পদ্মাবত ছবি নিয়ে বিতর্ক, উত্তেজনা চলছেই | বিশ্ব | DW | 23.01.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

পদ্মাবত ছবি নিয়ে বিতর্ক, উত্তেজনা চলছেই

বিতর্ক এবার সুপ্রিম কোর্ট বনাম বিজেপি-শাসিত রাজ্য সরকারগুলির মধ্যে৷ ভারতের সুপ্রিম কোর্ট হিন্দি ছবি ‘পদ্মাবত'এর মুক্তির ওপর ওই সব রাজ্যের নিষেধাজ্ঞা খারিজ করে দিয়েছে৷ তারপরও বিতর্ক, উত্তেজনা চলছে৷

কেন্দ্রীয় ফিল্ম সেন্সর বোর্ড (সিবিএফসি) বিতর্কিত বলিউড ফিল্ম পদ্মাবত-এর মুক্তির ছাড়পত্র দিলেও, বিজেপি-শাসিত রাজ্য সরকারগুলির বিরোধিতার প্রেক্ষিতে ছবির প্রযোজক সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন৷ শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বাধীন এক বেঞ্চ ২৫ জানুয়ারি গোটা দেশে এবং বিদেশের বিভিন্ন শহরে মুক্তির ছাড়পত্র বহাল রাখেন৷ বিজেপিশাসিত পাঁচটি রাজ্য রাজস্থান, গুজরাট, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশ সরকার এই রায় মানতে রাজি নয়৷ সিনেমাটোগ্রাফি আইনের ৬ নম্বর ধারা অনুসারে ফিল্ম রিলিজ করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি রাখার সিদ্ধান্তে অবিচল থাকে৷ পদ্মাবতী ফিল্মের মুক্তি অনুমোদনের রায় পুনর্বিবেচনা করার আর্জিও জানানো হয় শীর্ষ আদালতের কাছে৷ রাজ্য সরকারগুলির যুক্তি, বিতর্কিত ফিল্মটি মুক্তি পেলে তা নিয়ে আইন শৃঙ্খলা সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা বজায় রাখা রাজ্য সরকারগুলির সাংবিধানিক দায়িত্ব৷

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়, সংসদ কোনো বিধিবদ্ধ বোর্ডের ওপর ফিল্মের ছাড়পত্র দেবার বা না দেবার দায়িত্ব একবার ন্যস্ত করলে তা মানতেই হয়৷ সিনেমা মানুষের বাক-স্বাধীনতা ও মতামত প্রকাশের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ৷ রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে পুলিশ বাহিনী মোতায়েন রাখাও সরকারগুলির কর্তব্য৷ রাজ্য সরকারগুলির পাল্টা যুক্তি, নাগরিক সমাজের নিরাপত্তার ঝুঁকি সম্পর্কে ফিল্ম সেন্সর বোর্ডের কোনো ধারণা নেই৷ শান্তি ভঙ্গের আশঙ্কা রোধে রাজস্থান সরকার রাজ্যের সিনেমা রেগুলেশন আইনের ৭ নম্বর ধারার উল্লেখ করে৷

 পদ্মাবত (আগেকার নাম পদ্মাবতী) ছবিটি নিয়ে আসল আপত্তি কাদের এবং কোথায়? আপত্তি রাজপুত জাতি, তথা হিন্দুত্ববাদীদের৷ সঞ্জয়লীলা বানসালি পরিচালিত এই ছবিটি নির্মিত হয় চতুর্দশ শতাব্দীর এক রাজপুত রাজবংশের কাহিনি নিয়ে৷ অভিযোগ, রাজস্থানের মেওয়ারে রাজপুত রানি পদ্মাবতীকে দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির সঙ্গে আপত্তিজনকভাবে দেখানো হয়৷ যা রাজপুতদের কাছে অপমানজনক৷ এর ঐতিহাসিক সত্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে রাজপুতদের একাংশ৷ এর বিরুদ্ধে রাজস্থান ও গুজরাটের করনি সেনা এবং মহাকাল সেনা নামে  সংস্থাগুলি সহিংস প্রতিবাদ জানায়৷ ছবির কলাকুশলিদের পুত্তলিকা পোড়ায় এবং যেসব সিনেমা হলগুলিতে ছবিটি মুক্তি পাবে, সেইসব হলে ভাঙচুরের হুমকি দেয়৷

 ছবিটি মুক্তির আগে গত সোমবার করনি সেনার প্রধান লোকেন্দ্র সিং কালভি এবং করনি সেনার প্রতিনিধিদল উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গে দেখা করেন এবং রাজ্যে যেভাবেই হোক ছবিটির মুক্তি আটকানোর দাবি জানায়৷ সংবাদ মাধ্যমকে জানানো হয়, তা সস্ত্বেও পদ্মাবত মুক্তি পেলে জনতা সান্ধ্য আইন জারি করবে৷ সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য নিয়ে তাদের সমস্যা নেই৷ কিন্তু প্রশ্ন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা কি সঞ্জয়লীলা বনশালীর একার? তাঁদেরও মত প্রকাশের অধিকার আছে৷ প্রতিবাদ করার স্বাধীনতা আছে৷ মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কাছ থেকে কী রকম সাড়া পাওয়া গেছে জিজ্ঞাসা করা হলে তাঁরা জানান, মুখ্যমন্ত্রী শীর্ষ আদালতের রায় মানতে বাধ্য হলেও নীতিগতভাবে এবং আবেগের দিক থেকে আমাদের পাশে আছেন৷ পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশের একটি এলাকায় মুক্তির আগে জনরোষ এড়াতে ১৪৪ ধারা ঘোষণা করে স্থানীয় প্রশাসন৷ আগামী দু'মাস তা বলবত থাকবে৷ কিছু ধরপাকড়ও করা হয়৷

 দিল্লিতে করনি সেনার প্রধান কালভি জানান, সঞ্জয়লীলা বনশালী ছবিটি মুক্তির আগে তাঁকে দেখার অনুরোধ করেছেন৷ তিনি তা গ্রহণ করেছেন৷ তবে শর্ত একটাই, তার আগে যেন ফিল্মটি রিলিজ করা না হয়৷ তিনি একা দেখবেন না৷ তাঁর সঙ্গে থাকবেন, ছয় জন ঐতিহাসিক এবং কিছু সাংবাদিক৷ তাঁর বিশ্বাস, পাবলিক কারফিউয়ের পরিণামে কোনো ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউটার ছবিটির স্বত্ত্ব কিনতে চাইবে না৷ সিনেমা হল মালিকরা হলে তা দেখাতে চাইবে না৷ বিজেপিশাসিত হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর মনে করেন, সব থেকে বিচক্ষণতার পরিচয় হবে সিনেমা হলের মালিকরা নিজেরাই যাতে ছবিটি না দেখান৷ উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদের হাওয়া ওঠে৷ তারই পরিণামে গো-মাংস নিয়ে, লাভ-জিহাদ নিয়ে আন্দোলন শুরু হয়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন