ধর্ষণের অভিযোগ গায়েব করেছিল পুলিশ!
ময়নাতদন্তে ‘গরমিল'
ফতোয়াবাজদের নির্যাতনের শিকার হেনার মরদেহের পৃথক ময়নাতদন্তে আলাদা ফল পাওয়া গেছে৷ বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট ময়নাতদন্তে ‘গরমিল' বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন৷ এই বিষয়ে দৈনিক সমকালের শিরোনাম, ‘দুই ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে গরমিল তদন্তের নির্দেশ'৷ হেনার প্রথম ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক নির্মল চন্দ্র দাসসহ অন্য তিন চিকিৎসকের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখবে৷
হেনা আক্তার মারা যান গত ৩১ জানুয়ারি৷ প্রথম ময়নাতদন্তের হেনার শরীরে তেমন কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়৷ অথচ দ্বিতীয় ময়নাতদন্তে জানা যায়, এই মৃত্যু ‘হত্যাজনিত'৷ আদালতে প্রথম ময়নাতদন্তের বিষয়ে তেমন কোন ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম হননি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা৷ বরং এক্ষেত্রে তাদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিচারকরা৷ এসময় হাইকোর্ট বলেন, ‘‘আপনারা একটা মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছেন৷''
ধর্ষণ নাকি বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক?
হেনার বাবা দরবেশ খাঁ ঢাকার হাইকোর্টে উপস্থিত হন বৃহস্পতিবার৷ দৈনিক প্রথম আলো আদালতে দেওয়া হেনার বাবার বক্তব্য প্রকাশ করেছে ঠিক এভাবে, ‘‘আমি থানায় বলেছি আমার মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে৷'' তবে পুলিশ এই ধর্ষণের বিষয়টি এজাহারে উল্লেখ করেনি৷ দরবেশ খাঁ লেখাপড়া জানেন না৷ তাকে এজাহার পড়ে শোনায়নি পুলিশের উপপরিদর্শক৷ তবে তিনি সেই এজাহারে টিপসই দিয়েছিলেন৷ এই বক্তব্য শোনার পর আদালত সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন৷ এছাড়া আদালত থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের দরবেশ খাঁ বলেন, ‘‘মামলা দায়েরের সময় আমি ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ করলেও পুলিশ তা লেখেনি৷''
নতুন মামলা
দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, হেনার পরিবারকে সার্বিক নিরাপত্তা দিতে শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও নড়িয়া থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট৷ পাশাপাশি যারা ফতোয়া দিয়েছে এবং দোররা মেরেছে তাদের বিরুদ্ধে নতুন মামলা দায়ের করতে বলেছেন আদালত৷ দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে, হেনার মৃত্যু নিয়ে পাঁচটি নতুন অভিযোগে মামলা দায়ের করতে বলেছেন আদালত৷
গ্রন্থনা: আরাফাতুল ইসলাম
সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন