নয় কোটি মানুষের দেশে ১৪ লাখ অগ্নিনির্বাপক কর্মী | আলাপ | DW | 23.04.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ব্লগ

নয় কোটি মানুষের দেশে ১৪ লাখ অগ্নিনির্বাপক কর্মী

১৬ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশে অগ্নিনির্বাপক কর্মীর সংখ্যা কত? এক সহকর্মী অনেক ঘেঁটেঘুটে জানালেন, চাকুরিজীবী আট থেকে ১১ হাজারের মতো হবে, আর স্বেচ্ছাসেবী ত্রিশ হাজারের মতো৷ জার্মানিতে সংখ্যাটা প্রায় ১৪ লাখ৷

ইউরোপের দেশ জার্মানির জনসংখ্যা প্রায় নয় কোটি৷ এই জনসংখ্যার জন্য নিয়মিত অগ্নি নির্বাপক কর্মীর সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ৷ তাঁদের বড় একটি অংশ অবশ্য স্বেচ্ছাসেবী৷ তবে এই স্বেচ্ছাসেবীরা প্রশিক্ষিত এবং এমন এক নেটওয়ার্কের অংশ, যাতে তাঁরা যখন সময় দিতে সক্ষম, তখন দ্রুতই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাড়া দিতে পারেন৷

ছোট-বড় সব শহরে অগ্নিনির্বাপক ইউনিট

আমার এক জার্মান বন্ধু স্বেচ্ছাসেবী অগ্নিনির্বাপক কর্মী হিসেবে কাজ করেন৷ সপ্তাহান্তে আমরা যখন আড্ডা দেই, তখন মাঝেমাঝে তাঁকে পাওয়া যায় না৷ বন শহরের কোথাও আগুন লাগলে সেখানে ছুটতে হয় তাঁকে৷ এভাবে অনেকেই স্বেচ্ছাসেবী অগ্নিনির্বাপক কর্মী হিসেবে কাজ করেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

জার্মানির আশি হাজারের বেশি জনসংখ্যা আছে এরকম প্রতিটি শহরের রয়েছে অগ্নিনির্বাপক ইউনিট৷ সেখানে সার্বক্ষণিক নিয়োগপ্রাপ্ত অগ্নিনির্বাপক কর্মী থাকেন, পাশাপাশি প্রয়োজন অনুসারে যোগ দেন স্বেচ্ছাসেবীরা৷ এছাড়া, বিভিন্ন বড় বড় শিল্পকারখানার রয়েছে নিজস্ব অগ্নিনির্বাপক বাহিনী৷ কোনো কোনোক্ষেত্রে ইনস্যুরেন্সের শর্ত হিসেবেও বিভিন্ন বড় প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অগ্নিনির্বাপক কর্মী রয়েছে

শুধু তাই নয়, সব বিমানবন্দর, গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাতেও আলাদাআলাদা অগ্নিনির্বাপক ইউনিট রয়েছে৷ ফলে নিয়মিত এবং অনিয়মিত কর্মী হিসেব করলে সব মিলিয়ে প্রায় নয় কোটি মানুষের দেশে অগ্নিনির্বাপক কর্মীর সংখ্যা অনেক৷ আর আগুন নেভাতে দ্রুত সাড়া পেতে জার্মানির যে-কোনো স্থান থেকে ১১২ নম্বর ফোন করলেই হয়৷

বসতবাড়িতে ‘ফায়ার অ্যালার্ম'

এক্ষেত্রে নিজের অভিজ্ঞতা বলতে পারি৷ ডয়চে ভেলের বাংলা বিভাগে আগে রাতের শিফটে কাজ করতে হতো৷ আর সেই শিফটে কাজ করা মানে ভোররাতে বাড়ি ফিরে বেঘোরে ঘুমানো৷ সেরকম এক সকালের দিকে বাড়িতে একাই ঘুমাচ্ছিলাম৷ হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে গেল৷ বিরক্ত হয়ে চোখ মেলতেই দেখি ঘরে ধোঁয়া৷

আগুন অবশ্য আমার অ্যাপার্টমেন্টে লাগেনি৷ লেগেছিল পাহাড়ের গা ঘেঁষে তৈরি একই ভবনের আরেক তলায়৷ কিন্তু ঘন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যাচ্ছিল চারপাশ৷ আমি যারপরনাই দ্রুত বাইরে বেরিয়ে দেখি আমার প্রতিবেশীও দাঁড়িয়ে আছেন৷ তাঁর কাছে জানতে চাইলাম অগ্নিনির্বাপক কর্মীদের ফোন করা হয়েছে কিনা৷ বলতে বলতেই দেখি ভবনের এক কোণা থেকে এক অগ্নিনির্বাপক কর্মী বেরিয়ে এসেছেন৷ জানালেন, আগুন নেভানো হয়েছে৷ চিন্তার কিছু নেই৷

সেই অগ্নিনির্বাপক কর্মী একটু পরে এক যন্ত্র এনে আমার অ্যাপার্টমেন্টের দরজার সামনে রাখলেন৷ আর তাতে অল্পক্ষণেই ঘরের মধ্যে থাকা ধোঁয়াও চলে গেল৷ এক্ষেত্রে একটি বিষয় উল্লেখযোগ্য৷ তা হচ্ছে, জার্মানির ঘরে ঘরে ‘ফায়ার অ্যালার্ম' লাগানো রয়েছে৷ ঘরের মধ্যে মাত্রাতিরিক্ত ধোঁয়া সৃষ্টি হলেই এসব অ্যালার্ম বাজতে শুরু করে৷

বহুতল ভবনের ক্ষেত্রে কঠোর নীতিমালা

এছাড়া, বহুতল কোনো ভবনে অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হলে সেসব ভবন বসবাসের অনুপযুক্ত ঘোষণা করা হয়৷ এবং ভবনের বাসিন্দাদের অন্যত্র সরে যেতে বাধ্য করা হয়৷ এক্ষেত্রে অগ্নিকাণ্ডের কোনো ঘটনা ঘটলো কিনা তা গুরুত্বপূর্ণ নয়৷ জার্মান গণমাধ্যমে কখনো কখনো এরকম বহুতল ভবন খালি করার (https://p.dw.com/p/2kTst) খবর পাওয়া যায়৷ কর্তৃপক্ষ বেশ কঠোরভাবেই এই নিয়ম পালন করে৷

Arafatul Islam Kommentarbild App

আরাফাতুল ইসলাম, ডয়চে ভেলে

বহুতল ভবনগুলোতে জরুরি নির্গমণের পথ বিশেষ সবুজ সঙ্কেত দিয়ে চিহ্নিত করা থাকে৷ শপিং মলগুলোতে আমি দেখেছি লিফট এবং নিয়মিত সিঁড়ির পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য আলাদা সিঁড়ি রয়েছে৷ প্রতিটি তলা থেকে সেসব সিঁড়িতে পৌঁছানো যায়৷ তবে সিঁড়ির সঙ্গে তলাগুলোর সংযোগ স্থলে পরপর দু'টি মোটা দরজা রয়েছে, যা ভেদ করে আগুনের শিখা সিঁড়ি অবধি পৌঁছানো কঠিন৷ আর এসব ভবনের মাটির নীচের তলাগুলোতে আগুন লাগলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পানি ছিটানোর ব্যবস্থাও দেখেছি৷ 

অগ্নিনির্বাপকদের জন্য বিশেষ লেন

অগ্নিকাণ্ড বা যে-কোনো কারণেই হোক আবাসিক এলাকায় ভবনগুলোর খুব কাছাকাছি পৌঁছাতে ফায়ার সার্ভিসের জন্য আলাদা লেন রয়েছে৷ সেসব লেন সবসময় ফাঁকা রাখতে হয়৷ অর্থাৎ, সাধারণ কোনো পরিস্থিতিতেই সেই লেনে গাড়ি রাখা যাবে না, কিংবা অন্য কোনো কিছু রেখে লেনগুলোতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না৷ কেউ যদি এই নিয়ম ভঙ্গ করেন, তবে তাকে বড় অংকের জরিমানা করার বিধান রয়েছে৷

মহাসড়কগুলোতেও জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, যেমন ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং অ্যাম্বুলেন্সের জন্য সবসময় একটি লেন খালি রাখা হয়৷ ফলে কোনো কারণে যানজট সৃষ্টি হলেও এসব প্রতিষ্ঠানের গাড়ি দ্রুত এক স্থান থেকে অন্যস্থানে পৌঁছাতে সক্ষম৷

তবে, এতসব আয়োজনের কারণে জার্মানিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে না, বিষয়টি সেরকম নয়৷ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা মাঝেমাঝেই ঘটে৷ কিন্তু যে-কোনো দুর্ঘটনায় মানুষের প্রাণহানি যাতে এড়ানো যায়, সেই চেষ্টা থাকে কর্তৃপক্ষের৷ ফলে বড় অগ্নিনির্বাপক কর্মী দল, আধুনিক যন্ত্রপাতির পাশাপাশি ভবনগুলোতে অগ্নিনির্বাপক নীতিমালা মানা হচ্ছে কিনা তা-ও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে কর্তৃপক্ষ৷ প্রশ্ন হচ্ছে, আমাদের দেশে কি এরকম করা হয়?

 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন