর ১৪ জানুয়ারি পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা পরিদর্শনে আসেন৷ তাঁদের রিপোর্টের ভিত্তিতে সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুরসভা৷ মুখ্য পুর প্রশাসক উত্তম দাস মিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লেখা চিঠিতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে সুকান্ত সদনে পুরসভার প্রকল্পের জন্য ভেঙে ফেলা পাঁচিল গড়ে দেওয়া হবে৷ এই বাড়ির একতলার দেয়ালে যে ফাটল ধরেছে তা মেরামত করা হবে৷ শুধু তাই না, সুকান্ত সদন এলাকায় পুরসভার চলতি প্রকল্পের জন্য ভবিষ্যতে সাহিত্যিকের বাড়িতে কোনো ক্ষতি হলে তা সংস্কারের ব্যবস্থা করবে পুরসভা৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন