পর্যটন না ফ্লেমিঙ্গো পাখি? ইবিৎসার সমস্যা | অন্বেষণ | DW | 29.06.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

পর্যটন না ফ্লেমিঙ্গো পাখি? ইবিৎসার সমস্যা

বালিয়ারিক দ্বীপপুঞ্জের ইবিৎসা দ্বীপে মরসুম এলে সস্তার টুরিস্টরা এসে ভিড় করেন পার্টি করার লোভে৷ তার চাপে ইবিৎসার এক অতি পুরাতন অতিথি বিরল হতে চলেছে৷ অথচ কর্মকর্তাদের মুখে টেকসই পর্যটনের বুলি৷

সাবধানে, কোনোরকম আওয়াজ না করে ফ্লেমিঙ্গোদের কাছে যেতে হয়৷ পক্ষিবিজ্ঞানী খোয়ান কার্লেস পালের্ম তাঁর প্রিয় পাখিদের বিরক্ত করতে চান না৷ তিনি বলেন, ‘‘ওরা সত্যিই আশ্চর্য, দেখতেও আশ্চর্য, অন্য কোনো পাখির মতো নয়৷ যে কারণে মানুষজনকে ফ্লেমিঙ্গো পাখি সম্পর্কে কৌতূহলী করে তুলতে কোনো অসুবিধেই হয় না, তাদের প্রকৃতি সংরক্ষণে কোনোরকম আগ্রহ না থাকলেও নয়৷''

ইবিৎসা দ্বীপের ‘সালিনাস' বা লবণ তৈরির ভেড়িগুলো যে ফ্লেমিঙ্গো পাখিদের পছন্দ, তাতে পক্ষিবিশারদ খোয়ান খুশি৷ এখানে তিনি শত শত ফ্লেমিঙ্গো দেখেছেন – গত কয়েক বছরে এখানে ফ্লেমিঙ্গোদের সংখ্যা ক্রমেই বেড়েছে৷ ইবিৎসার পক্ষে সেটা একটা সুযোগ বলে খোয়ান মনে করেন৷ তবে পর্যটকদের সংখ্যা বাড়ার ফলে ফ্লেমিঙ্গো পাখিরা বিপন্ন৷

খোয়ান জানালেন, ‘‘ফ্লেমিঙ্গোরা নুনের ভেড়িগুলিতে আর নিজের মতো করে থাকতে পারে না, ছানাপোনাদের বড় করতে পারে না৷ এপ্রিলের গোড়ায় ডিম পাড়ার সময় এলে অধিকাংশ ফ্লেমিঙ্গো বাসা বাঁধার জন্য অন্য জায়গায় চলে যায়৷''

পার্টি করতে হলে ইবিৎসা

এপ্রিল মাস থেকেই ইবিৎসায় টুরিস্টদের আসা-যাওয়া শুরু হয় – ভূমধ্যসাগরের এই দ্বীপটি পার্টি করার জায়গা বলে খ্যাত৷ প্রতিবছরই টুরিস্টদের সংখ্যা বাড়ছে, পরিবেশ একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে৷ প্রকৃতি সংরক্ষণ নিয়ে টুরিস্টরা মাথা ঘামান না

নুনের ভেড়িগুলোর মাঝখান দিয়ে একটি রাস্তা চলে গেছে জনপ্রিয় একটি বেলাভূমির দিকে৷ এখানে গোটা মরসুম জুড়ে লোকজনের ভিড় – টুরিস্টরা গাড়ি থামিয়ে ফ্লেমিঙ্গোদের ছবি তোলেন৷ এমনকি কিছু টুরিস্ট পাখিদের জন্য সংরক্ষিত এলাকাতেও ঢুকে পড়েন৷ এ মহিলা পর্যটক বললেন, ‘‘জীবজন্তুদের কাছাকাছি আসার ওটাই একমাত্র পথ, সংরক্ষিত এলাকায় না ঢুকে উপায় নেই৷ জীবজন্তুদের তাদের নিজের এলাকায় দেখতে হলে সেখানে যেতে হবে – চিড়িয়াখানায় গেলে চলবে না৷''

ইবিৎসা পরিবেশ সমিতির খোয়ান কার্লেস পালের্ম তাতে বিশেষ সুখি নন৷ ইবিৎসার নুনের ভেড়িগুলোয় ফিনিশিয়ানরা দু'হাজার বছর আগে লবণ তৈরি করেছেন৷ ফ্লেমিঙ্গোরা এখানে পর্যাপ্ত পরিমাণ প্ল্যাংকটন আর ছোট ছোট কাঁকড়া খুঁজে পায়৷ বস্তুত ওদের ডিম পাড়া, ছানা বড় করার পক্ষে আদর্শ জায়গা বলে খোয়ান-এর অভিমত৷ কিন্তু টুরিস্টরা এসে সব কিছু নষ্ট করে৷ খোয়ান মন্তব্য করলেন, ‘‘মুক্ত প্রকৃতিতে, বন্য প্রকৃতিতে কী করতে হয়, তা অধিকাংশ মানুষ জানেন না৷ এ ক্ষেত্রে প্রহরার ব্যবস্থা করতে পারলে ভালো হতো, কিন্তু তা সম্ভব নয়৷''

ভিডিও দেখুন 04:57
এখন লাইভ
04:57 মিনিট

পর্যটকের কারণে বিপদে ফ্লেমিঙ্গো

টেকসই পর্যটনের আদর্শ

প্রকৃতি সংরক্ষণের জন্য অর্থের প্রয়োজন৷ ফ্লেমিঙ্গোরা পার্টি করার জায়গা হিসেবে ইবিৎসার বদনাম কিছুটা কমাতে পারে বলে বালিয়ারিক দ্বীপপুঞ্জের পরিবেশ মন্ত্রণালয় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে থাকে৷ এভাবে নাকি ইবিৎসা টেকসই পর্যটনের আদর্শ নমুনা হয়ে উঠবে৷

বালিয়ারিক দ্বীপপুঞ্জের প্রজাতি সংরক্ষণ সেবা বিভাগের খোয়ান মাইয়োল বললেন,

‘‘ফ্লেমিঙ্গো পাখি উচ্চমানের পরিবেশের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ এছাড়া তারা একটা আকর্ষণও বটে৷ ডিস্কো অধ্যুষিত ইবিৎসা ফ্লেমিঙ্গো পাখিদের কল্যাণে একটা সম্পূর্ণ অন্য ভাবমূর্তি পাচ্ছে৷''

কিন্তু প্রজাতি সংরক্ষণ একদিকে ব্যয়সাপেক্ষ, অন্যদিকে তার ফলে ‘গণ পর্যটনে' বাধা পড়ে৷ সরকার এই ক্ষতি স্বীকার করতে রাজি নন বলে খোয়ান কার্লেস পালের্ম-এর অভিমত৷ এটা পরস্পরবিরোধী, বিশেষ করে যখন চলতি বছরে ইবিৎসায় ক্রমেই আরো বেশি মরা ফ্লেমিঙ্গো খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে – শুধু জানুয়ারি মাসেই এভাবে ২১টি মৃত ফ্লেমিঙ্গোর লাশ আবিষ্কার করা হয়েছে৷

খোয়ান বললেন, ‘‘পাখিগুলোর ময়নাতদন্ত করা হয়েছে কিনা, আমরা জানি না – সাধারণভাবে মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করা হয়েছে, নাকি শুধু পরিচিত অসুখ-বিসুখের জন্য, তাও আমরা জানি না৷ বালিয়ারিক দ্বীপপুঞ্জের সরকার ব্যাপারটাকে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন না বলে আমার সন্দেহ৷''

ব্যবসায়িক স্বার্থ

এভাবে আবার সব কিছু ধামাচাপা দেওয়া হবে বলে পক্ষিবিজ্ঞানী খোয়ান কার্লেস পালের্ম-এর ধারণা৷ কাজেই টেকসই পর্যটনের বুলি শুধুমাত্র ব্যবসার স্বার্থে বলে তাঁর বিশ্বাস: ‘‘এ মনোভাব পালটাবে বলে আমি মনে করি না৷ এভাবে হয়তো অন্যান্য অতিথিদের টানা যাবে – কিন্তু ব্যাপক গণ পর্যটন রোধেকিংবা ইবিৎসার পার্টি টুরিজম রোধে কারো আগ্রহ নেই৷''

টুরিস্টদের থেকে যে রোজগার হয়, সেটাই হল বড় যুক্তি বলে খোয়ান কার্লেস পালের্মের ধারণা৷ এই যুক্তির বিরুদ্ধে ফ্লেমিঙ্গোদের কিছু করার নেই – এক অন্যত্র চলে যাওয়া ছাড়া৷ কাজেই ইবিৎসায় তাদের সংখ্যা কমবে বলেই পালের্ম ধরে নিচ্ছেন৷

নরমান স্ট্রিগেল/এসি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন