ফাঁসির ভয়েই কি কমবে গণপিটুনির অপরাধ? | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 07.09.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

ফাঁসির ভয়েই কি কমবে গণপিটুনির অপরাধ?

গণপ্রহার রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ৷ রাজ্য বিধানসভায় পাশ হয়েছে গণপ্রহার প্রতিরোধ বিল৷ দোষী প্রমাণ হলে সর্বোচ্চ শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড৷ কিন্তু আইনই কি অপরাধের দাওয়াই, এই প্রশ্ন উঠছে৷

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষিপ্ত ভাবে গণপিটুনির ঘটনা ঘটছে৷ পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক অতীতে একের পর এক এ ধরনের ঘটনা সামনে এসেছে৷ নিছক সন্দেহের বশে মানুষকে পিটিয়ে মেরে ফেলছে উন্মত্ত জনতা৷ এতে যেমন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ-প্রশাসনের ব্যর্থতা উঠে আসছে, তেমনই এই অমানবিকতা সামাজিক মূল্যবোধ নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে৷ এর বিরুদ্ধে সরকারি স্তরে প্রচার হলেও বিশেষ লাভ হয়নি৷ নিরপরাধ মানুষ হিংসার শিকার হচ্ছে, এমনকী এক বহুরূপীকেও ছেলেধরা সন্দেহে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়৷ এর পরই রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, কঠোর আইন করা হবে গণপ্রহার রোধে৷

এই বিলের প্রাথমিক খসড়ায় সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে উল্লেখ ছিল যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের৷ কিন্তু অপরাধের গুরুত্ব বিচার করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, সর্বোচ্চ সাজা হবে মৃত্যুদণ্ড৷ সেই অনুযায়ী বিলে সংশোধনী আনা হয়৷ গণপিটুনিতে কারো মৃত্যু হলে বা অপরাধ প্রমাণ করা গেলে দোষীকে ফাঁসি দিতে পারে আদালত৷

কেউ গুরুতর আহত হলে অপরাধীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া যেতে পারে৷ আক্রান্ত ব্যক্তি আহত হলে তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে এই আইনে৷ তিন ক্ষেত্রেই দোষীকে জরিমানাও দিতে হবে৷ কার্যত সর্বসম্মতিক্রমে বিধানসভায় বিল পাশ হয়েছে৷ বাম ও কংগ্রেস বিলে সমর্থন জানিয়েছে৷ বিজেপি সমর্থন বা বিরোধিতা করেনি৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গ গণপিটুনি রোধে সারা দেশকে পথ দেখাল৷ কেন্দ্র একইরকম কঠোর আইন আনুক৷ গণপ্রহারে মৃতের পরিবারের সদস্যকে চাকরি ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও ভাবছে রাজ্য সরকার৷

গণপিটুনির একের পর এক ঘটনায় ইতিমধ্যেই রাজনীতির রং লেগেছে৷ তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি এ ধরনের ঘটনা সংগঠিত করছে৷ তারা গুজব ছড়াচ্ছে, অস্থিরতা তৈরি করছে৷ সব জায়গায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করাই এর লক্ষ্য৷ এই অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে বিজেপি৷

অডিও শুনুন 02:23

অম্বিকেশ মহাপাত্র

তাদের বক্তব্য, এটা একেবারেই একটি সামাজিক সমস্যা৷ তৃণমূল এর সঙ্গে রাজনীতিকে যুক্ত করছে৷ যদিও এর সঙ্গে দুটি বিষয়েরই যোগ আছে বলে মত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, নাগরিক অধিকার আন্দোলনের কর্মী অম্বিকেশ মহাপাত্রের৷ তিনি বলেন, "একটা রাজনৈতিক ঘূর্ণাবর্তের মধ্য দিয়ে আমরা চলেছি৷ প্রতিনিয়ত দলবদল হচ্ছে৷ তাতে কোনো নীতি-আদর্শের বালাই নেই৷ একটা অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে৷ নানারকম সমীকরণ গড়ে উঠছে৷ এর মধ্যে হঠাৎ একটা আইনে সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের সংস্থান রাখা রাজনৈতিক গিমিক ছাড়া কিছু নয়৷”

গণপিটুনি বা যৌথ ভাবে সংগঠিত হিংসার একটি মনস্তাত্ত্বিক দিক আছে৷ বিশিষ্ট মনোরোগ বিশেষজ্ঞ সমীরচন্দ্র দাস বলেন, "প্রত্যেকের মধ্যে যে হিংসা থাকে, এটা তারই একটি প্রকাশের মাধ্যম হয়ে উঠেছে৷ অনেকে একত্রিত হয়ে সেই হিংসার প্রকাশ ঘটাচ্ছে৷ এটা রুখতে মানসিকতার বদলও জরুরি৷” অধ্যাপক মহাপাত্র জোর দিয়েছেন সচেতনতা বৃদ্ধির উপর৷ তিনি বলেন, "আইন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না৷ রামমোহন রায়ের উদ্যোগে সতীদাহ নিবারণে আইন হওয়ার পরও কি কেউ সতী হননি? পরে চেতনা বাড়ার ফলে এই প্রথা নির্মূল হয়েছে৷ কিন্তু নির্ভয়া হত্যার পর কি ধর্ষণ বন্ধ হয়েছে? মৃত্যুদণ্ডের ভয়ে কেউ অপরাধ থেকে পিছু হঠবে, এটা ভাবা ভুল৷ আইন একটা রক্ষাকবচ মাত্র, অপরাধ বন্ধে প্রয়োজন সচেতনতা বাড়ানো৷”

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন