পাঞ্জাবেই শুধু সরকারি কর্মীদের ডোপ টেস্ট হয় | বিশ্ব | DW | 17.09.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ব্লগ

পাঞ্জাবেই শুধু সরকারি কর্মীদের ডোপ টেস্ট হয়

সরকারি কর্মীরা কাজ করেন না, ঘুষ নেন, অন্যকে ফাঁসিয়ে দেন, এমন অনেক দুর্নাম থাকলেও তারা মাদকাসক্ত এমন অভিযোগ নেই৷

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

গল্পটা বলেছিলেন এক শীর্ষপদস্থ সরকারি আমলা৷ দিল্লিতে তিনি একাই থাকতেন৷ আর তার বাড়িতে মাধেমধ্যে আসতেন এক আইএএস অফিসার, কাজ শেষে গাঁজায় একটু সুখটান দিতে৷ যার বাড়িতে আসতেন তিনি নেশা করেন না৷ ফলে সব সামগ্রী নিয়েই ওই সরকারি আমলা এসে একটু গাঁজায় দম দিয়ে নিতেন৷ আর বলতেন, অনেকদিনের অভ্যাস তো, তাই ছাড়তে পারেন না৷ সরকারি কর্মীদের জন্য ডোপ টেস্টের ব্যবস্থা থাকলে একটু সাবধানে থাকতে হত তাকে৷ অন্তত ডোপ টেস্টের কিছুদিন আগে থেকে গাঁজা খাওয়া বন্ধ করতে হতো৷

ভারতে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের এই ডোপ টেস্টের মুখে পড়তে হয় না৷ এটাও বলে নেয়া ভালো, গাঁজা-সেবী ওই অফিসার নিতান্তই সংখ্যালঘু৷ সরকারি কর্মীরা কাজের সময় নেশা করছেন, এমন ঘটনা বিরল৷ ওই ভদ্রলোকও গাঁজাটা নিতেন কাজের শেষে, বাড়ি ফেরার আগে৷

ভারতের রাজ্যগুলির মধ্যে পাঞ্জাবেই একমাত্র ২০১৮ সাল থেকে পুলিশ সহ সব সরকারি কর্মীকে ডোপ বা মাদক পরীক্ষা বাধ্যতামূলকভাবে করতে হয়৷ বছরে একবার করে৷ আর সেখানে সরকারি চাকরিতে ঢুকতে গেলে তো ডোপ টেস্ট মাস্ট৷ মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিংয়ের সিদ্ধান্ত৷ পাঞ্জাবে এই সিদ্ধান্ত নেয়ার কারণ আছে৷ কারণটা অন্য কিছু নয়,  আফগানিস্তান ও পাকিস্তান হয়ে এই সীমান্ত রাজ্যে মাদক ঢোকে এবং তার কিছুটা দেশের মধ্যে যায় এবং অনেক বেশি মাত্রায় বিদেশে পাচার হয়ে যায়৷ তার থেকেও বড় কথা, পাঞ্জাবের যুবকরা খুব বেশি করে মাদকাসক্ত৷ সংসদে এনিয়ে বহুবার বিতর্ক হয়েছে৷ অমরিন্দর নিজেও মাদকের বাড়াবাড়ি রোধ করার, মাদকের কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন৷ তাই সেখানে মাদকের সমস্যায় জর্জরিত সাধারণ মানুষ৷

বছর তিনেক আগে ২০১৮ সালে অমরিন্দার যখন এই সিদ্ধান্ত নেন, তখন অতিরিক্ত মাদক নেয়ার জন্য বেশ কয়েকটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল৷ তারপরই তিনি সরকারি কর্মীদের জন্য ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করেন৷ না হলে, ভারতীয়দের ডোপ টেস্টের সঙ্গে পরিচয় তো শুধু খেলাধুলোর আঙিনায়৷ খেলোয়াড়দের ডোপ টেস্ট করা, নিষিদ্ধ মাদক নেয়ার অভিযোগে পদক হারানোর কাহিনি তো একসময় গোগ্রাসে গিলেছে সারা দেশ৷

কিন্তু তাই বলে সরকারি কর্মীদের ডোপ টেস্ট? না, অমরিন্দর সিংয়ের সিদ্ধান্তের আগে তা অজানা ছিল৷ সরকারি এবং অধিকাংশ বেসরকারি সংস্থায় চাকরিতে ঢোকার আগে একটা ডাক্তারি পরীক্ষা হয় বটে, তবে তাতে ডোপ টেস্ট থাকে না৷ কিছুদিন আগে সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর বলিউডে ড্রাগ নিয়ে প্রচুর হইচই হয়েছিল৷ সুশান্তের বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তীকে নারকোটিকস ব্যুরো মাদক রাখার দায়ে গ্রেপ্তার করে৷ দীপিকা পাড়ুকোনকেজেরা করা হয়৷ তারপর বলিউডের নায়ক, নায়িকা এবং মাদক নিয়ে দিনকয়েক হইচই কম হয়নি৷ সে সময় একটা রসিকতা খুব চলেছিল৷ গাঁজা খাওয়ার জন্য নারকোটিকস ব্যুরো যদি ব্যবস্থা নিতে শুরু করে তা হলে কুম্ভ মেলা, জয়দেবের কেঁদুলি মেলার মতো জায়গায় একবার যাক তারা৷ সাধু থেকে শুরু করে গঞ্জিকাসেবনকারী মানে গাঁজা খাওয়া মানুষের কোনো অভাব নেই সেখানে৷

মজা থাক, ঘটনার কথায় আসা যাক৷ সরকারি কর্মীরা, বিশেষ করে আমলারা কাজ শেষ হয়ে গেলে বাড়িতে, ক্লাবে বা পার্টিতে কয়েক পাত্তর মদ খেতেই পারেন৷ অল্প কয়েকজন গাঁজায় দু-টান দিতেই পারেন৷ কিন্তু তারা মাদকাসক্ত এমন দুর্নাম নেই৷ কাস্টমস অ্যান্ড এক্সাইজ বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান সুমিত দত্ত মজুমদারের অভিজ্ঞতা হলো,, চাকরি জীবনে কোনো মাদকাসক্ত অফিসার বা কর্মী তার চোখে পড়েনি৷ কাজের সূত্রে মাদক উদ্ধার অভিযানেও অংশ নিয়েছেন তিনি৷ তার সঙ্গে পুরোপুরি একমত আরেক সাবেক আমলা অমিতাভ রায়৷

সুমিত দত্ত মজুমদারের বক্তব্য, ভারত হলো মাদক পাচারের ট্র্যানজিট পয়েন্ট৷ আফগানিস্তান, পাকিস্তান হয়ে মাদক পাঞ্জাবে ঢোকে৷ তারপর তা দিল্লিতে আসে৷ দিল্লি থেকে চলে যায় বিদেশে৷ একসময় উজবেকিস্তান হয়ে তা পাচার হত৷ বেলজিয়াম হয়ে ইউরোপে ঢুকত৷ তবে এই পথ মাঝেমধ্যে বদলে যায়৷

গৌতম হোড়, ডয়চে ভেলে, নতুন দিল্লি

গৌতম হোড়, ডয়চে ভেলে, নতুন দিল্লি

আর পাঞ্জাবেও মাদক ঢোকার পন্থা অভিনব৷ সীমান্তে কখনো সুড়ঙ্গ কেটে তার ভিতর দিয়ে মাদক পাচার হয়৷ কখনো বা নো ম্যানস ল্যান্ডকে কাজে লাগানো হয়৷ কড়াকড়ি সত্ত্বেও পাচার বন্ধ করা দুঃসাধ্য ব্যাপার৷ 

সরকারি চাকুরেদের মাদক পরীক্ষা করতে গেলে আরেকটা বিপদও আছে৷ এর সঙ্গে তাদের সম্মান ও মর্যাদার বিষয়ও জড়িয়ে৷ হঠাৎ করে বাধ্যতামূলকভাবে মাদক পরীক্ষা করাতে গেলে তারা প্রশ্ন তুলতে পারেন, কেন এই পরীক্ষা দিতে হবে? তার আগে প্রমাণ হোক যে, মাদক নিয়েছি? সুমিত যেমন বলছেন, ‘‘আমার পরীক্ষা করাতে হলে তো আমি প্রথমেই প্রশ্ন তুলতাম, কেন করাব? এর সঙ্গে তো আত্মসম্মানের প্রশ্ন জড়িত৷’’

সুরসিক লেখক তারাপদ রায় তার একটা রঙ্গব্যাঙ্গের রচনায় আঙুল মেপে নেশার কথা শুনিয়েছিলেন৷ যত কম আঙুলের নেশা, ততই নাকি তা নেশার দুনিয়ায় কম সম্মানের৷ এক আঙুলের নেশা সবচেয়ে নিম্ন স্তরের৷ দুই আঙুলের নেশা হলো বিড়ি,সিগারেট৷ মদ হলো পাঁচ আঙুলের নেশা৷ কারণ পাঁচ আঙুল দিয়ে সচরাচর গ্লাস ধরা হয়৷ আর গাঁজা হলো ১০ আঙুলের নেশা৷ দুই হাতের ১০ আঙুল লাগে গাঁজা টানতে৷ তাই তা সেরা৷  এই নিতান্ত মজার কাহিনি নিয়ে কিছুই বলতে পারার ক্ষমতা আমার নেই, কারণ, শুকনো বা তরল কোনো নেশার খপ্পরে পড়তে হয়নি জীবনে৷ আমার কাছে নেশা নিয়ে শেষ কথা বলে গেছেন শিবরাম চক্রবর্তী, সেটা হলো, নেশা যদি করতেই হয় তো, রাবড়ির নেশা করাই সব চেয়ে ভালো৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন