‘বাংলার ম্যারাডোনা’ নামটি আমার জন্য অনেক গর্বের | আলাপ | DW | 27.11.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকার

‘বাংলার ম্যারাডোনা’ নামটি আমার জন্য অনেক গর্বের

বাংলাদেশেরও তো একজন ম্যারাডোনা ছিলেন -- ‘বাংলার ম্যারাডোনা'৷ সৈয়দ রুম্মন বিন ওয়ালী সাব্বির৷ আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির সঙ্গে খেলার ধরন এবং শারীরিক গড়নে মিল থাকায় হয়েছিল তাঁর সে আদুরে নামকরণ৷

 সৈয়দ রুম্মন বিন ওয়ালী সাব্বির

সৈয়দ রুম্মন বিন ওয়ালী সাব্বির, বাংলাদেশি সাবেক ফুটবলার

গণমাধ্যম ও সমর্থকদের কাছে৷ ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুতে ‘বাংলার ম্যারাডোনা' সাব্বিরেরও মন খারাপ৷ বিষণ্নতা নিয়েই কথা বললেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ওই ফুটবলারকে নিয়ে৷

প্রশ্ন : ম্যারাডোনার মৃত্যুর খবর কিভাবে পেয়েছেন?

সাব্বির : ওই সময়ে আমার বাসায় বিদ্যুৎ ছিল না৷ কানাডায় থাকা আমার বন্ধু আয়াজ হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে...

প্রশ্ন : মানে সাবেক ফুটবলার শেখ আয়াজ?

সাব্বির : হ্যাঁ৷ আয়াজ ফোন করে বলল, ‘দোস্ত, শুনছিস নাকি এ অবস্থা (ম্যারাডোনার মৃত্যু)?' আমি বললাম, ‘আমি তো দেখিনি দোস্ত'৷ ও বলল, ‘ফেসবুকে ভরে গেছে'৷ এর ১০ মিনিট পর বিদ্যুৎ এল৷ ফেসবুকে দেখলাম, ম্যারাডোনা মারা গেছেন৷ পরে টিভিতেও দেখলাম৷

প্রশ্ন : বন্ধু আয়াজের কাছে ম্যারাডোনার মৃত্যুর খবর শুনে আপনার প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া কী ছিল?

সাব্বির : এই ২০২০ সালে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধবের মৃত্যুর খবর শুনেছি অনেক৷ এখন ম্যারাডোনার মৃত্যুর খবর শুনে আসলেই খুব খারাপ লেগেছে৷ উনি আমাদের খুব প্রিয় খেলোয়াড়৷ বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার৷ স্বাভাবিকভাবেই তাই খারাপ লাগার কথা৷ যেহেতু আমরা তাঁর ভক্ত ছিলাম; ফুটবলে তাঁর অনুকরণ করতাম৷

প্রশ্ন : ম্যারাডোনা হয়তো আপনার সরাসরি বন্ধু কিংবা আত্মীয় না৷ তবে ফুটবলীয় অর্থে এক ধরনের নৈকট্য তো ছিলই৷ তাঁর মৃত্যু তাই আপনাকে প্রিয়জন হারানোর মতোই কষ্ট দিয়েছে নিশ্চয়?

১৯৮৬ সালে বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ জেতার পর ট্রফি হাতে উল্লাসিত ম্যারাডোনা

১৯৮৬ সালে বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ জেতার পর ট্রফি হাতে উল্লাসিত ম্যারাডোনা

সাব্বির : হ্যাঁ, অবশ্যই৷ ম্যারাডোনার মৃত্যু সবার কাছেই কষ্টদায়ক৷ মন খারাপ করা খবর৷ বিদায় তো সবাইকে নিতে হবে, এটাই নিয়ম৷ কিন্তু সবাই আশা করছিলেন, ম্যারাডোনা আরো সময় বাঁচবেন৷ সে হিসেবে (ম্যারাডোনার মৃত্যুতে) খারাপ লাগারই কথা৷

প্রশ্ন : আপনার কাছে ম্যারাডোনার কোন স্মৃতিটা সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে? ম্যারাডোনা নাম বললে প্রথমেই কী মনে হয়?

সাব্বির : ম্যারাডোনা বলতেই একটা আকর্ষণ৷ তিনি এমন এক ফুটবলার, তাঁর অঙ্গভঙ্গি, কথাবার্তা আকৃষ্ট করে প্রতিটি মানুষকে৷ প্রতিটি রিপোর্টারকে, প্রতিটি ক্যামেরাম্যানকে৷ ম্যারাডোনা একটা ক্রেজ৷ বিশ্বে আর কোনো ফুটবলারকে ঘিরে এমন ক্রেজ রয়েছে কিনা, সন্দেহ৷

প্রশ্ন : ১৯৮৬ বিশ্বকাপ আপনার কিরকম মনে আছে?

সাব্বির : ম্যারাডোনার জন্য '৮৬ ছিল স্বর্ণযুগ৷ এর আগে খুব সম্ভবত '৭৮ কিংবা '৮০-তে বিশ্ব যুব বিশ্বকাপ হয়েছিল...

প্রশ্ন : ১৯৭৯ সালে৷

সাবিবর : হ্যাঁ, সেবার আর্জেন্টিনাকে এককভাবে শিরোপা জেতান ম্যারাডোনা৷ একা জেতান ১৯৮৬ বিশ্বকাপও৷ এ ধরনের ফুটবলার খুব বিরল, যুগে যুগে আসেন খুবই কম৷

প্রশ্ন : ১৯৮৬ বিশ্বকাপ কোথায়, কিভাবে দেখেছেন মনে আছে?

সাব্বির : বাসায়ই টিভিতে দেখেছি বেশিরভাগ৷ বন্ধুবান্ধবের সঙ্গেও দেখেছি৷

প্রশ্ন : '৮৬ বিশ্বকাপের ওই সময়ে কি আপনি আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করতেন?

সাব্বির : আমি আসলে ব্রাজিলের সমর্থক৷ পরবর্তী সময়ে আর্জেন্টিনার সমর্থক হয়ে যাই৷

প্রশ্ন : ম্যারাডোনার কারণে?

সাব্বির : হ্যাঁ৷

প্রশ্ন : ১৯৯০ বিশ্বকাপে যে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হয়, সেখানে তাহলে আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করেছেন?

সাব্বির : (হেসে) এটি ভিন্ন ব্যাপার ছিল৷ এক দিকে ব্রাজিল আমার প্রিয় দল, অন্য দিকে আর্জেন্টিনা প্রিয় দল ম্যারাডোনার জন্য৷ তাই খুব দ্বিধায় ছিলাম৷ তারপরও ভেতরে ভেতরে কেন জানি ম্যারাডোনাকে সমর্থন করেছিলাম৷

প্রশ্ন : খেলার ধরনের কারণে বাংলাদেশের মিডিয়া ও সমর্থকদের কাছে আপনার নাম হয়ে গিয়েছিল ‘বাংলার ম্যারাডোনা'৷ এটা আপনার জন্য কতোটা ভালো লাগার বিষয়?

সাব্বির : দারুণ৷ বাংলাদেশের জনগণ, ক্রীড়া সাংবাদিক, সমর্থক, ফুটবলপ্রেমী সবাই মিলে আমাকে এই সম্মান দিয়েছেন৷ এই নামটি দিয়ে তাঁরা আমার সম্মান অনেক বাড়িয়ে দিয়েছেন৷ এ জন্য আমি গর্বিত এবং সবাইকে ধন্যবাদ জানাই৷ হয়তোবা আমার ভেতরে ম্যারাডোনার খেলার কোনো ছাপ পেয়েছেন৷ ম্যারাডোনা পুরো মাঠ জুড়ে খেলতেন৷ যেখানে বল, সেখানেই ম্যারাডোনা৷ তিনি মাঠে নেতৃত্ব দিতেন; গেম মেকার ছিলেন৷ এটি আমি অনুসরণ করতাম৷ আক্রমণমণভাগের বাঁয়ে, ডানে, স্ট্রাইকিং পজিশনে সব জায়গায় খেলার চেষ্টা করতাম৷ ম্যারাডোনাকে দেখেই তা শিখেছি৷

প্রশ্ন : ‘বাংলার ম্যারাডোনা' নামটি প্রথম কিভাবে হয়েছিল, মনে আছে?

সাব্বির : ঠিক খেয়াল নেই৷ তবে পত্রিকায় এসেছিল৷ ক্রীড়াজগত কিংবা ক্রীড়ালোকের হতে পারে৷ আর গ্যালারি পতাকার মধ্যে মোহামেডান সমর্থকরা তা লিখে এনেছিল৷

প্রশ্ন : খেলা ছাড়ার এত বছর পরও যে ম্যারাডোনার সঙ্গে আপনার নাম জুড়ে আছে, পুরনো দিনের দর্শকরা বলেন ‘বাংলার ম্যারাডোনা'--- এটি আপনাকে কতোটা গর্বিত করে?

ইটালির গণমাধ্যমে ম্যারাডোনার মৃত্যুর সংবাদ

ইটালির গণমাধ্যমে ম্যারাডোনার মৃত্যুর সংবাদ

সাব্বির : অবশ্যই এটি আনন্দের বিষয়৷ আমাকে সম্মানিত করেছে আমার নামের সঙ্গে ম্যারাডোনার নাম সংযুক্ত করে৷ যদিও ম্যারাডোনা অনেক অনেক উপরের মানের ফুটবলার৷ সে তুলনায় আমি বাংলাদেশের অতি নগণ্য একজন ফুটবলার৷ উনি বিশ্বের সেরা ফুটবলার; এক নম্বর ফুটবলার৷ তাঁর সঙ্গে আমার নাম জুড়ে দেয়া অনেক গর্বের৷ আমাকে এ সম্মান দিয়েছেন সাংবাদিক-সমর্থকেরা। তাঁদের কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ৷

প্রশ্ন : মাঠের বাইরে ম্যারাডোনার নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ছিল৷ তাঁর সে অংশটাকে কিভাবে দেখেন?

সাব্বির : ম্যারাডোনা ক্রেজি ফুটবলার৷ দুর্ভাগ্য হল, ইতালিতে গিয়ে তাঁর সঙ্গটা খারাপ হয়ে যায়৷ সে কারণে জীবনটা বদলে যায়৷ আমার কাছে মনে হয়, ম্যারাডোনা সবসময় ব্যতিক্রম কিছু করার চেষ্টা করতেন৷ নিজে যেটি ভালো মনে করতেন, সেটিই করতেন৷ কে কী বলল না বলল, তা পাত্তা দিতেন না৷ বিতর্কিত এমন অনেক কিছু করেছেন, যা অন্য কেউ করবেন না৷ ড্রাগসের চক্রে পড়ে যান৷ নইলে তাঁর জীবনটা অন্য রকম হতে পারে৷ আসলে এ সব কিছু মিলিয়েই ম্যারাডোনা৷ তিনি যে ফুটবল ও আর্জেন্টিনা দলকে কেমন ভালোবাসেন, সেটি কয়েকটি বিশ্বকাপে দেখেছি৷ মানুষকে বিনোদন দেয়া তাঁর শোঅফ সবাইকে আকর্ষণ করে৷ মনে হয়, ফুটবলের জন্যই জন্মেছেন ম্যারাডোনা৷

প্রশ্ন : ফুটবল বদলেছে৷ এখন মেসি-রোনালদোর মতো খেলোয়াড় এসেছেন৷ সামনে হয়তো আরো আসবেন৷ কিন্তু সব মিলিয়ে আরেকজন ডিয়েগো ম্যারাডোনা কখনো আসবেন বলে মনে করেন?

ম্যারাডোনা; এখনও তো দেখা যাচ্ছে না৷ মেসির মধ্যে কিছুটা দেখেছি জনপ্রিয়তা বা রেকর্ডে৷ কিন্তু ম্যারাডোনার মতো ফুটবলার আবার কবে আসবে, সন্দেহ৷ উনি ব্যতিক্রমী এক ফুটবলার৷ অমন কাউকে পাওয়া মুশকিল৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন