ডোকলাম ঘিরে ফের ভারত-চীন বিতর্ক | বিশ্ব | DW | 23.11.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

ডোকলাম ঘিরে ফের ভারত-চীন বিতর্ক

লাদাখ সংঘাতের মধ্যেই ভুটানের ডোকলামে নতুন করে ভারত-চীন বিতর্ক শুরু হয়েছে। স্যাটেলাইট ইমেজে চীনের রাস্তার ছবি মিলেছে।

কিছু দিন আগে চীনের এক সংবাদমাধ্যমের কর্মকর্তা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিয়ে দাবি করেছিলেন, ভুটান লাগোয়া চীন সীমান্তে নতুন গ্রাম তৈরি করে ফেলেছে শি জিনপিংয়ের সরকার। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল ভারত। দেখা গিয়েছিল, সীমান্তে নয়, ভুটানের ভিতর প্রায় দুই কিলোমিটার ঢুকে এসেছে চীন। সেখানেই তৈরি হয়েছে নতুন গ্রাম। এ বার উপগ্রহ চিত্রে দেখা যাচ্ছে, ডোকলাম অঞ্চলে একটি নয় কিলোমিটারের রাস্তাও তৈরি করে ফেলেছে চীন। যে রাস্তা ভারতের সিকিম সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত। চীনের এই কাজে ফের বিতর্ক শুরু হয়েছে ভারত এবং চীনের মধ্যে।

লাদাখসংঘাত এখনো সম্পূর্ণ কাটেনি। সর্বশেষ বৈঠকে দুই দেশের সেনা অফিসাররা সিদ্ধান্তে এসেছেন, এপ্রিলের আগে দুই দেশের যা অবস্থান ছিল, সেখানে ফিরে যাবে। কিন্তু ঠান্ডার মধ্যে সে কাজ হবে, না কি ঠান্ডা কমলে দুই দেশ ফিরতে শুরু করবে, তা নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা, মধ্যবর্তী সময়ে ফের লাদাখে উত্তাপ ছড়ানোর যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে। তারই মধ্যে ভারতের উত্তর পূর্ব কোণে নতুন করে চীনের সঙ্গে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অতীতে যে এলাকায় দুই দেশের সংঘাতও হয়েছে।

বছর কয়েক আগেই ডোকলামে ভারত এবং চীনের সংঘাত হয়েছিল। ডোকলাম ভারতীয় সেনার জন্য অত্যন্ত স্ট্র্যাটেজিক একটি জায়গা। ডোকলাম মালভূমি ভুটানের অংশ হলেও, তা ভারতের সিকিম লাগোয়া। এমনিতেই ভুটানের সুরক্ষায় ভারতীয় সেনা কাজ করে। ভুটানে ভারতীয় সেনার ঘাঁটি রয়েছে। ফলে ডোকলাম নিয়ে ভারতীয় সেনা সব সময়ই সজাগ থাকে। বছর কয়েক আগে সেই ডোকলামেই একটি রাস্তা তৈরির চেষ্টা করেছিল চীন। ভারতীয় সেনা চীনের রাস্তা নির্মাণ কর্মীদের সেই কাজে সরাসরি বাধা দেয়। এরপর প্রায় দুই মাস দুই দেশের সেনার মধ্যে স্ট্যান্ড অফ হয়। কেউ কাউকে জমি ছাড়তে চায়নি। শেষ পর্যন্ত উহানে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর পরিস্থিতি খানিকটা স্বাভাবিক হয়। ফের সেই ডোকলাম নিয়েই উত্তেজনা শুরু হয়েছে।

ভারত এর আগে দাবি করেছিল চীন ডোকলাম অঞ্চলে ভুটানের ভূখণ্ডের ভিতরে গ্রাম তৈরি করেছে। এ বিষয়ে দিল্লিতে অবস্থিত ভুটান দূতাবাসের অ্যাম্বাসডার অবশ্য বলেছিলেন, এমন কোনো ঘটনা তাঁর জানা নেই। যদিও  সীমান্ত নিয়ে তিনি কোনো কথা বলতে চাননি। ভুটানের সংবাদমাধ্যম অবশ্য জানিয়েছে, গত কিছু দিন ধরে চীনের সঙ্গে সীমান্ত নিয়ে আলোচনা চলছে ভুটান সরকারের। তারই মধ্যে চীনের গ্রাম তৈরির বিষয়টি সামনে আসে।

এই ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই স্যাটেলাইট ইমেজে ধরা পড়ল, তোর্সা নদীর ধার ধরে চীন একটি নতুন রাস্তা নির্মাণ করছে। এই রাস্তাটি পুরো তৈরি হয়ে গেলে সিকিম সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছে যাবে চীনের সেনা। শুধু তাই নয়, ওই রাস্তা যেখানে শেষ হচ্ছে, সেখান থেকে ভারতীয় সেনা ঘাঁটির উপর নজরদারি চালানো সম্ভব। এই পরিস্থিতিতে ডোকলাম সীমান্তে ফের ভারতের সেনার সঙ্গে চীনের সেনার সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ভারতীয় সেনার এক সূত্র ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, এর আগে চীন যেখান দিয়ে রাস্তা তৈরির চেষ্টা করেছিল, এ বারের রাস্তাটি তার চেয়ে আলাদা। খুব সন্তর্পণে এই রাস্তাটি তৈরি করা হচ্ছে।

অরুণাচল প্রদেশ সীমান্তেও চীন সেনা জড়ো করেছে বলে এর আগে ভারতীয় গোয়েন্দারা সরকারকে জানিয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা, লাদাখ থেকে চোখ ফেরাতেই উত্তর পূর্ব ভারতে নতুন করে কর্মকাণ্ড শুরু করেছে চীন। জল অনেক দূর গড়াতে পারে বলেই অনেকে আশঙ্কা করছেন। কারণ, ভারত এবং চীনের মধ্যে এখনো যথেষ্ট উত্তেজনা রয়েছে।

এসজি/জিএইচ (পিটিআই, এনডিটিভি)