চৈতির একটি পা কমেছে, এখন দৌড়াতে পারবে | বিশ্ব | DW | 28.04.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

চৈতির একটি পা কমেছে, এখন দৌড়াতে পারবে

তিন পা নিয়ে জন্মেছিল চৈতি৷ জীবনের প্রথম তিন বছর কাটিয়েছে নিদারুন এক অস্বস্তি নিয়ে৷ বাবা-মায়ের চিন্তারও অন্ত ছিল না৷ তবে আশার কথা, চৈতির একটি পা বাদ দিতে সক্ষম হয়েছেন অস্ট্রেলিয়রা চিকিৎসকরা৷

Deutschland Kinderarmut Symbolbild (picture alliance/dpa/C. Hager)

প্রতীকী ছবি

গত বছর চৈতিকে ঢাকা থেকে মেলবোর্ন নেয়া হয়৷ তখন তার অবস্থা দেখে খুব একটা আশাবাদী ছিলেন না সেখানকার চিকিৎসকরা৷ বিরল এক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি৷ তাঁর পা ছিল তিনটি, যা বাইরে থেকেই দেখা যাচ্ছিল৷ আর শরীরের অভ্যন্তরে কিছু অঙ্গ ছিল, দু'টি করে যা আসলে থাকার কথা একটি৷ তা সত্ত্বেও অবশ্য আশা ছাড়েনি দাতব্য সংস্থা চিলড্রেন ফার্স্ট ফাউন্ডেশন৷

মেলবোর্নের মনাশ শিশু হাসপাতালের শল্যচিকিৎসকরাও ব্যাপারটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলেন৷ এজন্য তারা দীর্ঘসময় গবেষণা করেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন৷ শিশু হাসপাতালটির সার্জারি হেড ক্রিস কিম্বার এই বিষয়ে জানান যে, গর্ভে থাকাকালীন চৈতি আসলে জমজ হিসেবে কিছুটা বেড়েছিল৷ কিন্তু সেটা পূর্ণতা পায়নি৷ ফলে চৈতির দেহে একটি বাড়তি পা যুক্ত হয়৷ এছাড়া তার পায়ুপথ, জননেন্দ্রীয়ও একাধিক ছিল৷

আশার কথা হচ্ছে, শল্যচিকিৎসকরা এক বিরল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চৈতির দেহ থেকে একটি পা আলাদা করতে সক্ষম হয়েছেন৷ গত নভেম্বরে সেই অস্ত্রোপচার করা হয়৷ পাশাপাশি তার দেহের অন্যান্য জটিলতাও নিরসন করা হয়েছে৷ দীর্ঘ সময় অস্ত্রোপচারের সময় উপস্থিত ছিলেন আটজন চিকিৎসক৷

চৈতি অবশ্য কিছুটা দৃষ্টি প্রতিবন্ধীও৷ চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে দেখেছেন যে সেটার উন্নয়ন সম্ভব নয়৷ তবে হাঁটা বা দৌড়ানোর মতো দৃষ্টিশক্তি তার রয়েছে৷ কিম্বার জানিয়েছেন, চৈতি আগে মলমূত্রের বেগ ধারণে অক্ষম ছিল৷ চিকিৎসার মাধ্যমে সেটার সমাধান করা গেছে, যা এক অভাবনীয় ব্যাপার৷

চৈতির সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় তার মা-ও ছিলেন৷ তিনি সে দেশের ব্রডকাস্টার চ্যানেল নাইনকে বলেন, ‘‘এখন সবকিছু ভালো আছে৷ সে অন্য সব বাচ্চার মতোই খেলতে পারে৷''

উল্লেখ্য, এর আগে জোড়া লেগে থাকা বাংলাদেশি দুই জমজ বোনকে আলাদা করতে সক্ষম হয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার চিকিৎসকরা৷ এছাড়া গুলিতে আহত এক বাংলাদেশি শিশুর সফল চিকিৎসার খবরও আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল৷

এআই/এসিবি (এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন