তালেবানদের ক্রিকেটপ্রেম | বিশ্ব | DW | 07.04.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

তালেবানদের ক্রিকেটপ্রেম

যুদ্ধের ফাঁকে ক্রিকেটে মগ্ন থাকে আফগানিস্তানের তালেবান যোদ্ধারা৷ কালাশনিকভ আর বন্দুক রেখে ক্রিকেট ম্যাচের আয়োজনও করে থাকে তারা৷

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

তালেবান কমান্ডাররা জানান, তাদের অধিকাংশ যোদ্ধাই ক্রিকেট পছন্দ করেন৷ যখন যুদ্ধ থাকে না তখন তালেবান নিয়ন্ত্রিত গ্রামগুলোতে ক্রিকেট খেলার উদ্যোগ নেন তারা৷

শীত মৌসুমের শুরুতে এমনই একটি ক্রিকেট ম্যাচের আয়োজন করা হয় তালেবান নিয়ন্ত্রিত নানগারহার এলাকার খোগিয়ানি জেলায়৷ পাকিস্তান সীমান্তের ওই স্থানে খেলার সময় প্রচুর দর্শকের সমাগম হয়৷

ওই এলাকার তালেবান কমান্ডার মোল্লা বদরুদ্দিন রয়টার্সকে বলেন, ‘‘আমি ক্রিকেট ভালোবাসি৷ যখন আফগানিস্তান অন্য কোনো দলের সঙ্গে খেলে তখন আমরা অনেক আগ্রহ নিয়ে রেডিও ধারাভাষ্য শুনি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্কোর এবং লাইভ দেখি৷''

১৯ শতকে ব্রিটিশ শাসনের সময় আফগানিস্তানে প্রথম ক্রিকেট খেলা শুরু হয়৷ ১৯৮০ ও ৯০ এর দশকে যুদ্ধের সময় দেশত্যাগের পর বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ক্রিকেটের বিস্তৃতি ঘটে৷

আশির দশকে পাকিস্তানের পেশাওয়ারে কাচা গারি সীমান্তে আফগানদের নিয়ে ক্রিকেট ক্লাব গড়ার কাজ করেছিলেন তাজ মালুক খান৷ পরের দশকে তালেবান শাসনের সময় আফগানিস্তানে গিয়ে ক্রিকেটের উন্নয়নে করেন কিছু খেলোয়াড়৷

আফগান জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার হাসতি গুল জানান, নিজেদের শাসনামলের শুরুতে ক্রিকেট ও ফুটবলের মতো খেলা নিষিদ্ধ করেছিল তালেবানরা৷ কারণ তারা মনে করত, এসব খেলা প্রার্থনায়/ইবাদতে বিঘ্ন ঘটায়৷ তবে শেষ পর্যন্ত ক্রিকেট খেলাকে মেনে নেয় তারা৷

২০০১ সালে তালেবানদের ক্ষমতা থেকে অপসারণের পর থেকে খেলাধুলার উপর বাধ্যবাধকতা উঠে যায়৷ তবে ফুটবল খেলার ছোট পোশাক নিয়ে অনেক আফগানের আপত্তি থাকায় জনপ্রিয় হচ্ছে ক্রিকেট৷

সে অবস্থা থেকে অনেক দূর এগিয়েছে আফগান ক্রিকেট৷ গত কয়েক বছর দু'টি ক্রিকেট ম্যাচে ইসলামিক স্টেটের বড় হামলার পরও ক্রিকেট আর ফুটবল সেখানে বেশ জনপ্রিয়৷

ক্রিকেটের প্রতি এমন ভালোবাসা আফগানদের মধ্যে ভাষা ও সংস্কৃতিগত বিভক্তি দূর করার পেছনে কাজে লাগানো যেতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে৷

তালেবানদেরও প্রিয় রশিদ-নবি

২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের পূর্ণ সদস্য হওয়ার পর আফগানিস্তান প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক টেস্ট ম্যাচ জেতে গত মাসে, আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে৷ অন্যদিকে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির মতো আর্ন্তর্জাতিক ম্যাচে উত্তরোত্তর ভালো করছে যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশটি৷

টেস্টের তুলনায় ছোট ফরম্যাটের খেলাতেই বেশি আগ্রহ আফগানদের৷ সেদেশের স্পিন বোলার রশিদ খান আর মারকুটে ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ নবি ইসাখিল ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ, আইপিএল-এর মতো বড় আসরেরও তারকা খেলোয়াড়৷

চলতি বছরে পূর্ব আফগানিস্তানে তালেবান-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় গিয়ে সেখানকার খেলাধুলার পরিস্থিতি জেনেছেন জাতীয় দলের সাবেক ব্যাটসম্যান করিম সাদিক৷ সেখানে গিয়ে তালেবান যোদ্ধাদের কাছে খেলাধুলা ও প্রিয় খেলোয়াড় নিয়ে জানতে চান তিনি৷

সে সময় তাঁর ধারণ করা এক ভিডিওতে কয়েক ডজন তালেবান যোদ্ধাকে দেখা যায়, যাদের কাঁধে ঝুলছিল কালাশনিকভ৷

ওই ভিডিওতে একজন বলছিলেন, ‘‘আমি সব খেলোয়াড়কে পছন্দ করি৷ তবে আমার প্রিয় হচ্ছে রশিদ খান আরমান৷ তাঁর বোলিং অসাধারণ৷''

আফগানদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন

মে-জুলাইয়ে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে অনুষ্ঠিতব্য এবারের ক্রিকেট বিশ্বকাপ আফগানদের মধ্যে বড় রকমের আশা জাগাচ্ছে৷ ভারত, অস্ট্রেলিয়া আর ইংল্যান্ডের মতো বড় দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে ভালো করার স্বপ্ন দেখছে তারা৷

‘‘আমাদের অনেক শক্তিশালী দল রয়েছে এবং আমি স্বপ্ন দেখছি বিশ্বকাপ ঘরে আনবে আফগানিস্তান,'' বলছিলেন জালালাবাদ প্রদেশের তরুণ ক্রিকেটার হযরত গুল৷

যুদ্ধের পাশাপাশি ক্রিকেট নিয়ে তালেবানদের অনুভূতি অন্যদের মতো বলেই জানান সাবেক ক্রিকেটার সাদিক৷ তিনি বলেন, আফগানিস্তান কোনো ম্যাচে জয় পেলে তালেবানরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিনন্দন জানায়৷ এমনকি সাদিকের মুঠোফোনেও অভিনন্দন বার্তা পাঠায়৷

এমবি/জেডএইচ (রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন