নতুন কলরেট নিয়ে গ্রাহকরা সংশয়ে | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 18.08.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

নতুন কলরেট নিয়ে গ্রাহকরা সংশয়ে

বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের কলচার্জ পুনর্নির্ধারণ করায় গ্রাহকরা রয়েছেন সংশয়ে৷ লাভ হল না ক্ষতি হল ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না তাঁরা৷ অপারেটরা বলছেন, এর প্রভাব বুঝতে হলে আরো কিছুদিন সময় লাগবে।

সোমবার রাত ১২টার পর থেকে বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের নতুন কল রেট চালু হয়েছে৷ মিনিটে সর্বনিম্ন কলরেট ৪৫ পয়সা আর সর্বোচ্চ ২ টাকা৷ নতুন ব্যবস্থায় অননেট আর অফনেট তুলে দেয়া হয়েছে৷ করা হয়েছে ফ্ল্যাট রেট৷ অননেট হল একই অপারেটরের মধ্যে কল আদান প্রদান৷ আর অফনেট হল এক অপারেটর থেকে অন্য অপারেটরে কল আদান-প্রদান৷

নতুন ফ্ল্যাট কলরেট চালু হওয়ার আগে বর্তমানে সর্বনিম্ন অননেট কলচার্জ প্রতি মিনিট  ছিল ২৫ পয়সা ও অফনেট ৬০ পয়সা৷ সর্বোচ্চ চার্জ প্রতি মিনিট ২ টাকা৷ নতুন ব্যবস্থায় বিটিআরসি সর্বোচ্চ ২ টাকা ঠিক রেখে অফনেট এবং অননেট বাদ দিয়ে সর্বনিম্ন কলচার্জ করেছে ৪৫ পয়সা৷ অফনেট-অননেট ব্যবস্থা তুলে দেয়া হয়েছে

বিটিআরসির হিসেবে বাংলাশে এখন মোট মোবাইল ফোন গ্রাহক ১৫ কোটির বেশি৷ মোট অপারেটর ৪টি- গ্রামীণ, রবি, বাংলালিংক এবং টেলিটক৷ এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রাহক গ্রামীণের, প্রায় ৭ কোটি৷ আর সবচেয়ে কম গ্রাহক টেলিটকের, ৩০ লাখ৷ রবির গ্রাহক প্রায় সাড়ে ৪ কোটি এবং বাংলালিংক- এর গ্রাহক ৩ কোটির বেশি৷

মোবাইল ফোনের নতুন কলচার্জ নিয়ে আছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া৷ ব্যবসায়ী সুমন জাহিদ গ্রামীণ ফোন ব্যবহার করেন৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে জানান, তাঁর মনে হচ্ছে আগের চেয়ে কলচার্জ বেশি হচ্ছে৷ কারণ জানাতে গিয়ে বলেন, ‘‘আগে আমার মাসে দুই হাজার টাকা খরচ হতো। কিন্তু তিন দিন আগেই আমার কাছে ম্যাসেজ এসছে যে আমার ৭০ ভাগ খরচ হয়ে গেছে৷ তাই বোঝা যাচ্ছে যে খরচ বাড়ছে৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘বাংলাদেশে পৃথিবীর সবচেয়ে কম কলচার্জ হওয়া উচিত৷ কারণ এখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব৷ অস্ট্রেলিয়ায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকার জন্য একটি টাওয়ার বসিয়ে গ্রাহক পাওয়া যায় পাঁচ হাজার৷ আর বাংলাদেশে একই খরচে পাওয়া যায় পাঁচ লাখ৷

অডিও শুনুন 01:32

‘এর প্রভাব কি হবে তা এখনই বলা সম্ভব নয়’

সর্বনিম্ন কলরেট কি সত্যিই ২৫ পয়সা ছিল?

আগে সর্বনিম্ন কলরেট ২৫ পয়সা ছিল৷ আর সর্বোচ্চ ২ টাকা৷ এর মানে এই নয় যে সর্বনিম্ন কলরেট ২৫ পয়সাই ছিল৷ অপারেটররা সর্বনিম্ন এবং সার্বোচ্চ সীমার মধ্যে থেকে কল চার্জ নির্ধারণ করতেন৷ কয়েকটি অপারেটরের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় বাস্তবে অননেট  কলরেট ছিল ৪০ পয়সা থেকে ৫২ পয়সা৷ আর অফনেট কল চার্জ ছিল কোনো কোনো ক্ষেত্রে এক টাকারও বেশি৷ গড়ে ৮০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৪০ পয়সা৷

কিন্তু এখন আর অফনেট -অননেট নেই৷ ফলে ফ্ল্যাট রেট হবে৷ অপারেটররা এখন এই সর্বনিম্ন ফ্ল্যাট রেট প্রতি মিনিট কত ধার্য করেন তার ওপর আসলে নির্ভর করবে গ্রাহকের খরচ বাড়বে কী কমবে৷ গ্রামীণ ফোনের হেড অব এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স সৈয়দ তালাত কামাল ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা বিটিআরসির নির্দেশ কার্যকর করছি৷ প্যাকেজগুলোতে নতুন করে ঠিক করছি৷ তবে এর প্রভাব কি হবে তা এখনই বলা সম্ভব নয়৷''

অডিও শুনুন 01:04

‘নতুন এই ব্যবস্থায় গ্রাহকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না’

তবে কোনো অপারেটরই এখনো কলচার্জ বাড়ানোর কোনো ঘোষণা দেয়নি৷ বাংলালিংকের চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান ডয়চে ভেলেক বলেন, ‘‘আমার মনে হয় নতুন এই ব্যবস্থায় গ্রাহকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না৷ বরং তারা লাভবান হবেন৷ কারণ তাঁরা অফনেটের বড় আকারের কলচার্জ থেকে রেহাই পেয়েছেন৷ এখন সব অপারেটরেই কলের একই চার্জ৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘এখন আর সাত কোটি বা তিন কোটির পরিবার নেই৷ এখন ১৫ কোটি গ্রহকের একটি পরিবার৷ কলরেটও এক৷''

কল রেট সম্পর্কে কতটা সচেতন গ্রাহক?

বাংলাদেশের অধিকাংশ গ্রাহকই আসলে জানেন না তার মোবাইল ফোনের প্রতি মিনিট কলচার্জ কত৷ একজন গ্রাহক জাকিয়া আহমেদ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সর্বনিম্ন ২৫ পয়সা থেকে ৪৫ পয়সা করায় আমিতো ক্ষতিগ্রস্ত হলামই৷ কলচার্জ বেড়ে গেল৷ আমি সাংবাদিকতার জন্য অনেক্ষণ ধরে মোবাইলে কথা বলি৷ এখন তো খরচ বেড়ে যাবে৷''

তিনি একটি বড় অপারেটরের গ্রাহক৷ তাঁকে যখন প্রশ্ন করা হল, আপনি কি জানেন আগে আপনার অপারেটর প্রতি মিনিটে কত চার্জ নিত? জবাবে তিনি বলেন, ‘‘না আমি জানতাম না৷ আর এখন কত নেয় তাও জানিনা৷''  তাঁর ধারণা ছিল, আগে ২৫ পয়সার চার্জ বাড়িয়ে এখন ৪৫ পয়সা করা হয়েছ৷ কিন্তু পরে দেখা গেছে, তাঁর অপারেটর আগেও প্রতি মিনিট ৫২ পয়সা নিত, বিটিআরসির নতুন সিদ্ধান্তের পরও ৫২ পয়সাই নিচ্ছে৷

অডিও শুনুন 02:58

‘অপারেটর প্রতি মিনিটে কত চার্জ নেয় জানি না’

জাকিয়া আরো বলেন, ‘‘শুনেছি এফএনএফ প্যাকেজ বাতিল হয়ে যাবে৷ আমরা খুব কম পয়সায় ওই প্যাকেজে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতাম৷ এখন সে সুযোগ থাকবেনা৷''

আরেকজন সাংবাদিক সাদ্দিফ অভি বললেন ভিন্ন কথা৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমার মনে হয় সুবিধা হয়েছে৷ কারণ আমি যে অপারেটরের গ্রাহক, তার বাইরে সব অপারেটরের গ্রাহকের সঙ্গেই আমার কথা বলতে হয় পেশাগত প্রয়োজনে৷ ফলে আমাকে অফনেট চার্জ দিতে হত বেশি৷ বেশি বিল গুণতে হত৷ এখন সব কল রেটই এক৷ ফলে আমার মনে হয় আমার বিল কমবে৷''

বাংলাদেশে মোট মোবাইল ফোন কলের শতকরা কত ভাগ অননেট আর কতভাগ অফনেট, তার কোনো সঠিক পরিস্যংখান জানা যায়নি৷ তবে যে অপারেটরের গ্রাহক বেশি তার অফনেট কল কম৷ আর যে অপারেটরের গ্রাহক কম তার অফনেট কল বেশি হওয়ার কথা৷ আর অফনেট কলের চার্জ যেহেতু অনেক বেশি ছিল তাই গ্রাহকরা খরচ কমাতে একাধিক অপারেটরের মোবাইল সংযোগ ব্যবহারে বাধ্য হন৷ এখন অফনেট আর অননেট ব্যবধান ঘুচিয়ে দিয়ে ফ্ল্যাট রেট করায় মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো বিলের নানা প্যাকেজ অফার না দিয়ে সেবার মান বাড়াতে বাধ্য হবে বলে মনে করছেন অনেকেই৷

এদিকে মোবাইল ফোনের কলরেট নিয়ে কথা হলেও অনেক গ্রাহক আসলে সে সম্পর্কে সচেতন না৷ শত শত প্যাকেজ আর নানা অফারের হিসেবের ভিড়ে তা বোঝাও কঠিন৷ এরমকম একজন গ্রাহক আমানুর রহমান রনি বলেন, ‘‘কত কলচার্জ সে হিসাব রাখিনা৷ হিসাব করাও কঠিন৷ নানা প্যাকেজ, নানা অফার৷ এগুলো বুঝতে গণিতে ভালো হতে হয়৷ আমার একটাই কথা কম খরচে মোবাইল ফোর ব্যবহার করতে চাই৷''

অডিও শুনুন 03:17

‘অপারেটরদের গ্রাহক সংখ্যার পার্থক্য থাকায় ভারসাম্য হারাবে’

ফ্ল্যাট রেটের উদ্দেশ্য কী?

অপারেটরদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে অভিন্ন কল রেট চালুর মূল উদ্দেশ্য মোবাইল নাম্বার পোর্টেবিলিটি- এমএনপি চালু করা৷ এই ব্যবস্থায় নম্বর না বদলিয়ে অপারেটর বদল করতে পারবেন গ্রাহকরা৷ তাই অভিন্ন কলরেট না হলে গ্রাহকরা অসুবিধায় পড়বেন৷

গত ১ আগস্ট থেকে দেশে এমএনপি সেবা চালুর কথা থাকলেও কারিগরি প্রস্তুতির কারণে তা দুই মাস পেছানো হয়৷ নতুন তারিখ অনুযায়ী আগামী ১ অক্টোবর দেশে এমএনপি চালু হওয়ার কথা৷

তবে নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটির ইলেকটিক্যাল এন্ড কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক এবং টেলিকম বিশেষজ্ঞ ড. রোকনুজ্জামান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘নতুন কল রেটের কারণে গ্রাহকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন৷ কারণ অন নেট কল অনেক বেশি৷ আর দেশে একটি অপারেটরের প্রধান্য থাকায় অননেট কলও বেশি হবে এটাই স্বাভাবিক৷ গ্রাহকরা নানা প্যাকেজের আওতায় যে কল রেট সুবিধা পেতেন৷ কলচার্জ কমানোর যে প্রতিযোগিতা ছিল সেটাও আর থাকবেনা৷ ফলে গ্রাহজের চার্জ বাড়বে৷ আর বাজারের অপারেটরদের গ্রাহক সংখ্যার পার্থক্য থাকায় ভারসাম্য হারাবে৷ অফনেট থেকে ছোট গ্রাহকরা যে বাড়তি আয় করত তা তারা হারাবে৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন