প্রথমে লিঙ্গ বদল, অতঃপর বিয়ে | বিশ্ব | DW | 26.08.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

প্রথমে লিঙ্গ বদল, অতঃপর বিয়ে

একজন আগে ছিলেন ছেলে, লিঙ্গ বদলে হলেন মেয়ে৷ আরেকজন ছিলেন মেয়ে, এখন তিনি ছেলে৷ দেখা একই ক্লিনিকে৷ সেখান থেকেই ভালো লাগা৷ এরপর বিয়ের সিদ্ধান্ত৷

চমকপ্রদ এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের মুম্বইতে৷ মঙ্গলবার এই জুটি জানালেন যে, বাগদান সম্পন্ন হয়েছে৷ ঘোষণাও দিলেন, একেবারে ঢাকঢোল পিটিয়ে বিয়ে করার৷ 

এদের একজনের নাম আরাব আপ্পুকুটান৷ জন্মেছিলেন মেয়ে হয়ে৷ কিন্তু এখন লিঙ্গ বদলে ছেলে হয়ে গেছেন৷ আর সুকন্যা কৃষ্ণা জন্মেছিলেন ছেলে হয়ে৷ এখন লিঙ্গ পালটে হয়ে গেছেন মেয়ে৷

বছর তিনেক আগে মুম্বইয়ের একটি লিঙ্গ বদল ক্লিনিকের ওয়েটিং রুমে দেখা৷ দু'জনই এসেছিলেন সার্জারি করতে৷ সেখানেই নাম্বার দেয়া-নেয়া৷ সেদিন থেকেই পরস্পরের প্রতি টানটা উভয়েই খুব বুঝতে পারছিলেন৷

‘‘সুকন্যাকে আইনগতভাবেই বিয়ে করতে চাই৷ আর বাকি জীবনটা ওর সঙ্গে কাটিয়ে দিতে চাই৷'' বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলছিলেন ৪৬ বছর বয়সি আরাব৷

লিঙ্গ বদলের আগের তিন দশকে প্রতি মুহূর্তে নিজের লিঙ্গ পরিচিতি নিয়ে নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করেছেন তিনি৷

‘‘সরকারি নথিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনগুলো করা পর্যন্ত অপেক্ষা করব৷ এরপর কেরালায় গিয়ে বিয়ে করব৷'' জানালেন আরাব৷

আইনগত কোনো বাধা না থাকলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে কেমন প্রতিক্রিয়া হবে, তা নিয়ে কিছুটা উদ্বিগ্ন এই জুটি৷

‘‘হিজড়াসহ সব রকমের ট্রান্সজেন্ডাররা প্রতিমুহূর্তে সমাজে নিগৃহীত হন৷ তাদের পরিবারও সব সময় শঙ্কিত থাকেন বিষয়টি নিয়ে৷ কিন্তু সমাজে পরিবর্তন আসা দরকার৷'' বললেন কৃষ্ণা৷

‘হিজড়া'-রা রাষ্ট্রীয়ভাবে তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃত হলেও ভারতের রক্ষণশীল সমাজে তাঁরা বৈষম্যের শিকার৷ এই বৈষম্যের কারণে তাঁরা ভিক্ষা বা পতিতাবৃত্তি বেছে নিতে বাধ্য হন৷

অস্ত্রোপচারের পর থেকে আরাবও এমন নানা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন৷ কাজ খুঁজে পাওয়া মুশকিল হয়ে পড়েছে৷ দুবাইয়ে যেতে চেয়েছিলেন৷ বিধি বাম৷ ভিসা মেলেনি৷

২১ বছর বয়সি কৃষ্ণা জানালেন, মেয়ে হবার বাসনা জানানোর পর তাঁর বাবা-মা-ই তাঁকে হরমোন ইনজেকশন দিতে থাকেন৷ আরাবের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে জানালেন, অনেক বাধা এসেছে, কিন্তু পিছ পা হননি৷

‘‘মানুষের কটুক্তি ও সমালোচনা শুনলে কাটা ঘায়ে নুনের ছিঁটার মতো লাগে৷ তাই আমাদের গল্প সবাইকে জানাতে চাই৷ তরুণ ট্রান্সজেন্ডারদের জন্য একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই৷''

গতানুগতিক হিন্দুমতেইবিয়ে সম্পন্ন করতে চায় এই জুটি৷ বিয়ের পর তাঁরা একটি শিশুও দত্তক নিতে চান৷ ‘‘আমাদের জৈবিক সীমাবদ্ধতা আছে৷ কিন্তু আমরা একটি বাচ্চা চাই৷ তাই দত্তক নেব৷ একটা সুখী ভবিষ্যতের জন্য আমরা সব বদলে দিতে চাই এবং একটি পূর্ণাঙ্গ পরিবার গঠন করতে চাই৷''

জেডএ/এসিবি (এএফপি, এপি)

প্রতিবেদনটি কেমন লাগলো? মন্তব্য করুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন