জাপানে পৌঁছে ‘ভালো ছেলে′ হয়ে উঠলেন ট্রাম্প | বিশ্ব | DW | 28.06.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

জাপানে পৌঁছে ‘ভালো ছেলে' হয়ে উঠলেন ট্রাম্প

ওসাকায় জি-টোয়েন্টি শীর্ষ সম্মেলনের শুরুতে শীর্ষ নেতারা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট কাটিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি স্থিতিশীল করার উপর জোর দিচ্ছেন৷ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সুর নরম করলেও নিজস্ব অবস্থানে অটল রয়েছেন৷

জি-টোয়েন্টি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার ঠিক আগে ট্রাম্প একাধিক সদস্য দেশ ও নেতাদের কড়া সমালোচনা করেছিলেন৷ ওসাকা শহরে পৌঁছে অবশ্য তিনি কূটনৈতিক শিষ্টাচার মেনে চলছেন৷ মূল সম্মেলন ও বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ট্রাম্প উপস্থিত নেতাদের ঢালাও প্রশংসা করছেন৷ সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য হওয়া সত্ত্বেও জার্মানি যথেষ্ট অর্থ দিচ্ছে না বলে তিনি সোচ্চার হয়ে উঠেছিলেন৷

ওসাকায় জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেন, ‘‘তিনি অসাধারণ এক মানুষ, অসাধারণ নারী৷ তাঁকে বন্ধু হিসেবে পেয়ে আমি খুশি৷''

আয়োজক দেশ জাপানের সঙ্গে অ্যামেরিকার সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন ট্রাম্প৷ তাঁর মতে, জাপান আক্রান্ত হলে অ্যামেরিকা তার সুরক্ষায় এগিয়ে আসবে৷ কিন্তু অ্যামেরিকা আক্রান্ত হলে জাপানিরা তাদের সোনি টেলিভিশনে সেই দৃশ্য দেখা ছাড়া আর কিছুই করবে না৷ ওসাকায় পৌঁছে তিনি আর এমন কোনো মন্তব্য করেননি৷ শুধু রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিনের সঙ্গে তাঁর অবিচ্ছেদ্য সখ্য চোখে পড়ছে৷ সম্মেলন কক্ষে প্রবেশের সময় পুটিন হাসিমুখে ট্রাম্পের পিঠ চাপড়ে দেন৷

আপাতত সবার নজর শনিবার ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শিন জিনপিংয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের দিকে৷ দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধে ইতি টানতে তাঁরা কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেন কিনা, সেদিকে সবার নজর থাকবে৷ এখনই চূড়ান্ত সমাধানসূত্রের আশা না করলেও দুই শীর্ষ নেতা কমপক্ষে তার প্রস্তুতির কাজ শুরু করতে পারেন৷ তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সংবাদপত্রের সূত্র অনুযায়ী ওয়াশিংটন চীনের হুয়াওয়েই কোম্পানির উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করলে বেইজিং কোনো চুক্তি করতে রাজি নয়৷

অ্যামেরিকা ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতির উপর কালো ছায়া ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা৷ জি-টোয়েন্টি দেশের বাকি নেতারাও এ ক্ষেত্রে অগ্রগতির উপর জোর দিচ্ছেন৷ তবে অবিলম্বে কোনো সাফল্যের আশা তাঁরা দেখছেন না৷ বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নৈশভোজের পর অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেন, দুই পক্ষ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের নিষ্পত্তির চেষ্টা চালাচ্ছে৷ তাই সমঝোতার প্রচেষ্টা বেশ কঠিন হবে বলে তিনি মনে করেন৷ ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জঁ ক্লোদ ইয়ুংকারও এই সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছেন৷

জাপানের প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, বিশ্বের দুই প্রধান অর্থনৈতিক শক্তির মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধ ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকট বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির গতি স্তব্ধ করে দিতে পারে৷ তাই তিনি উপস্থিত নেতাদের উদ্দেশ্যে এই প্রবণতা মোকাবিলা করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবার ডাক দেন৷ জাপান বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কারের গতি বাড়ানোর উপরও জোর দিচ্ছে৷ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুটিনও ডাব্লিউটিও-র গুরুত্ব তুলে ধরেন৷

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘অ্যামেরিকা ফার্স্ট' নীতি ও তার আওতায় অ্যামেরিকার জন্য সুবিধা আদায় করতে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির প্রচেষ্টার সঙ্গে আন্তর্জাতিক স্তরে মুক্ত বাণিজ্য কাঠামোর ধারণার সংঘাত কাটার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না৷ বাকি বিশ্বের সম্মিলিত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসনের মনোভাব ঐকমত্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে৷

এসবি/এসিবি (এএফপি, ডিপিএ, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন