জার্মানিতে ‘বর্ণবাদী’ হামলায় নিহতরা ‘বিদেশি বংশোদ্ভূত’ | জার্মানি ইউরোপ | DW | 20.02.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

জার্মানি

জার্মানিতে ‘বর্ণবাদী’ হামলায় নিহতরা ‘বিদেশি বংশোদ্ভূত’

জার্মানির হানাও শহরের শিশাবারে হামলার পেছনে উগ্র ডানপন্থি উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা৷ হামলায় নিহত নয়জনের অধিকাংশই বিদেশি বংশোদ্ভূত৷ জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন৷

জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল জানিয়েছেন, জার্মানির হানাও শহরের শিশাবারে বুধবার রাতের হামলার সঙ্গে সম্ভবত উগ্র ডানপন্থি চরমপন্থার সম্পর্ক রয়েছে৷ তিনি বলেন, ‘‘অন্য জাতিসত্ত্বা, ধর্ম এবং চেহারার প্রতি বিদ্বেষ থেকে হামলাকারী উগ্র ডানপন্থি চরমপন্থা, বর্ণবাদী উদ্দেশ্যে এই হামলা চালিয়েছে বলে এই মুহূর্তে নানা ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে৷’’ 

তিনি বলেছেন, ‘‘বর্ণবাদ একধরনের বিষ৷ ঘৃণা একধরনের বিষ৷ আর এই ঘৃণা আমাদের সমাজে এখনো আছে৷’’

হানাও হামলার পর বৃহস্পতিবার দেয়া বক্তব্যে চ্যান্সেলর ম্যার্কেল আরো বলেন, জার্মানি প্রতিটি মানুষের সম্মানজনক জীবনযাপনের অধিকার নিশ্চিতে বদ্ধপরিকর, তা তিনি যে বর্ণের বা জাতিরই হোন না কেন৷ সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে গতকালের হামলার শিকার এবং তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন টানা চতুর্থবার ক্ষমতায় থাকা জার্মানির এই চ্যান্সেলর৷

প্রসঙ্গত, স্থানীয় সময় বুধবার রাত দশটার দিকে হানাও শহরের একটি শিশাবার এবং পার্শ্ববর্তী ক্যাফেতে প্রবেশ করে গুলিবর্ষণ করে ৪৩ বছর বয়সি বন্ধুকধারী৷ সেখানে বেশ কয়েকজন হতাহত হন৷ এরপর হামলাকারী সেই ঘটনাস্থল থেকে আড়াই কিলোমিটার দূরে একটি গাড়ি এবং স্পোর্টস বারেও হামলা চালায়৷ সেখানেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে৷ পরবর্তীতে হামলাকারী এবং তার মা-কে মৃত অবস্থায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ৷

হামলাকারী অতীতে আরব এবং মুসলমান দেশগুলো সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করেছিল বলে জানা গেছে৷ বুধবারের হামলার দায় স্বীকার করা হয়েছে এমন একটি চিঠি এবং ভিডিও বার্তাও পরীক্ষা করছে পুলিশ৷   

এদিকে, বুধবারের ঘটনায় নিহতদের মধ্যে অন্তত পাঁচজন তুর্কি নাগরিক ছিলেন বলে দাবি করেছেন জার্মানিতে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত আলী কামাল আয়দিন৷ দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে লিখেছে, ‘‘এই হামলা এটাই প্রমাণ করে যে, ইউরোপে ‘বর্ণবাদ এবং ইসলামবিদ্বেষ’ বাড়ছে৷’’

হানাওয়ে হামলার ঘটনার পর জার্মানির চারটি সবচেয়ে বড় ইসলামিক অ্যাসোসিয়েশন উগ্র ডানপন্থিদের চরমপন্থা রুখতে আরো উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে৷ মুসলমানদের সমন্বিত কাউন্সিল কেআরএম জানিয়েছে, তারা গত কয়েকমাস ধরেই ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে একটি পরিষ্কার অবস্থান নিতে কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানিয়েছে আসছিলেন৷  

এদিকে, হানাও হামলার ভুক্তভোগীদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বাৎসরিক কার্নেভাল উৎসব বাতিল করেছে ডয়চে ভেলে৷ শুক্রবার ডয়চে ভেলের প্রধান কার্যালয়ে এই উৎসব আয়োজনের কথা ছিল৷ প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক পেটার লিমবুর্গ এক বিবৃতিতে লিখেছেন, ‘‘হানাওতে বর্ণবাদী সন্ত্রাসী হামলা এক অবিশ্বাস্য ঘটনা৷ ডয়চে ভেলেতে আমরা সবাই প্রতিদিন যে মূল্যবোধ ধরে রাখতে কাজ করি, সেই মূল্যবোধের উপর এই হামলা হয়েছে৷ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যময়তা জার্মানিকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে এবং আমাদের সমৃদ্ধ করেছে৷ এই কাপুরুষোচিত হামলা আমাদেরকে আমাদের নীতি থেকে সরাতে পারবে না৷’’ 

তিনি লিখেছেন, ‘‘যখন অন্যরা বিলাপ করছে, তখন আমরা উৎসব করতে পারি না৷ ভুক্তভোগীদের পরিবারের প্রতি আমরা সমবেদনা জানাচ্ছি৷ একটি আন্তর্জাতিক এবং অসাম্প্রদায়িক গণমাধ্যম হিসেবে আমরা এই বার্তাও দিতে চাই যে, জার্মান সমাজে এসব চলতে পারে না৷’’

উল্লেখ্য, জার্মানিতে গত কয়েকবছরে মসজিদসহ মুসলমানদের উপর হামলার বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে৷ দেশটি ২০১৫ সালে দশলাখের বেশি শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়ার পর এধরনের হামলা বেড়ে যায়৷

এআই/এসিবি (এপি, এএফপি, ডিপিএ)

 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন