চাকরির বাজারে কোথায় দাঁড়িয়ে নারী | আলাপ | DW | 03.01.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ব্লগ

চাকরির বাজারে কোথায় দাঁড়িয়ে নারী

মেয়েদের কাজ সংসার সামলানো; আমাদের সমাজে প্রচলিত এ ধারণা বেশ আগেই বদলে গেছে৷ এখন কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে৷ ঝুঁকিপূর্ণ অনেক পেশাতেও নারীরা এগিয়ে আসছে৷ কিন্তু ঠিক কতটা এগিয়ে যেতে পারছে?

বাংলাদেশে শিক্ষার মান নিম্নমুখী,  শ্রমবাজারের সঙ্গে তার তেমন কোনো সম্পর্ক নেই৷ তাইতো গণিতে তুখোড় ছেলটি আজ পত্রিকার মফস্বল বিভাগের সহসম্পাদক৷ কিংবা ভূগোল থেকে স্নাতকোত্তরে প্রথম শ্রেণী পেয়ে তাক লাগিয়ে দেওয়া মেয়েটি স্বপ্নের জলাঞ্জলি দিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক৷  সংসার, সন্তান, স্বামী-শ্বশুরবাড়ির সব আবদার সামলে চাকরি করে যাচ্ছে ‘সৌভাগ্যবতী' এই মেয়েটি৷

সৌভাগ্যবতী বলছি, কারণ মেয়েটি তার কর্মজীবন টেনে নিয়ে যেতে পারছে, কজন সেটাই বা পারে৷ আজকাল সন্তানের লেখাপড়ায় ছেলে/মেয়ে ভেদাভেদ খুব একটা করা হয় না৷ সরকারের নানা উদ্যোগে বাংলাদেশে মেয়েদের লেখাপড়ার সুযোগও বেড়েছে৷ মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের ভালো ফলাফলের চিত্র এখন নিয়মিত৷ কিন্তু কর্মক্ষত্রে মেয়েদের অংশগ্রহণ সেভাবে কি বেড়েছে?

উচ্চমাধ্যমিকের পর দীর্ঘ সংগ্রাম করে একটি মেয়ে উচ্চশিক্ষিত হয়৷ পথে সামাজিক নিরাপত্তার অভাব, বাবা-মায়ের উদ্বেগ, প্রচলিত সামাজিক সংস্কারের অনেকগুলো হার্ডলে আটক কমতে থাকে সংখ্যা৷ এত কিছু পেরিয়ে যারা চাকরির বাজারে প্রবেশ করেন তাদের জন্য শুরু হয় নতুন সংগ্রাম৷ এত কষ্ট করে অর্জন করা শিক্ষা কর্মক্ষেত্রে খুব একটা সুবিধা দিতে পারে না৷ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা ব্যবস্থা থিওরি নির্ভর৷ হাতেকলমে শিক্ষার তেমন সুযোগ না থাকায় চাকরির বাজারের সঙ্গে ওই শিক্ষা তাল মেলাতে অক্ষম৷ উচ্চশিক্ষিত নারীদের বিরাট একটি অংশ এ কারণে বাজার থেকে ঝরে পড়ে৷  

হাতেগোনা যে কয়েকজন নারী কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করেন তাদের উপরও কিন্তু চাপের অভাব নেই৷ প্রথমেই তাকে মূল্যায়ন করা হয় বাহ্যিক সৌন্দর্য দিয়ে৷ সমাজের তৈরি করা মাপকাঠির নিচে হলে কটাক্ষ আর পেরিয়ে গেলে লোলুপ দৃষ্টি৷ আজ আর সে প্রসঙ্গে না যাই৷

বরং নিজের একটি অভিজ্ঞতার কথা বলি৷ সালটা ২০১২, তখন আমি স্পোর্টস রিপোর্টার৷ নতুন একটি টেলিভিশন চ্যানেলে চাকরির পরীক্ষা দিয়ে টিকে গেলাম৷ কিন্তু জয়েন করার ঠিক দুই/তিন দিন আগে বাসায় পরীক্ষা করে জানতে পারলাম আমি অন্তঃসত্ত্বা৷ প্রথমবার মা হবার আনন্দ থেকে উদ্বেগ হলো বেশি৷ নতুন কর্মক্ষেত্রে বিষয়টা কিভাবে নেবে৷ বলবো নাকি বলবো না করতে করতে শেষে তাদের মানবসম্পদ বিভাগে ফোন দিলাম৷ তারা সরাসরি আমাকে বলে দিল আপনি জয়েন করেন না! মাতৃত্বকালীন ছুটি পাওয়া নিয়ে ঝামেলা হবে৷ আমি জানি, এ অভিজ্ঞতা আমার একার নয়৷ কর্মজীবী নারীদের কমবেশি সবাইকেই এ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে৷

সন্তান জন্মের পর নারী যখন আবার কাজে ফেরেন তখন শুরু হয় নতুন বিড়ম্বনা৷ ছয় মাসের ছোট্ট শিশুটিকে বাড়িতে রেখে কাজ করার কত যে যাতনা তা একজন মা কেবল বলতে পারবেন৷ এই মানসিক-শারীরিক যাতনার সঙ্গে যোগ হয় সহকর্মীদের টিপ্পনি৷ ‘কী মন এত উড়ু উড়ু কেন'  ‘বাসার চিন্তা বাদ দিয়ে কাজে মন দেন' ‘এত ছুটি না নিয়ে চাকরি ছাড়েন, বাচ্চাকে সময় দেন'৷ আমার চেনা জানা অনেক নারী শুধু সহকর্মীদের অসহযোগিতার কারণে চাকরি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন, কেউ কেউ তো রীতিমত বিষন্নতায় ভুগছেন৷ 

DW-Mitarbeiterin Shamima Nasrin

শামীমা নাসরিন, ডয়চে ভেলে

আমাদের অফিসগুলোতে বড় বড় একাধিক কনফারেন্স রুম থাকে৷ দারুণ সব আসবাব দিয়ে সাজানো রুমগুলো মাসে কতদিন কাজে লাগে তা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে৷ কিন্তু সামান্য খেলনা দিয়ে সাজানো ছোট্ট একটি কক্ষের জায়গা হয় না৷ চা-বিস্কুট আর সিগারেট এনে দিতে ১৫/২০ জন অফিস সহকারী থাকলেও ডে-কেয়ারে শিশুদের দেখার দুজন লোক রাখার টাকার যোগাড় হয় না৷ 

অসহযোগিতা থাকে পরিবারেও৷ সংসার-সন্তান যেন নারীর একার দায়িত্ব৷ ‘সংসার-সন্তান সামলে যদি চাকরি করতে পারো তবে করো' প্রায় শতভাগ কর্মজীবী  নারীকে প্রতিনিয়ত এ কথা শুনতে হয়৷ একসঙ্গে অফিস থেকে ফেরা স্বামীটি হাতমুখ ধুয়ে হাল্কা নাস্তার অপেক্ষায় রিমোট হাতে টেলিভিশনের সামনে বসে পড়েন৷ আর স্ত্রীকে হয়তো পোশাক পাল্টানোর আগেই ঢুকতে হয় রান্নাঘরে হাল্কা নাস্তা তৈরি করতে৷ এভাবে সংসার-চাকরি ভারসাম্য রাখতে গিয়ে হিমশিম খেতে থাকা নারী এক সময় যেকোনো একটিকে বেছে নিতে বাধ্য হন৷ এ অবস্থার কবে পাল্টাবে?

বাংলাদেশে নারী-পুরুষের অনুপাত ১০০:১০৬৷ কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ না বাড়লে কিভাবে দেশ এগিয়ে যাবে৷ এমন নয় যে যারা গৃহিনী  তারা কাজ করেন না৷ তাদের হাজারটা কাজ করতে হয়৷ আজকাল অনেক পুরুষকে তো আদিখ্যেতা করে বলতে শোনা যায়, আমার বউ সংসারে যে পরিশ্রম করে সেটার দাম দিতে গেলে বেতন পুরোটা দিয়ে দিতে হত৷ জ্বি জনাব, কথাটা ঠিক বলেছেন৷ কিন্তু শুধু মুখে বললেই কি হবে, নাকি টাকাটাও দিতে হবে৷ কজন সেটা দেন?  বরং স্ত্রীকে একান্ত প্রয়োজনের টাকাটাও হাত পেতে চেয়ে নিতে হয়৷ কাউকে কাউকে শুনতে হয় এত টাকা কি করো!!!!!!

এ অবস্থার পরিবর্তন হোক৷ সাবলম্বী হয়ে উঠুক দেশের প্রতিটি নারী৷

প্রিয় পাঠক, আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন