নগরায়নে হারিয়ে যাচ্ছে কলকাতার জলাশয় | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 13.02.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সমাজ সংস্কৃতি

নগরায়নে হারিয়ে যাচ্ছে কলকাতার জলাশয়

এক দিকে বেহিসেবি নগরায়ন, অন্যদিকে মানুষের অসচেতনতা৷ দুইয়ের জাঁতাকলে শহর কলকাতায় ক্রমশ কমছে জলাশয়৷ বাস্তুতন্ত্র থেকে স্থানীয় জলবায়ু, সবকিছুতেই তার প্রভাব পড়ছে৷

একে একে কলকাতা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে পুকুর৷ হারিয়ে যাচ্ছে বলা হয়তো ঠিক নয়, বলা ভালো, মানুষের লোভের শিকার হচ্ছে৷

একটি পরিসংখ্যানের দিকে চোখ রাখলে ছবিটা পরিষ্কার হবে৷ কেন্দ্রীয় সংস্থা দ্য ন্যাশনাল অ্যাটলাস অ্যান্ড থেমাটিক ম্যাপিং অরগানাইজেশন দেড় দশক আগে কলকাতার জলাশয় নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল৷ তারও আগের দুই দশকের তথ্যের ভিত্তিতে রিপোর্টটি তৈরি হয়৷ কেন্দ্রীয় সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত শতকের আশির দশকের মাঝামাঝি কলকাতায় পুকুরের সংখ্যা ছিল প্রায় নয় হাজার৷ গত প্রায় সাড়ে তিন দশকের মধ্যে এই সংখ্যা কমে হয়েছে পাঁচ হাজারের আশপাশে৷ প্রতি বছর শ’দেড়েক পুকুরের মৃত্যু হচ্ছে৷ ফেব্রুয়ারির গোড়ায় যখন পৃথিবী জুড়ে পালিত হয়েছে বিশ্ব জলাভূমি দিবস, তখন কলকাতাকে নিয়ে উদ্বেগ আবার সামনে এসেছে৷

অডিও শুনুন 05:58

পুকুর শেষ মানে বাস্তুতন্ত্রেও ইতি: তড়িৎ রায়চৌধুরী

এই বিপুল সংখ্যক জলাশয় হারিয়ে যাওয়ার পিছনে প্রধান কারণ নগরায়ন৷ বাসস্থানের চাহিদা মেটাতে একের পর এক বহুতল ভবন গড়ে উঠছে পাড়ার মধ্যে৷ হঠাৎ উধাও হয়ে যাচ্ছে পুকুর৷ পরিবেশবিদ অধ্যাপক মোহিত রায় এ নিয়ে গবেষণা করেছেন, এই সংক্রান্ত আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘গুগল ম্যাপ অনুযায়ী কলকাতায় এখন পুকুরের সংখ্যা সাড়ে চার হাজার এর আশপাশে৷ মূল কলকাতায় এখন পুকুর বোজানোর প্রবণতা কমে গেছে, কিন্তু কলকাতার অধীন প্রান্তিক অঞ্চলে এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি৷ ১৯৯৫ সালে রাজ্য সরকার একটি আইন করেছিল জলাশয় বাঁচাতে৷ তা সত্ত্বেও অসংখ্য পুকুর বাঁচানো যায়নি৷’’

অপরিকল্পিত নগরায়নের পাশাপাশি অধ্যাপক রায় একাধিক কারণের উল্লেখ করেছেন এই সংকটের পিছনে৷ প্রথমত, পুকুরের রক্ষণাবেক্ষণ ঠিকঠাক হয় না৷ অনেক ক্ষেত্রেই তা অপরিষ্কার অবস্থায় পড়ে থাকে৷ দ্বিতীয়ত, মানুষ ততটা সচেতন নয়৷ এলাকার পুকুর ভরাট হলে যে গণপ্রতিরোধ গড়ে ওঠার কথা, সেটা তেমন দেখা যায় না৷ অতিকায় বিক্রমগড় ঝিল বছরের পর বছর ধরে ক্রমশ আকারে ছোট হয়ে আসছে, সেখানে ভবন নির্মাণ হচ্ছে৷ প্রশাসন উদ্যোগ নিলে পুকুর বাঁচানো সম্ভব বলে মত মোহিত রায়ের৷ অতীতে কলকাতা পুরসভা ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারির কথা বলেছিল৷ একটি কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারির কথাও ছিল৷ এমনকি পুরসভার পরিবেশ বিভাগের কর্মীরা সাইকেল করে পাড়ায় ঘুরে পুকুরের হাল দেখবেন, এমন পরিকল্পনার কথাও শোনা গিয়েছিল৷ কিন্তু প্রায় সবটাই রয়ে গিয়েছে খাতায়-কলমে৷

অডিও শুনুন 03:37

আলাদা সংস্থা দরকার যা শুধু জলাশয় দেখাশোনা করবে: মোহিত রায়

অথচ পুকুর ভরাট করলে পরিবেশের যে কী বিপুল ক্ষতি তা অজানা নয়৷ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধিকর্তা তড়িৎ রায়চৌধুরী ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘পুকুর শেষ মানে বাস্তুতন্ত্রেও ইতি৷ জলজ প্রাণী হারিয়ে যাচ্ছে৷ ক্ষতি হচ্ছে আমাদেরও৷ জলাশয়গুলির উপর স্থানীয় জলবায়ু নির্ভর করে৷ পুকুর বুজিয়ে দিলে সেই ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে৷’’ অধ্যাপক রায়চৌধুরীর বক্তব্য, ‘‘ভূগর্ভস্থ জল কমে আসছে৷ তার উপর ভূপৃষ্ঠের জলও উধাও হয়ে গেলে ভবিষ্যৎ খুব খারাপ৷ এখন বৃষ্টির জল সংরক্ষণের কথা বলা হচ্ছে, পাশাপাশি পুকুর বোজানোও হচ্ছে৷ তাতে লাভ কী?'' তার বক্তব্য, ‘‘আমাদের উৎসব, ধর্মীয় আচারের একটা বড় অংশ নদী বা জলাশয়-নির্ভর৷ এটাও মারাত্মক ক্ষতি করছে৷ কিন্তু আমরা সচেতন হচ্ছি না৷’’

কীভাবে হতে পারে জলাশয় সংকটের সমাধান? এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের উপর নির্ভর করা ছাড়া উপায় নেই৷ মোহিত রায়ের মন্তব্য, ‘‘পুকুর সংরক্ষণ করতে হবে৷ জলের মান ঠিক রাখতে হবে৷ তার চারপাশে সৌন্দর্যায়ন দরকার৷ তা হলে এলাকার মানুষও পুকুরের প্রতি মমত্ববোধ করবে৷ একেবারে আলাদা একটা সংস্থা দরকার যা শুধু জলাশয়ের দেখাশোনা করবে৷’’ কলকাতায় ১০০টির মতো এমন পুকুর আছে যার সঙ্গে জড়িয়ে শহরের ইতিহাস৷ যারা সেখানে নানা বর্জ্য ফেলছেন, তারা জানেন না সেই অতীতের কথা৷ পরিবেশের পাশাপাশি ইতিহাস সম্পর্কে তাদের সচেতন করতেও পুরসভাকে উদ্যোগ নিতে হবে, এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়