‘পণ্যের মান দেখবে লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ, শুভেচ্ছা দূত না’ | আলাপ | DW | 03.09.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকার

‘পণ্যের মান দেখবে লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ, শুভেচ্ছা দূত না’

ই-অরেঞ্জ নামের একটি অনলাইন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গ্রাহকের প্রায় ১১শ' কোটি টাকা মেরে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে৷ প্রতিষ্ঠানটির শুভেচ্ছা দূত ছিলেন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা৷ এ বিষয়ে ডয়চে ভেলের সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তিনি৷

Cricket Spieler Bangladesch: Mashrafe Mortaza

ফাইল ছবি

ডয়চে ভেলে: তারকারা যে বিভিন্ন পণ্যের বিজ্ঞাপনের মডেল হনতারা কি পণ্যের ব্যাপারে খোঁজ -খবর নিয়ে মডেল হন, নাকি খোঁজ না নিয়েই...?

মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা: এখন আপনি কোন পণ্যের খোঁজ নেবেন? ধরেন আপনার কাছে একটা ইলেকট্রিক কোম্পানি আসলো, সেখানে একটা এসি বা একটা মোটরসাইকেলের বিজ্ঞাপন করলেন৷ আপনি হয়ত ওই প্রোডাক্টটা সম্পর্কে জানলেন৷ আপনি যে পণ্যটার বিজ্ঞাপন করছেন, সেই পণ্যটা সম্পর্কেই জানবেন৷ এর বাইরে আপনি কিভাবে জানবেন?

সেই পণ্যের গুণগত মান সম্পর্কে কি জানার সুযোগ থাকে?

এটা কোনো শুভেচ্ছা দূতের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না৷ কেউ যখন একটা দেশে ব্যবসা করছে, সেখানে তো গুণগত মান পরীক্ষার জন্য কর্তৃপক্ষ আছে৷ কিন্তু তারা তো তাদের পণ্যের গুণগত মান বা পলিসি নিয়ে তো শুভেচ্ছা দূতের সঙ্গে আলোচনা করবে না৷ আজ পর্যন্ত তো শুনিনি৷

যে কোনো পণ্যের বিজ্ঞাপনে মডেল হওয়ার আগে তারকাদের ওই পণ্যের ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আছে কিনাআপনি কী মনে করেন?

আসলে আপনি কী খোঁজ-খবর নেবেন? একটা কোম্পানির আপনি শুভেচ্ছা দূত হচ্ছেন, ওই কোম্পানির তো অনেক প্রোডাক্ট আছে৷

ধরেন আপনি একটা সাবানের বিজ্ঞাপন করবেনওই সাবানটি কিনে মানুষ প্রতারিত হবে কিনা সে ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেওয়ার সুযোগ আছে কি-না?

তাহলে তো আপনাকে মালিকানায় ঢুকতে হবে৷ ম্যানুফেকচার যেখানে হচ্ছে, সেখানে যেতে হবে৷ একটা কোম্পানির সিইও যারা থাকে বা শেয়ার হোল্ডার যারা থাকে, তারা খোঁজ-খবর রাখতে পারে৷ যারা এই বিজনেসটা করছে, এটা তাদের বিষয়৷ শুভেচ্ছা দূতের কাজ হচ্ছে, আপনি আমাদের কোম্পানির শুভেচ্ছা দূত, আপনার সঙ্গে এত টাকার চুক্তি, আপনি ৬ মাসে তিন দিন, বছরে ৬ দিন সময় দেবেন৷ সারা পৃথিবীতে এটাই প্রচলিত৷ একটি মুদি দোকান দিতে হলেও লাইসেন্সের দরকার হয়৷ লাইসেন্স তো কোনো শুভেচ্ছা দূত দেয় না৷

অডিও শুনুন 11:26

‘এটা কোনো শুভেচ্ছা দূতের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না’

আমরা কিন্তু এমনও দেখেছি, এভারেস্টজয়ী ওয়াসফিয়া নাজরীন একটি কোমল পানীয় প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন করেননি৷ তিনি বলেছেন, এটা বাচ্চাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর৷ আপনার ক্ষেত্রে কখনো এমন হয়েছে?

দুই-তিন মাস আগেই অ্যামেরিকা থেকে আমার কাছে পাপজি গেমের বিজ্ঞাপনে অংশ নেওয়ার অফার এসেছিল৷ অনেক টাকার অফার ছিল৷ কিন্তু আমি করিনি৷ এটা খেললে বাচ্চারা নষ্ট হবে, এজন্য আমি না করে দিয়েছি৷ আমি আসলে যেটা বুঝাতে চাচ্ছি, খালি চোখে আপনি যেটা চিন্তা করতে পারবেন৷ আমি দেখেছি, পাপজিতে অনেক বাচ্চা অংশ নিচ্ছে৷ তারা মোবাইল নিয়ে বসে আছে৷ তখন কিন্তু আপনি রিয়েলাইজ করতে পারেন বাচ্চারা পড়াশোনা বাদ দিয়ে এটাতে আসক্ত হয়ে গেছে৷ সেক্ষেত্রে আমি এটা করিনি৷ কিছু জিনিস আপনি ব্লাইন্ডলি বুঝতে পারবেন এই কাজটা খারাপ, সেটা করা যাবে না৷ কিন্তু আপনি একটি এসির বিজ্ঞাপন করলেন, সেটা ভালো না খারাপ, তা তো আপনি বুঝবেন না৷ সেটার জন্য তো ফ্যাক্টরিতে যেয়ে আপনার বসে থাকতে হবে৷ এটার জন্য লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ আছে৷ হ্যাঁ, আপনি যেটা দেখবেন, আপনি যার বিজ্ঞাপনে মডেল হচ্ছেন বা শুভেচ্ছা দূত তাদের এই দেশে ব্যবসা করার অনুমতি আছে কিনা৷ যদি না থাকে তাহলে আপনি হাজারো প্রশ্ন করতে পারবেন৷ এখন যারা লাইসেন্স দিচ্ছে, তাদেরই তো বিষয়টা দেখা উচিত৷ আমি তো কোম্পানির শুভেচ্ছা দূত, কোম্পানি তো আমার সঙ্গে এগুলো নিয়ে আলোচনা করবেই না৷

আপনি একটি পণ্যের বিজ্ঞাপনে মডেল হলেন৷ আপনাকে দেখে বহু মানুষ ওই পণ্যটি কিনলো৷ সেটি কিনে মানুষ যদি প্রতারিত হন, তাহলে আপনার নৈতিক দায় আছে কিনা?   

সম্প্রতি যেটা হয়েছে, সে কারনেই নৈতিক দায় থেকেই আমি সবার সঙ্গে কথা বলেছি এবং তাদের সহযোগিতা করেছি৷ নৈতিক দায় কিন্তু ডিপেন্ড করে, ধরেন আপনি একটা কোম্পানির কিছুই না, শুধু শুভেচ্ছা দূত৷ আপনি দায় এড়িয়ে যেতে পারেন৷ আমি তো ভাই কোম্পানির মালিকানায় নেই৷ আমি কেন এর দায় নিতে যাবো? আরেকটা বিষয় হলো, আমি শুভেচ্ছা দূত ছিলাম, আমার ভালো লাগা, খারাপ লাগা থাকতে পারে৷ আমি যদি পারি কিছু সহযোগিতা করবো৷ কিন্তু নৈতিক দায়ের কথা বললে আপনাকে গোড়ায় ফিরে যেতে হবে৷ যারা লাইসেন্স দিচ্ছে, তাদের এটা দেখতে হবে৷ শুভেচ্ছা দূতকে দায় দিয়ে শুধু শুধু লাভ কী?

ই-অরেঞ্জের ঘটনায় তাহলে আপনি ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে দাঁড়িয়েছেন নৈতিকতার জায়গা থেকে?

আমার যদি তাদের সঙ্গে কন্ট্রাক্ট থাকতো তাতেই বা কী? যেমন ধরেন, এসপিসি কোম্পানির সঙ্গে আমার কন্ট্রাক্ট ছিল৷ কন্ট্রাক্ট থাকা না থাকার বিষয়ে পরে আসেন৷ এসপিসিতে আমি কন্ট্রাক্ট শেষ করেছি৷ আমি নিজে লেটার দিয়ে৷ কন্ট্রাক্ট্রের বিষয়টা হচ্ছে, যে কোনো পক্ষ, মালিক বা শুভেচ্ছা দূত এক মাসের নোর্টিশ দিয়ে এটা শেষ করে দিতে পারে৷ ই-অরেঞ্জে ছিলাম, আছি যাই বলেন না কেন, মানুষগুলো এসে যখন বলছেন, আপনাকে দেখে গেছি, তাই তো? এখানে অনেক রকম কথা আমার দিক থেকে বলতে পারি৷ এগুলো বললে যারা ক্ষতিগ্রস্থ, তারা শুধু শুধু কষ্ট পাবেন৷ কিন্তু বাস্তবে যদি আপনি চিন্তা করেন একজন শুভেচ্ছা দূত আসলে কী করতে পারে? আমি দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে চিন্তা করি৷ আমি যদি তাদের পাশে না দাঁড়াই, এই মানুষগুলো যাবে কোথায়? আমি এক স্টেপ উপরে চিন্তা করেছি, যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন, তারা তো আমার দেশের মানুষ৷ আমি ক্রিকেট খেলেছি, এরা কোনো সময় আমাকে গালি দিছে, কখনো তালি দিছে, অনেক কিছুই হয়েছে৷ ফলে আমি নৈতিক জায়গা থেকে, খারাপ লাগা থেকে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি৷ দ্বিতীয়ত, এরা তো অনেক আগে থেকেই ব্যবসা করছে৷ আমি শুভেচ্ছা দূত হওয়ার আগে পরে বা আমি থাকার সময়ও যে লাভ তারা করেছে, তখন কেউ তো আমাকে এসে মিষ্টি খাইয়ে যায়নি৷ গিয়েছে নাকি? এটা নিশ্চয়ই না৷ যখন লাভ করেছেন, তখন তো ভাই আপনারা এসব কথা বলেননি৷ এমন অনেক কথা আছে বলা যায়, কিন্তু আমার জায়গা থেকে বলা ঠিক হবে না৷ এজন্য হবে না যে, আমার ব্যক্তিত্বে বাধা দিচ্ছে৷ আমি যদি তাদের কোনো উপকারে আসতে পারি সেজন্যই চেষ্টা করছি৷ আমি যেহেতু তাদের মালিক না, ফলে আমার আইনগত কোনো বাধা নেই৷ আমি তো সরে আসতেই পারতাম৷ আমি খারাপ লাগা থেকেই তাদের সহযোগিতার চেষ্টা করছি৷

আপনারা যখন কোনো পণ্যের বিজ্ঞাপন করার জন্য কোনো বিজ্ঞাপনী সংস্থার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন, তখন কি বিজ্ঞাপনী সংস্থা পণ্যটির ব্যাপারে আপনাদের অবহিত করে? 

কোনো কোনো ক্ষেত্রে করে৷ যেমন ধরেন, আমি যখন ওয়ালটনে ছিলাম, তখন কী হয়েছে, ওদের সঙ্গে আমার চুক্তি হয়েছে বছরে আমি ওদের ৫ দিন সময় দেবো৷ এর মধ্যে দুইদিন শুটিং রাখে, একদিন রাখে সাইনিংয়ের জন্য, আরেকদিন রাখে হয়তো ফটোশুট, আরেকদিন কীভাবে ব্যবহার করে, যেমন কর্মীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়৷ বা কোম্পানিতে নিয়ে দেখায়৷ সর্বোচ্চ এটা হয়, তা-ও সব কোম্পানি এটা করে না৷ ওদের আমার ৫ দিন দেওয়ার দায়িত্ব, ওরা ৫ দিন আমার কাছ থেকে বুঝে নেবে৷ এখন এই ৫ দিন ওরা কীভাবে ব্যবহার করবে সেটা ওদের ব্যাপার৷  

পণ্যের বিজ্ঞাপনে তারকাকে দেখে মানুষ প্রতারিত হলে এর দায়টি আসলে কার হবে?

এখন কোনো তারকা যদি অনুমোদনহীন কোনো প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনে যান, তাহলে ওই তারকাকে প্রশ্নের সমূখীন হতে হবে৷ আর যদি অনুমোদন পাওয়া কোনো প্রতিষ্ঠানে যান. তাহলে এর উত্তর আমি জানি না৷ আপনি সাংবাদিক আপনার জানার কথা৷ যারা অনুমোদন দেন তাদের প্রশ্ন করলেই তারা বলতে পারবেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়