ঘাটে ঘাটে পরিবহণ চাঁদা | বিশ্ব | DW | 27.05.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

ঘাটে ঘাটে পরিবহণ চাঁদা

পরিবহণ খাতে নানা নৈরাজ্যের মধ্যে অবৈধ চাঁদা আদায় একটি বড় নৈরাজ্য হিসেবে চিহ্নিত৷ এতে হতাশাগ্রস্ত চালক, শ্রমিক ও মালিকরা৷ চাঁদার নৈরাজ্যকেও সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী করা হয়৷

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি ঢাকায় শ্রাবণ ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির একটি বাসের ওপর জরিপ করে দেখেছে, একটি বাসে প্রতিদিন প্রয়োজনীয় ব্যয় হয় ১০-১১ হাজার টাকা৷ অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হয় দেড় থেকে দুই হাজার টাকার মতো৷

এই দেড় হাজার টাকা অবৈধ চাঁদা হিসবে দিতে হয়৷ আর এই চাঁদা পুলিশ ছাড়াও মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের নামে নেয়া হয়৷ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা যে বাসটির ওপর জরিপ করি সেটি ঢাকার গুলিস্তান থেকে মদনপুর রুটে চলাচল করে এবং দিনে ১০টি ট্রিপ দিতে পারে৷ বাসটিকে প্রতিদিন ৫৭০ টাকা মদনপুরে চাঁদা দিতে হয়৷ গুলিস্তানে চাঁদা দিতে হয় ৪২০ টাকা৷ ২১০ টাকা রায়েরবাগে চাঁদা দিতে হয়৷ চিটাগং রোডে ৫০ টাকা, কাঁচপুর ব্রিজে ৬০ টাকা৷ আবার মদনপুর প্রতি ট্রিপে দুইবার করে ঘুরতে ট্রাফিক পুলিশকে প্রতি স্পটে ১০ টাকা করে দিতে হয় দুইশ' টাকা৷''

তিনি বলেন, ‘‘আমরা দেখেছি নগরীতে চলাচলকারী চার হাজার বাস থেকে প্রতিদিন ৬৪ লাখ টাকা অবৈধ চাঁদা আদায় করা হয়৷ আর এর চাপ পড়ে প্রধানত চালক ও যাত্রীদের ওপর৷ যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে এটা মেটানো হয়৷

অডিও শুনুন 02:57
এখন লাইভ
02:57 মিনিট

‘ঢাকায় গড়ে দিনে ৩৫ লাখ টাকা চাঁদা ওঠে’

অন্যদিকে চালক ট্রিপ হিসেবে প্রতিদিন ১৬-১৮ ঘন্টা কাজ করে দিনে দেড় হাজার টাকার বেশি পান না৷ নানা কারণে চাঁদা বেড়ে গেলে তা চালককেই দিতে হয়৷ ফলে তাঁর ওপর মানসিক ও শারীরিক চাপ পড়ে৷ যেহেতু নির্ধারিত বেতন নেই, তাই তিনি আয় বাড়াতে ও চাঁদার দাবি মেটাতে বেশি ট্রিপ দেয়ার চেষ্টা করেন৷ ফলে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন এবং অন্য বাসের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হন৷ দুর্ঘটনা ঘটে৷''

তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘পরিবহণ খাতে নৈরাজ্যের বড় একটি কারণ হল এই অবৈধ চাঁদা৷ এটা বন্ধ না হলে এই নৈরাজ্য কোনোভাবেই কমবেনা৷''

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ শ্রমিক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফ খোকন এই চাঁদার আরো বিস্তারিত বর্ননা দেন৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ঢাকার গাবতলী , মহাখালী ও সায়েদাবাদ থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতিদিন দূরপাল্লার আট হাজার গাড়ি ছেড়ে যায়৷ টার্মিনাল থেকে গাড়ি ছাড়তে হলে গাড়ি প্রতি এক হাজার দুইশ' টাকা চাঁদা দিতে হয়৷ এই চাঁদা নেয়া হয় হয় মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নামে৷ ফুলবাড়িয়া, গুলিস্তান, মিরপুর, পোস্তগোলা এসব এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর ও পাশের জেলাগুলোতে প্রতিদিন চার হাজার বাস চলাচল করে৷ এসব বাস মিনিবাসকে প্রতিদন এক হাজার থেকে ১২শ' টাকা চাঁদা দিতে হয়৷ ঢাকা মহানগরীতে পাঁচ হাজার হিউম্যান হলার (লেগুনা) চলাচল করে৷ প্রতিটি লেগুনা থেকে সাতশ' টাকা চাঁদা আদায় করা হয়৷ তাতে গড়ে দিনে ৩৫ লাখ টাকা চাঁদা ওঠে৷ ঢাকার ভিতরে ছাড়া আশপাশে দুই হাজার সিনজি অটোরিকশা চলে৷ প্রতিটি অটোরিকশা থেকে ১৬০-৩০০ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়৷ চার হাজার প্রাইভেট অটোরিকশা পুলিশকে চাঁদা দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে চলাচল করে৷ ঢাকার আশপাশে পুলিশকে চাঁদা দিয়ে প্রায় ১৬ হাজার অটোরিকশা চলে৷''

অডিও শুনুন 06:58
এখন লাইভ
06:58 মিনিট

‘চাঁদা আদায়ের অনুমতিই বেআইনি’

তিনি বলেন, ‘‘টার্মিনাল থেকে যে চাঁদা নেয়া হয় তার একটি অংশ পুলিশকে দেয়া হয় কেন্দ্রীয়ভাবে৷ তবে পুলিশ সরাসরি চাঁদার সঙ্গে জড়িত হয় পণ্যবহনকারী ট্রাকের সঙ্গে৷ বাংলাদেশে দুই লাখ ট্রাক চলাচল করে৷ এসব ট্রাককে জেলায় জেলায় চাঁদা দিতে হয়৷ বাংলাদেশে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার পিছনে এটা একটি বড় কারণ৷''

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘শ্রম আইন অনুযায়ী সড়কে পরিবহণ চাঁদা আদায় বেআইনি৷ যখন সড়কে কেনো গাড়ি বা ট্রাক দাঁড় করিয়ে চাঁদা আদায় করে তখন আরেকটি গাড়ির ড্রাইভার তা থেকে বাঁচতে যে কোনোভাবে দ্রুতগতিতে ‘পালিয়ে' যাওয়ার চেষ্টা করে৷ আর তখনই দুর্ঘটনা ঘটে৷ শুধু তাই নয়, সারাদিন অনেক টাকা আয় করার পর তা যখন চাঁদা হিসেবে অন্যরা নিয়ে যায় তখন ড্রাইভার ও পরিবহন শ্রমিকরা হতাশ হয়ে পড়েন৷ তারা বেপরোয়া হন৷ মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন৷ ফলে দুর্ঘটনা বাড়ে৷ মালিকরা তাদের মাসিক বেতন দিকে চায় ছয় হাজার টাকা৷ তাই তারা বাধ্য হয়ে ট্রিপ ও দিন চুক্তিতে গাড়ি চালান, যার শিকার হন যাত্রীরা৷''

এই বেপরোয়া চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন শ্রমিক নেতা ও নৌ পরিবহণমন্ত্রী শাহজাহান খান৷ তিনি গত বছর তার প্রস্তাবে চাঁদার হার নির্ধারণ করে দেয়ার কথা বলেন৷ কিন্তু মোহাম্মদ হানিফ খোকন বলেন, ‘‘রাস্তা ঘাটে চাঁদা আদায়ই অবৈধ৷ আর যারা যে ইউনিয়নের সদস্য সেই ইউনিয়ন অফিসে গিয়ে মাসিক চাঁদা দেবেন৷ সেটাতো ব্যক্তির৷ আর তার পরিমাণ হবে সামান্য৷ রাস্তায় লাঠি নিয়ে দাড়িয়ে যে চাঁদা আদায় করা হয় তা শ্রমিক বা মালিকরা পায়না৷ কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর পকেটে যায়৷''

তিনি আরো অভিযোগ করেন, ‘‘গত বছর মালিক সমিতির নামে ৪০ টাকা এবং শ্রমিক ইউনিয়নের নামে ৩০ টাকা চাঁদা আদায়ের অনুমতি দেয় পুলিশ৷ এই অনুমতি ছিল বেআইনি৷ আর এই অনুমতির ফলে এখন অবৈধ চাঁদার নৈরাজ্য বৈধতা পেয়েছে৷ এক হাজার দুইশ' থেকে দেড় হাজার টাকা গাড়ি প্রতি আদায় করা হচ্ছে৷''

এ বিষয়ে আপনিও লিখতে পারেন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন