ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলার প্রথম রায়ে ওসি মোয়াজ্জেমের আট বছরের কারাদণ্ড | বিশ্ব | DW | 28.11.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলার প্রথম রায়ে ওসি মোয়াজ্জেমের আট বছরের কারাদণ্ড

ফেনীর সোনাগাজী থানার সেই সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে আট বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ঢাকার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল৷ তাকে জিডিটাল আইনের দুটি ধারায় এই শাস্তি দেয়া হয়েছে৷ ১০ লাখ টাকার অর্থদণ্ডও দেয়া হয়েছে তাকে৷

যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার পর আগুনে পোড়ানোয় মারা যাওয়া মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দির ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার অপরাধে তাকে এই শাস্তি দেয়া হলো৷ জিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা কোনো মামলার এটিই প্রথম রায়৷

বৃহস্পতিবার বেলা তিনটার কিছু আগে সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন  রায় ঘোষণা করেন৷ এসময় সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন আদালতে ছিলেন৷ রায় ঘেষণার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়ে৷

সাইবার ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর নজরুল ইসলাম বলেন, ‘‘ডিজিটাল আইনের দুটি ধারায় তার শাস্তি হয়েছে৷ ২৬ ধারায় পাঁচ বছর এবং ২৯ ধারায় তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে৷ উভয় ধারায় তাকে  পাঁচ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডও দেয়া হয়েছে৷ ২৬ ধারায় তিনি বিনা অনুমতিতে নুসরাতের ভিডিও ধারণের অপরাধ করেছেন৷ আর ২৯ ধারায় তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে মানহানি করেছেন৷’’ তিনি জানান, ‘‘আদালতের আদেশ অনুযায়ী ওসি মোয়াজ্জেমকে দুই ধারার শাস্তি আলাদাভাবে ভোগ করতে হবে৷ তবে তিনি আপিলের সুযোগ পাবেন৷ এটি জিজিটাল আইনে প্রথম রায়৷’’

অডিও শুনুন 01:19

তিনি বিনা অনুমতিতে নুসরাতের ভিডিও ধারণের অপরাধ করেছেন: পাবলিক প্রসিকিউটর

ওসি মোয়াজ্জেমের আইনজীবী ফারুক আহমেদ বলেন, ‘‘নুসরাত হত্যাকাণ্ডের ঘটনার কারণে আদালত আবেগপ্রবণ হয়ে এই রায় দিয়েছেন৷ আমাদের বিবেচনায় ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণ হয়নি৷ আমরা রায়ের কপি পাওয়ার পর উচ্চ আদালতে আপিল করব৷ আশা করছি, আমরা সেখানে ন্যায় বিচার পাবো৷’’

এদিকে মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে তিনটি ধারায় অভিযোগ আনা হলেও একটি ধারার অভিযোগ প্রমাণ হয়নি৷ ৩১ ধারায় আইন-শৃঙ্খলার অবনতির অভিযোগ আনা হয়েছিল৷

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন নুসরাত জাহান রাফি৷ গত ৬ এপ্রিল পরীক্ষা দিতে গেলে ছাদে ডেকে নিয়ে তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়া হয়৷ ১০ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নুসরাত মারা যান৷ এই হত্যামামলার রায়ে এরই মধ্যে মাদ্রাসা অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ ১৬ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত৷

কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা তার অফিস কক্ষে নুসরাতকে যৌন হয়রানি করেন৷ ওই ঘটনায় অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সোনাগাজী থানায় মামলা করলে থানার তখনকার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন নুসরাতের জবানবন্দি মোবাইলে ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন৷ নুসরাতের মৃত্যুর পর সেই ভিডিও আরো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে৷

অডিও শুনুন 00:46

তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে পারায় আমি সন্তুষ্ট: ব্যারিস্টার সুমন

এই ঘটনায় ব্যারিস্টার ছায়েদুল ইসলাম সুমন ১৫ এপ্রিল মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন৷ পিবিআই তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পায়৷ আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে গত ১৬ জুন তাকে ঢাকার শাহবাগ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়৷ এর আগেই তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল৷ আদালত মোট ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তি তর্ক শেষে এই রায় দিলো৷

রায় ঘোষণার পর মামলার বাদী ব্যারিস্টার ছায়েদুল ইসলাম সুমন বলেন, ‘‘আমার সন্তুষ্টির বিষয়টি শাস্তি নিয়ে নয়, তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে পারায় আমি সন্তুষ্ট৷ অনেকের ধারণা এদের (পুলিশ) বিচারের মুখোমুখি করা যায় না৷ কিন্তু আমার কথা হলো, বাদী যদি সাহসী হন, শক্তভাবে অবস্থান নিতে পারেন তাহলে ন্যায় বিচার পাওয়া যায়৷’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘এই রায়ের মেসেজ হলো, বাংলাদেশে অনেক পুলিশ স্টেশন আছে, সবাই না, সেখানে অনেক পুলিশ অফিসার আছেন, যারা নিজেদের জমিদার মনে করেন৷ যারা নিজেদের জমিদার মনে করেন এবং যারা জমিদারের মতো আচরণ করেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সেই সব পুলিশ অফিসারের জন্য এই রায় একটি অশনি সংকেত৷’’

নুসরাতের পরিবারের সদস্যরাও এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন