জার্মানিতেও নকল ওষুধের বাজার রমরমা | আলাপ | DW | 27.03.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি

জার্মানিতেও নকল ওষুধের বাজার রমরমা

জার্মানিতে নকল ওষুধ আসে আকাশপথে, লাইপসিগ কি ফ্রাংকফুর্ট বিমানবন্দরে৷ সেখানে একবার কাস্টমস পার হতে পারলেই অনলাইন বিক্রির মাধ্যমে শুধু মুনাফা আর মুনাফা৷ এই জাল ওষুধ আসে প্রধানত এশিয়া থেকে৷

প্রথমেই বলে রাখা দরকার যে, জার্মানির হেল্থ কেয়ার বা জনস্বাস্থ্য প্রণালী সুবিশাল ও সুসংগঠিত৷ এ দেশে ওষুধের অনুমোদন থেকে শুরু করে ডাক্তারের প্রেস্ক্রিপশন, ডিস্পেনসারি থেকে ওষুধ বিক্রি ও স্বাস্থ্যবীমা থেকে তার দাম চোকানো পর্যন্ত গোটা প্রক্রিয়ায় কোনো বিশেষ চোখে পড়ার মতো ফাঁক বা ফোকর নেই৷

বড় বেশি ডাক্তারের কাছে যাওয়া, ডাক্তারদের বড় বেশি ওষুধ ‘প্রেস্ক্রাইব' করা, ওষুধ কোম্পানিগুলির জার্মানিতে ওষুধের জন্য অপেক্ষাকৃত বেশি দাম নেওয়া, এ সব সমস্যা আছে বটে, কিন্তু তা বলে ভেজাল বা জাল ওষুধ এ দেশে সরকার বা জনগণের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠতে এখনও অনেক বাকি৷ তাহলে জার্মানিতে জাল ওষুধের প্রসঙ্গ উঠছে কেন?

শুধু উঠছে নয়, প্রতিবছর আরো বড় আকার ধারণ করছে৷ মজার কথা, এই সব মেকি ‘পিল' সঠিক ফার্মেসিতে যে দামে পাওয়া যায়, তার চেয়ে অনেক চড়া দামে বিক্রি হয় অনলাইন শপে৷ শুধু এশিয়ায় বসা পিল উৎপাদনকারীরাই জানেন, ঐ সব বড়ি বা বটিকায় কী আছে, কী তাদের উপাদান৷ ওদিকে খরিদ্দাররা অজ্ঞাতই থাকতে চান৷ ২০১৫ সালে জার্মান কাস্টমস প্রায় ৪০ লাখ মেকি পিল বাজেয়াপ্ত করে, যা কিনা ২০১৪ সালের তুলনায় প্রায় চারগুণ বেশি৷

বিশেষজ্ঞরা বলেন, ১,০০০ ইউরো মূল্যের এক কিলোগ্রাম কাঁচা কোকেইন থেকে যদি কালোবাজারে ৪৫,০০০ ইউরো মুনাফা করা যায়, তাহলে এক কিলোগ্রাম ‘সিলডেনাফিল' থেকে মুনাফা হয় ৯০,০০০ ইউরো – কেননা সিলডেনাফিল হলো ভায়াগ্রার সক্রিয় উপাদান৷

ভায়াগ্রার মতোই কালোবাজারে ভালো বিক্রি হয় পেশি বানানোর জন্য অ্যানাবোলিক স্টেরয়েড, মাথায় চুল গজানোর ওষুধ বা ওজন কমানোর নানা ওষুধ৷ জাল ওষুধের সিংহভাগ নাকি আসে চীন, ভারত ও বাংলাদেশ থেকে, ‘ভেল্ট.ডিই' ওয়েবসাইটের একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে৷

ফ্রাংকফুর্ট অথবা লাইপসিগ বিমানবন্দরে জাল ওষুধের দশটা পার্সেল এসে পৌঁছালে, তার মধ্যে পাঁচটা ধরা পড়ে – কিন্তু যেগুলো ধরা পড়ে না, সেগুলি থেকে এতই মুনাফা হয় যে, দুই মহাদেশের অপরাধীদের ধরপড়তা পুষিয়ে যায়৷

এছাড়া জাল ওষুধে থাকেই বা কী? ব্যথা কমানোর ওষুধে থাকে হয়ত কাঠকয়লা, খিদে কমানোর ওষুধে আর্সেনিক থাকলেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই, আর পুরুষত্ব বাড়ানোর টনিকে থাকে হয়ত শুধু পানি৷

কাজেই জার্মানিতে জাল ওষুধের ব্যবসাটা মাদক পাচারের মতোই সাধারণ অপরাধবৃত্তির একটা অঙ্গ বলে গণ্য করা চলে ও গণ্য করা হয়ে থাকে৷ সেক্ষেত্রে আফ্রিকা মহাদেশে প্রতিবছর সাত লাখ মানুষ প্রাণ হারান ম্যালেরিয়া বা যক্ষার জাল ওষুধ খেয়ে৷

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

এসি/ডিজি

নির্বাচিত প্রতিবেদন